Sunday, January 1, 2017

বর্ষবরণে হামলার হুমকিতে ইউরোপ

নতুন বছর উদযাপন উপলক্ষে বিভিন্ন স্থানে গণজমায়েত স্থলগুলোতে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়ে থাকে। এ বছরও ইংরেজি বর্ষবরণে জঙ্গি হামলার আশংকায় ইউরোপের বিভিন্ন দেশের রাজধানী ও শহরগুলোতে এবং যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিদায়ী বছরের শেষ দিকে জার্মানির বার্লিন ও ফ্রান্সের নিস শহরে ট্রাক চালিয়ে হামলা, তুরস্কের ইস্তাম্বুলে বোমা হামলা, জার্মানি, ফ্রান্স, নেদ্যারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, ব্রিটেন ও ডেনমার্কে গোলাগুলির হামলার ঘটনাকে সামনে রেখে ইউরোপে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। এদিকে, ইসলামের নামে সন্ত্রাসবাদ জার্মানির জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল। খবর সিএনএন, বিবিসির। জার্মানির রাজধানী বার্লিনের ব্রানডেনবার্গ গেটের সামনে পারিজা প্লাতজ স্কয়ার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সেখানে অতিরিক্ত ১ হাজার ৭০০ পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সাঁজোয়া যানও প্রস্তুত রয়েছে। বার্লিন পুলিশের মুখপাত্র থমাস নয়েনডফ বলেন, ‘সম্ভাব্য হামলা প্রতিরোধে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।’ তিনি আরও জানান, কিছু পুলিশ কর্মকর্তা সাব-মেশিনগানও বহন করবেন, জার্মান পুলিশের জন্য যা অস্বাভাবিক।
গেল সপ্তাহে বার্লিনে ক্রিসমাস মার্কেটে ট্রাক চালিয়ে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) হামলায় ১২ জন নিহত হন। ইতালির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মিলানে ওই হামলাকারী তিউনিস নাগরিক আনিস আমরি পুলিশের গুলিতে নিহত হয়। সেখানের প্রধান চত্বরেও নিরাপত্তা তল্লাশি বসানো হয়েছে। রোম ও নেপলসে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে ট্রাক প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে মেশিনগান নিয়ে পুলিশ ও সেনা প্রহরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। গেল বছর পশ্চিম জার্মানির কোলনের একটি স্টেশনের বাইরে বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে শত শত নারী যৌনপীড়ন ও ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছিলেন। পুলিশ এই স্কয়ারটি পর্যবেক্ষণে নতুন নজরদারি ক্যামেরা বসিয়েছে। কোলনে ওই হামলা-পীড়নের ঘটনায় প্রধানত উত্তর আফ্রিকান ও আরবদের দায়ী করা হয়েছে। আর এরপরই দেশটিতে চ্যান্সেলর মার্কেলের প্রায় ৯ লাখ অভিবাসী-শরণার্থীকে আশ্রয় দেয়ার সিদ্ধান্তের বিষয়টি তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে। বিদায়ী বছরে ১০ লাখের বেশি শরণার্থী আশ্রয় দেয়ার পরিকল্পনা করেছিল জার্মানি। ফ্রাঙ্কফুর্টে ৬ শতাধিক পুলিশ কর্মকর্তাকে বর্ষবরণ উপলক্ষে নিরাপত্তার জন্য মোতায়েন করা হয়েছে। এ সংখ্যা ২০১৫ সালের তুলনায় দ্বিগুণ। অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় পুলিশ হাজারেরও বেশি পকেট অ্যালার্ম নারীদের সরবরাহ করেছে। জার্মানির কোলনে গেল বছর নারীদের ওপর যে যৌন নিপীড়নের ঘটনা ঘটেছে তার পুনরাবৃত্তি এড়াতে এ ব্যবস্থা নিয়েছে শহরটির নিরাপত্তা বাহিনী। এদিকে নববর্ষের বক্তৃতায় জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল বলেছেন, ‘ইসলামী সন্ত্রাসবাদ’ জার্মানির জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি। শুক্রবার দেশবাসীর উদ্দেশে নতুন বছর উপলক্ষে দেয়া বক্তৃতায় মার্কেল বলেন, ‘মানবিকতার সুযোগ নিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড মেনে নেয়া যায় না। ২০১৬ সাল ছিল কঠিন পরীক্ষার বছর। তবে জার্মানি এ পরীক্ষাগুলোতে উত্তীর্ণ হয়ে এসেছে।’ বক্তৃতায় বার্লিনে ট্রাক হামলায় নিহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান মার্কেল। এদিকে স্পেনের মাদ্রিদে অতিরিক্ত ১ হাজার ৬০০ পুলিশ মোতায়েনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। দ্বিতীয় বছরের মতো এ বছরও শহরটির পুয়ের্তা দেল সল স্কয়ারে গণজমায়েত বন্ধের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। ঐতিহ্যগতভাবেই এ স্কয়ারে ২৫ হাজারেরও বেশি মানুষ নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে জড়ো হয়ে থাকেন। ব্রাসেলসের মেয়র নববর্ষবরণের আতশবাজি পোড়ানোর বাতিল করার বিষয়টি বিবেচনায় নিলেও শেষপর্যন্ত অনুষ্ঠানটি পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে উচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার প্রস্তুতি নিয়েছে। বর্ষবরণকে কেন্দ্র করে প্যারিসের আইফেল টাওয়ার ও ল্যুভর মিউজিয়ামসহ দর্শনীয় স্থানগুলোতে ভারি অস্ত্রে সজ্জিত সেনারা টহল দিচ্ছেন। পুরো ফ্রান্সজুড়ে ৯০ হাজারেরও বেশি পুলিশ ও ৭ হাজার সেনা বর্ষবরণ অনুষ্ঠান নির্বিঘœ করতে দায়িত্ব পালন করবেন বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এছাড়া