আজ
নারায়ণগঞ্জে চাঞ্চল্যকর সাত খুনের মামলার রায় ঘোষণা করবেন আদালত। এ রায়ের
মাধ্যমে অপেক্ষার শেষ হবে নিহতদের পরিবারসহ দেশবাসীর। সবার প্রত্যাশা
আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা দেবেন আদালত। সোমবার এ মামলার রায় ঘোষণা করবেন
নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক সৈয়দ এনায়েত হোসেন। র্যাবের
ঊর্ধ্বতন সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ৩৫ জনকে আসামি করে গত বছরের ফেব্রুয়ারি
মাসে বিচার শুরু হয়। এর আগে লোমহর্ষক সাত খুনের ঘটনায় নিহত দু’জনের
পরিবারের পক্ষ থেকে দুটি আলাদা মামলা হয়েছিল ২০১৪ সালে। দুই মামলার বিচার
চলে একসঙ্গে। বিচারক গত ৩০ নভেম্বর চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক শুনে সোমবার রায়
ঘোষণার দিন ধার্য করেন। নিহতদের স্বজনরা বলেছেন, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের
দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে এমন ঘটনা আরও ঘটতে পারে। তারা বলেন, খুনিরা
শুধু সাতজন মানুষকে হত্যা করেনি, একই সঙ্গে তারা সাতটি পরিবারের ৭০
সদস্যকেও হত্যা করেছে। সেজন্য খুনের শিকার নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের
প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট চন্দন কুমার সরকার, তাজুল ইসলাম,
মনিরুজ্জামান স্বপন, সিরাজুল ইসলাম,
জাহাঙ্গীর ও ইব্রাহিমের পরিবার খুনিদের
সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড প্রত্যাশা করেন। তিন বছর আগে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর
সাত খুনের মামলার রায় কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার
করা হয়েছে। বিশেষ করে জেলা জজকোর্টে বাড়তি নিরাপত্তা নেয়া হয়েছে। আদালতের
বাইরে পুলিশের টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে। রোববার থেকেই জেলা আদালত চত্বর ও
আশপাশের এলাকায় এবং শহরের বিভিন্ন প্রবেশমুখে যানবাহনে তল্লাশি শুরু করেছে
আইনশৃংখলা বাহিনী। মামলার আসামিদের কারাগার থেকে আদালতে আনা-নেয়ার পথকে
নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার মঈনুল হক।
তিনি যুগান্তরকে বলেন, ৭ খুনের অপহরণস্থল ও নিহতদের বাড়ি সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা
তথা লিংক রোডের পাশে। তাই এসব এলাকায় যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা রোধে
পুরো পথে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি আদালত চত্বরকেও
নিরাপদ রাখতে সাদা পোশাকের পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে এবং অন্যান্য আইনশৃংখলা
বাহিনীও আমাদের সহায়তা করবে। রায় উপলক্ষে ৭ খুনের শিকার পরিবারগুলোর সঙ্গে
শত শত সাধারণ মানুষ আজ আদালত চত্বর ও লিংক রোডে অবস্থান নিতে পারেন।
পাশাপাশি মামলার অন্যতম প্রধান আসামি সাবেক কাউন্সিলর নূর হোসেনের
সমর্থকরাও পাল্টা শোডাউনের প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানা গেছে। নিহত প্যানেল
মেয়র নজরুল ইসলামের সমর্থকদের রাস্তায় অবস্থান না নেয়ার জন্য নূর হোসেনের
লোকজন চাপ দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল
দুপুরে খুনের শিকার সাতজনকে অপহরণ করা হয়। ওই রাতেই তাদের হত্যা করে লাশের
সঙ্গে ইটের বস্তা বেঁধে নদীতে ফেলে দেয়া হয়। এর পরদিন ২৮ এপ্রিল নিখোঁজ
নাসিক কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি প্রথম মামলা
করেন। ৩০ এপ্রিল বিকালে শীতলক্ষ্যা নদী থেকে প্রথমে ৬ জনের লাশ উদ্ধার করা
হয়। পহেলা মে সকালে আরও একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। ৮ মে নিহত আইনজীবী চন্দন
সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল দ্বিতীয় মামলা করেন। এ ঘটনার সঙ্গে
সম্পৃক্ততার দায়ে ১৭ এবং ১৮ মে তিন র্যাব কর্মকর্তা লে. কর্নেল তারেক সাঈদ
মোহাম্মদ, মেজর আরিফ হোসেন এবং লে. কমান্ডার এমএম রানাকে গ্রেফতার করা হয়।
৫ জুন এমএম রানা, ৬ জুন আরিফ হোসেন এবং ১৮ জুন তারেক সাঈদ মোহাম্মদ চিফ
জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জবানবন্দি দেন। ২০১৫ সালের ৮ এপ্রিল পুলিশ
আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে চার্জ গঠনের মধ্য
দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরু হয়। এতে ৩৫ জনকে আসামি করা হয়। এদের মধ্যে
গ্রেফতার হয়েছে ২৩ জন। বাকি ১২ জন পলাতক। গ্রেফতারকৃত আসামিদের মধ্যে ২১ জন
ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
মামলায় সাক্ষী করা হয়েছে ১২৭ জনকে। ১০৬ জন আদালতে সাক্ষ্য দেন। এদের মধ্যে
২০ জন সাক্ষী ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। আজ মামলার রায় ঘোষণা হবে।
সেদিন যা ঘটেছিল : নাসিক কাউন্সিলর নজরুল ইসলামকে অপহরণের দিনক্ষণ আগে থেকেই ঠিক করা ছিল। ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল সিদ্ধিরগঞ্জ থানার একটি চাঁদাবাজির মামলায় স্থায়ী জামিন নিতে আদালতে আসেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন নিয়ে আদালত থেকে একটি সাদা প্রাইভেটকারযোগে নজরুল ইসলাম বের হওয়ার পরপরই মেজর আরিফের কাছে খবর পৌঁছে দেন আদালতের আশপাশে অবস্থান নেয়া সাদা পোশাকের র্যাব সদস্যরা। নজরুলের সঙ্গে একই গাড়িতে তার সহযোগী মনিরুজ্জামান স্বপন, সিরাজুল ইসলাম লিটন, তাজুল ইসলাম। গাড়ি চালাচ্ছিলেন স্বপনের ব্যক্তিগত গাড়িচালক জাহাঙ্গীর। নজরুলদের গাড়ির পেছনে ছিল নারায়ণগঞ্জ আদালতের সিনিয়র আইনজীবী চন্দন সরকারের গাড়ি। তিনি পেশাগত কাজ সেরে বাড়ি ফিরছিলেন। নজরুলদের বহনকারী গাড়িটি নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা লিংক রোড হয়ে উত্তর দিকে যাওয়ার পথে ফতুল্লা স্টেডিয়ামের কাছে (ময়লা ফেলার স্থান) পৌঁছার পর মেজর আরিফের নেতৃত্বে গাড়ির গতি রোধ করা হয়। নজরুলের গাড়ির পেছনে ছিল আইনজীবী চন্দন সরকারের গাড়ি। নজরুলসহ পাঁচজনকে যখন সাদা পোশাকের র্যাব সদস্যরা অপহরণ করছিলেন, তখন পেছনের গাড়িতে বসে মোবাইলে ভিডিও করছিলেন অ্যাডভোকেট চন্দন সরকার। ভিডিও করায় র্যাব সদস্যরা ক্ষেপে যান। তারা চন্দন সরকারকে ভিডিও করতে বারণ করলেও তিনি র্যাব সদস্যদের সঙ্গে যুক্তিতর্কে লিপ্ত হন। এ সময় মেজর আরিফ ফোন করে র্যাব-১১ সাবেক সিও তারেক সাঈদকে জানান, এক আইনজীবী বাড়াবাড়ি করছে। তখন তারেক সাঈদ বলেন, তাকেও তুলে নাও। নজরুল গাড়িতে উঠতে না চাইলে র্যাব সদস্যরা তার মাথায় পিস্তল দিয়ে আঘাত করেন। পরে দুটি গাড়ি থেকে অস্ত্রের মুখে সাতজনকে র্যাবের দুটি গাড়িতে তুলে নেয়। তাদের গাড়িতে উঠানোর পর একে একে প্রত্যেকের শরীরে ইনজেকশন পুশ করে অচেতন করা হয়। অচেতন সাতজনকে কয়েক ঘণ্টা তাদের গাড়িতেই রাখা হয়। নিয়ে যাওয়া হয় নরসিংদীতে। রাত সাড়ে ১০টার দিকে পরিকল্পনা মতে কাঁচপুর ব্রিজের পশ্চিম পাড়ে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরভূমিতে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা বালু-পাথর ব্যবসাস্থল জনমানুষশূন্য করার জন্য নূর হোসেনকে ফোন দেয় মেজর (অব.) আরিফ হোসেন। গ্রিন সিগন্যাল পাওয়ার পর র্যাবের গাড়ি ওই স্থানে পৌঁছায়। গাড়ির ভেতরই অচেতন প্রত্যেকের মাথা ও মুখ পলিথিন দিয়ে মোড়ানো হয়। পরে গলা চেপে ধরে হত্যা করা হয়। সাতজনের নিথর দেহ গাড়ি থেকে নামানো হয়। এরপর নারায়ণগঞ্জ শহরের ৫ নম্বর ঘাট থেকে র্যাবের নির্দিষ্ট নৌকা নিয়ে যাওয়া হয় কাঁচপুর ব্রিজের নিচে। লাশগুলো নৌকায় উঠিয়ে শীতলক্ষ্যা নদীর দিকে যাওয়ার পথে আদমজীর সোনা মিয়া বাজার থেকে লাশ গুমের উপকরণ রশি ও বস্তা নৌকায় তোলা হয়। ইট নেয়া হয় আদমজী ইপিজেডের অভ্যন্তরে একটি নির্মাণাধীন বিল্ডিংয়ের সামনে থেকে। নৌকার মধ্যেই একে একে প্রত্যেকটি লাশের সঙ্গে ইট বাঁধা হয়। একটি করে ফুটো করে দেয়া হয় নাভীর নিচে-গ্যাস বের হয়ে যাতে লাশ ভেসে না ওঠে। তারপর শীতলক্ষ্যা নদীর বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের শান্তিনগর এলাকায় লাশগুলো ফেলে দেয়া হয়। পুরো অপারেশনে র্যাবের তিন কর্মকর্তাসহ ২৫ জন অংশ নেন। এ ছাড়া কাঁচপুর এলাকায় পাহারায় ছিল নূর হোসেন ও তার ৯ সহযোগী। লাশ ফেলে নৌপুলিশ ফাঁড়িসংলগ্ন ঘাট দিয়ে উঠে শহরের ভেতর দিয়ে নিজ গন্তব্যে পৌঁছার পথে শহরের হাজীগঞ্জে পুলিশ চেকপোস্টে লে. কর্নেল তারেক সাঈদ পুলিশের মুখোমুখি হন। এ সময় তারেক সাঈদ দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তাকে বলেন, “আমরা আপনাদের মতো ‘ওদের’ উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছি।” তখন পুলিশ আর কিছু বলেনি।
৩০ এপ্রিল লাশ উদ্ধার : বিকেলে শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ছয়জন এবং ১ মে সকালে একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত সবারই হাত-পা বাঁধা ছিল। পেটে ছিল আঘাতের চিহ্ন। প্রতিটি লাশ ইটভর্তি দুটি করে বস্তা বেঁধে ডুবিয়ে দেয়া হয়। বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের শান্তিনগর এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীতে কয়েকটি লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। এরপর পুলিশ গিয়ে নদীর এক কিলোমিটারের মতো এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে একে একে ছয়টি লাশ তুলে আনে। পরে যার যার স্বজনরা লাশগুলো শনাক্ত করেন।
তিন র্যাব কর্মকর্তা গ্রেফতার : সাত খুনের ঘটনায় র্যাবের তিন কর্মকর্তা সাবেক সিও লে. কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, মেজর আরিফ ও লে. কমান্ডার এমএম রানাকে ২০১৪ সালের ৬ মে র্যাব থেকে স্ব স্ব বাহিনীতে ফিরিয়ে নেয়ার হয়। এর মধ্যে তিন কর্মকর্তা সাত খুনে জড়িত কিনা তা তদন্তে কেন তাদের গ্রেফতার করা হবে না এ মর্মে হাইকোর্টে একটি রিটকে কেন্দ্র করে ১১ মে র্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাকে গ্রেফতারে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হয়। ১৬ মে রাতে ঢাকা সেনানিবাস থেকে তারেক সাঈদ ও মেজর আরিফ ও ১৮ মে দিবাগত রাতে লে. কমান্ডার এমএম রানাকে সাত খুনের ঘটনায় ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করে নারায়ণগঞ্জ ডিবি। পরে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নেয় ডিবি। জেলা পুলিশ লাইনে আলাদা কক্ষে রেখে তাদের দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
১১ মাস পর চার্জশিট : সাত খুনের ঘটনার ১১ মাস পর ২০১৫ সালের ৮ এপ্রিল মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি মামুনুর রশিদ মণ্ডল নারায়ণগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। আদালতে দাখিল করা দুটি মামলায় ১৬ পৃষ্ঠা করে চার্জশিটে সাতজনকে অপহরণ ও পরে হত্যার ঘটনায় মোট ৩৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এ মামলা দুটিতে ১২৭ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। মামলায় ১৬২ ধরনের আলামত উদ্ধার দেখানো হয়েছে। মামলায় এখন পর্যন্ত ২৩ জন গ্রেফতার রয়েছে। চার্জশিটে অব্যাহতিপ্রাপ্ত এজাহারভুক্ত পাঁচ আসামি হলেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী ইয়াসিন মিয়া, ব্যবসায়ী হাসমত আলী হাসু, থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক রাজু, ইকবাল ও আনোয়ার। মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পরও চার্জশিট থেকে অব্যাহতি পাওয়া ১০ জন হলেন আওয়ামী লীগ নেতা নূর হোসেনের বডিগার্ড মহিবুল্লাহ, তানভীর, ইয়াসিন, আলমগীর, গাড়িচালক সোনা মিয়া, জুয়েল আহম্মেদ, মিজান, আবদুর রহিম, আরিফুজ্জামান ও রফিকুল ইসলাম। এ ছাড়া রাজীব নামের একজনকে পূর্ণাঙ্গ নাম ও পরিচয় না পাওয়ায় তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। মামলায় অভিযুক্ত ৩৫ জনের মধ্যে ২২ জন গ্রেফতার রয়েছেন। তারা হলের- চাকরিচ্যুত র্যাব-১১-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল তারেক মোহাম্মদ সাঈদ, উপ-অধিনায়ক মেজর আরিফ হোসেন, লে. কমান্ডার এমএম রানা, ল্যান্স নায়েক বিল্লাল হোসেন, সাবেক এসআই পুর্ণেন্দু বালা, হাবিলদার মো. ইমদাদুল হক, ল্যান্স নায়েক হীরা মিয়া, ল্যান্স করপোরাল রুহুল আমিন, সিপাহি আবু তৈয়ব, কনস্টেবল মো. সিহাব উদ্দিন, রেডিও অপারেটর গেইন, মো. আরিফ হোসেন, এএসআই বজলুর রহমান, এএসআই আবুল কালাম আজাদ, হাবিলদার ও গাড়িচালক নাসিরউদ্দিন, সিপাহি নুরুজ্জামান, বাবুল হাছান, সিপাহি সাবেক সেনাসদস্য আসাদুজ্জামান এবং নূর হোসেনের প্রধান বডিগার্ড মর্তুজা জামান চার্চিল, প্রধান ক্যাশিয়ার আলী মোহাম্মদ, ক্যাশিয়ার সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সহ-প্রচার সম্পাদক আবুল বাশার, জুয়া ও অশ্লীল নৃত্য পরিচালনাকারী রহম আলী ও মিজানুর রহমান। পলাতক দেখানো হয়েছে নূর হোসেনসহ ১৩ জনকে। পলাতক আসামিরা হল- আলোচিত সাত খুন মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেন, তার সহযোগী ভারতে গ্রেফতার সেলিম (পরে জামিনে মুক্ত), সানাউল্লাহ সানা, শাহজাহান ও জামাল উদ্দিন। এ ছাড়া র্যাবের আটজন হলেন- কর্পোরাল লতিফুর রহমান, সৈনিক আবদুল আলী, সৈনিক মহিউদ্দিন মুন্সী, সৈনিক আলামিন শরীফ, সৈনিক তাজুল ইসলাম, সার্জেন্ট এনামুল কবির, এএসআই কামাল হোসেন, কনস্টেবল হাবিবুর রহমান।
স্বজনদের বক্তব্য : সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, নিহত প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের স্ত্রী ও মামলার বাদী সেলিনা ইসলাম বিউটি বলেছেন, এ মামলায় সু®ু¤ বিচার হবে বলে প্রধানমন্ত্রী আমাদের ডেকে নিয়ে আশ্বস্ত করেছেন, সান্ত্বনা দিয়েছেন। এমন নির্মম হত্যাকাণ্ড যেন আর না ঘটে, সেজন্য দোষীদের সর্বোচ্চ সাজা চাই। আমরা চাই রায় দ্রুত বাস্তবায়ন হোক। নিজেরা আতংকিত অবস্থায় রয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের হুমকি দেয়া হয়েছে। আমাদের নিজেদের জীবনের নিরাপত্তা নেই। চিঠি দিয়ে হত্যার হুমকিও দেয়া হয়েছে। তবে নিরাপত্তার ব্যাপারে আশ্বস্ত করেছেন জেলা পুলিশ সুপার মঈনুল হক।
নিহত লিটনের বড় ভাই রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সাক্ষীরা যেটা সাক্ষী দিয়েছেন সেটার ওপর যেটা জজ সাহেব বুঝতে পারছেন সেটাই রায় দেবেন। আমার দৃষ্টিতে বেকসুর খালাস সবারে দিয়া দেক। ওরা আজীবন বাঁইচা থাকুক, আজীবন অনুশোচনায় ভুগক। মাইরা ফালাইলে তো শেষই হইয়া গেল গা। ভুগব কিভাবে? বেকসুর খালাস দিয়া দেক সব আসামিগো। অনুশোচনায় ভুগক সারা জীবন। আমরাতো ভুগতেই আছি স্বজনদের হারাইয়া। ওরা মাইরা ওরাও ভুগক। ফাঁসি দিয়া দিলেতো ভুগতে পারল না।’
নিহত তাজুল ইসলামের মা তাসলিমা খাতুন বলেন, তাজুল আমার বড় ছেলে। আমার ভেতরে সারাক্ষণই তাজুলের কথা মনে পড়ে। ছেলে হারানোর যন্ত্রণা কি সেটা শুধু মাই জানে। এদিকে তাজুল ইসলামের ছোট ভাই সাইফুল ইসলাম রাজু বলেন, দেশের মানুষ তাকিয়ে আছেন এ মামলার রায়ের দিকে।
নিহত জাহাঙ্গীরের ভাই শাহজাহান সাজু খুনিদের মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছেন। এদিকে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াতের প্রত্যাশা সাত খুনের মামলার সুষ্ঠু বিচার হবে। সাক্ষ্যপ্রমাণে আসামিদের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হয়েছে। তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হবে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নারায়ণগঞ্জ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওয়াজেদ আলী খোকন বলেন, আশা করছি আদালত আসামিদের মৃত্যুদণ্ড দেবেন।
সেদিন যা ঘটেছিল : নাসিক কাউন্সিলর নজরুল ইসলামকে অপহরণের দিনক্ষণ আগে থেকেই ঠিক করা ছিল। ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল সিদ্ধিরগঞ্জ থানার একটি চাঁদাবাজির মামলায় স্থায়ী জামিন নিতে আদালতে আসেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন নিয়ে আদালত থেকে একটি সাদা প্রাইভেটকারযোগে নজরুল ইসলাম বের হওয়ার পরপরই মেজর আরিফের কাছে খবর পৌঁছে দেন আদালতের আশপাশে অবস্থান নেয়া সাদা পোশাকের র্যাব সদস্যরা। নজরুলের সঙ্গে একই গাড়িতে তার সহযোগী মনিরুজ্জামান স্বপন, সিরাজুল ইসলাম লিটন, তাজুল ইসলাম। গাড়ি চালাচ্ছিলেন স্বপনের ব্যক্তিগত গাড়িচালক জাহাঙ্গীর। নজরুলদের গাড়ির পেছনে ছিল নারায়ণগঞ্জ আদালতের সিনিয়র আইনজীবী চন্দন সরকারের গাড়ি। তিনি পেশাগত কাজ সেরে বাড়ি ফিরছিলেন। নজরুলদের বহনকারী গাড়িটি নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা লিংক রোড হয়ে উত্তর দিকে যাওয়ার পথে ফতুল্লা স্টেডিয়ামের কাছে (ময়লা ফেলার স্থান) পৌঁছার পর মেজর আরিফের নেতৃত্বে গাড়ির গতি রোধ করা হয়। নজরুলের গাড়ির পেছনে ছিল আইনজীবী চন্দন সরকারের গাড়ি। নজরুলসহ পাঁচজনকে যখন সাদা পোশাকের র্যাব সদস্যরা অপহরণ করছিলেন, তখন পেছনের গাড়িতে বসে মোবাইলে ভিডিও করছিলেন অ্যাডভোকেট চন্দন সরকার। ভিডিও করায় র্যাব সদস্যরা ক্ষেপে যান। তারা চন্দন সরকারকে ভিডিও করতে বারণ করলেও তিনি র্যাব সদস্যদের সঙ্গে যুক্তিতর্কে লিপ্ত হন। এ সময় মেজর আরিফ ফোন করে র্যাব-১১ সাবেক সিও তারেক সাঈদকে জানান, এক আইনজীবী বাড়াবাড়ি করছে। তখন তারেক সাঈদ বলেন, তাকেও তুলে নাও। নজরুল গাড়িতে উঠতে না চাইলে র্যাব সদস্যরা তার মাথায় পিস্তল দিয়ে আঘাত করেন। পরে দুটি গাড়ি থেকে অস্ত্রের মুখে সাতজনকে র্যাবের দুটি গাড়িতে তুলে নেয়। তাদের গাড়িতে উঠানোর পর একে একে প্রত্যেকের শরীরে ইনজেকশন পুশ করে অচেতন করা হয়। অচেতন সাতজনকে কয়েক ঘণ্টা তাদের গাড়িতেই রাখা হয়। নিয়ে যাওয়া হয় নরসিংদীতে। রাত সাড়ে ১০টার দিকে পরিকল্পনা মতে কাঁচপুর ব্রিজের পশ্চিম পাড়ে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরভূমিতে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা বালু-পাথর ব্যবসাস্থল জনমানুষশূন্য করার জন্য নূর হোসেনকে ফোন দেয় মেজর (অব.) আরিফ হোসেন। গ্রিন সিগন্যাল পাওয়ার পর র্যাবের গাড়ি ওই স্থানে পৌঁছায়। গাড়ির ভেতরই অচেতন প্রত্যেকের মাথা ও মুখ পলিথিন দিয়ে মোড়ানো হয়। পরে গলা চেপে ধরে হত্যা করা হয়। সাতজনের নিথর দেহ গাড়ি থেকে নামানো হয়। এরপর নারায়ণগঞ্জ শহরের ৫ নম্বর ঘাট থেকে র্যাবের নির্দিষ্ট নৌকা নিয়ে যাওয়া হয় কাঁচপুর ব্রিজের নিচে। লাশগুলো নৌকায় উঠিয়ে শীতলক্ষ্যা নদীর দিকে যাওয়ার পথে আদমজীর সোনা মিয়া বাজার থেকে লাশ গুমের উপকরণ রশি ও বস্তা নৌকায় তোলা হয়। ইট নেয়া হয় আদমজী ইপিজেডের অভ্যন্তরে একটি নির্মাণাধীন বিল্ডিংয়ের সামনে থেকে। নৌকার মধ্যেই একে একে প্রত্যেকটি লাশের সঙ্গে ইট বাঁধা হয়। একটি করে ফুটো করে দেয়া হয় নাভীর নিচে-গ্যাস বের হয়ে যাতে লাশ ভেসে না ওঠে। তারপর শীতলক্ষ্যা নদীর বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের শান্তিনগর এলাকায় লাশগুলো ফেলে দেয়া হয়। পুরো অপারেশনে র্যাবের তিন কর্মকর্তাসহ ২৫ জন অংশ নেন। এ ছাড়া কাঁচপুর এলাকায় পাহারায় ছিল নূর হোসেন ও তার ৯ সহযোগী। লাশ ফেলে নৌপুলিশ ফাঁড়িসংলগ্ন ঘাট দিয়ে উঠে শহরের ভেতর দিয়ে নিজ গন্তব্যে পৌঁছার পথে শহরের হাজীগঞ্জে পুলিশ চেকপোস্টে লে. কর্নেল তারেক সাঈদ পুলিশের মুখোমুখি হন। এ সময় তারেক সাঈদ দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তাকে বলেন, “আমরা আপনাদের মতো ‘ওদের’ উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছি।” তখন পুলিশ আর কিছু বলেনি।
৩০ এপ্রিল লাশ উদ্ধার : বিকেলে শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ছয়জন এবং ১ মে সকালে একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত সবারই হাত-পা বাঁধা ছিল। পেটে ছিল আঘাতের চিহ্ন। প্রতিটি লাশ ইটভর্তি দুটি করে বস্তা বেঁধে ডুবিয়ে দেয়া হয়। বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের শান্তিনগর এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীতে কয়েকটি লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। এরপর পুলিশ গিয়ে নদীর এক কিলোমিটারের মতো এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে একে একে ছয়টি লাশ তুলে আনে। পরে যার যার স্বজনরা লাশগুলো শনাক্ত করেন।
তিন র্যাব কর্মকর্তা গ্রেফতার : সাত খুনের ঘটনায় র্যাবের তিন কর্মকর্তা সাবেক সিও লে. কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, মেজর আরিফ ও লে. কমান্ডার এমএম রানাকে ২০১৪ সালের ৬ মে র্যাব থেকে স্ব স্ব বাহিনীতে ফিরিয়ে নেয়ার হয়। এর মধ্যে তিন কর্মকর্তা সাত খুনে জড়িত কিনা তা তদন্তে কেন তাদের গ্রেফতার করা হবে না এ মর্মে হাইকোর্টে একটি রিটকে কেন্দ্র করে ১১ মে র্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাকে গ্রেফতারে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হয়। ১৬ মে রাতে ঢাকা সেনানিবাস থেকে তারেক সাঈদ ও মেজর আরিফ ও ১৮ মে দিবাগত রাতে লে. কমান্ডার এমএম রানাকে সাত খুনের ঘটনায় ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করে নারায়ণগঞ্জ ডিবি। পরে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নেয় ডিবি। জেলা পুলিশ লাইনে আলাদা কক্ষে রেখে তাদের দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
১১ মাস পর চার্জশিট : সাত খুনের ঘটনার ১১ মাস পর ২০১৫ সালের ৮ এপ্রিল মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি মামুনুর রশিদ মণ্ডল নারায়ণগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। আদালতে দাখিল করা দুটি মামলায় ১৬ পৃষ্ঠা করে চার্জশিটে সাতজনকে অপহরণ ও পরে হত্যার ঘটনায় মোট ৩৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এ মামলা দুটিতে ১২৭ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। মামলায় ১৬২ ধরনের আলামত উদ্ধার দেখানো হয়েছে। মামলায় এখন পর্যন্ত ২৩ জন গ্রেফতার রয়েছে। চার্জশিটে অব্যাহতিপ্রাপ্ত এজাহারভুক্ত পাঁচ আসামি হলেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী ইয়াসিন মিয়া, ব্যবসায়ী হাসমত আলী হাসু, থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক রাজু, ইকবাল ও আনোয়ার। মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পরও চার্জশিট থেকে অব্যাহতি পাওয়া ১০ জন হলেন আওয়ামী লীগ নেতা নূর হোসেনের বডিগার্ড মহিবুল্লাহ, তানভীর, ইয়াসিন, আলমগীর, গাড়িচালক সোনা মিয়া, জুয়েল আহম্মেদ, মিজান, আবদুর রহিম, আরিফুজ্জামান ও রফিকুল ইসলাম। এ ছাড়া রাজীব নামের একজনকে পূর্ণাঙ্গ নাম ও পরিচয় না পাওয়ায় তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। মামলায় অভিযুক্ত ৩৫ জনের মধ্যে ২২ জন গ্রেফতার রয়েছেন। তারা হলের- চাকরিচ্যুত র্যাব-১১-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল তারেক মোহাম্মদ সাঈদ, উপ-অধিনায়ক মেজর আরিফ হোসেন, লে. কমান্ডার এমএম রানা, ল্যান্স নায়েক বিল্লাল হোসেন, সাবেক এসআই পুর্ণেন্দু বালা, হাবিলদার মো. ইমদাদুল হক, ল্যান্স নায়েক হীরা মিয়া, ল্যান্স করপোরাল রুহুল আমিন, সিপাহি আবু তৈয়ব, কনস্টেবল মো. সিহাব উদ্দিন, রেডিও অপারেটর গেইন, মো. আরিফ হোসেন, এএসআই বজলুর রহমান, এএসআই আবুল কালাম আজাদ, হাবিলদার ও গাড়িচালক নাসিরউদ্দিন, সিপাহি নুরুজ্জামান, বাবুল হাছান, সিপাহি সাবেক সেনাসদস্য আসাদুজ্জামান এবং নূর হোসেনের প্রধান বডিগার্ড মর্তুজা জামান চার্চিল, প্রধান ক্যাশিয়ার আলী মোহাম্মদ, ক্যাশিয়ার সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সহ-প্রচার সম্পাদক আবুল বাশার, জুয়া ও অশ্লীল নৃত্য পরিচালনাকারী রহম আলী ও মিজানুর রহমান। পলাতক দেখানো হয়েছে নূর হোসেনসহ ১৩ জনকে। পলাতক আসামিরা হল- আলোচিত সাত খুন মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেন, তার সহযোগী ভারতে গ্রেফতার সেলিম (পরে জামিনে মুক্ত), সানাউল্লাহ সানা, শাহজাহান ও জামাল উদ্দিন। এ ছাড়া র্যাবের আটজন হলেন- কর্পোরাল লতিফুর রহমান, সৈনিক আবদুল আলী, সৈনিক মহিউদ্দিন মুন্সী, সৈনিক আলামিন শরীফ, সৈনিক তাজুল ইসলাম, সার্জেন্ট এনামুল কবির, এএসআই কামাল হোসেন, কনস্টেবল হাবিবুর রহমান।
স্বজনদের বক্তব্য : সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, নিহত প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের স্ত্রী ও মামলার বাদী সেলিনা ইসলাম বিউটি বলেছেন, এ মামলায় সু®ু¤ বিচার হবে বলে প্রধানমন্ত্রী আমাদের ডেকে নিয়ে আশ্বস্ত করেছেন, সান্ত্বনা দিয়েছেন। এমন নির্মম হত্যাকাণ্ড যেন আর না ঘটে, সেজন্য দোষীদের সর্বোচ্চ সাজা চাই। আমরা চাই রায় দ্রুত বাস্তবায়ন হোক। নিজেরা আতংকিত অবস্থায় রয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের হুমকি দেয়া হয়েছে। আমাদের নিজেদের জীবনের নিরাপত্তা নেই। চিঠি দিয়ে হত্যার হুমকিও দেয়া হয়েছে। তবে নিরাপত্তার ব্যাপারে আশ্বস্ত করেছেন জেলা পুলিশ সুপার মঈনুল হক।
নিহত লিটনের বড় ভাই রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সাক্ষীরা যেটা সাক্ষী দিয়েছেন সেটার ওপর যেটা জজ সাহেব বুঝতে পারছেন সেটাই রায় দেবেন। আমার দৃষ্টিতে বেকসুর খালাস সবারে দিয়া দেক। ওরা আজীবন বাঁইচা থাকুক, আজীবন অনুশোচনায় ভুগক। মাইরা ফালাইলে তো শেষই হইয়া গেল গা। ভুগব কিভাবে? বেকসুর খালাস দিয়া দেক সব আসামিগো। অনুশোচনায় ভুগক সারা জীবন। আমরাতো ভুগতেই আছি স্বজনদের হারাইয়া। ওরা মাইরা ওরাও ভুগক। ফাঁসি দিয়া দিলেতো ভুগতে পারল না।’
নিহত তাজুল ইসলামের মা তাসলিমা খাতুন বলেন, তাজুল আমার বড় ছেলে। আমার ভেতরে সারাক্ষণই তাজুলের কথা মনে পড়ে। ছেলে হারানোর যন্ত্রণা কি সেটা শুধু মাই জানে। এদিকে তাজুল ইসলামের ছোট ভাই সাইফুল ইসলাম রাজু বলেন, দেশের মানুষ তাকিয়ে আছেন এ মামলার রায়ের দিকে।
নিহত জাহাঙ্গীরের ভাই শাহজাহান সাজু খুনিদের মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছেন। এদিকে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াতের প্রত্যাশা সাত খুনের মামলার সুষ্ঠু বিচার হবে। সাক্ষ্যপ্রমাণে আসামিদের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হয়েছে। তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হবে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নারায়ণগঞ্জ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওয়াজেদ আলী খোকন বলেন, আশা করছি আদালত আসামিদের মৃত্যুদণ্ড দেবেন।

No comments:
Post a Comment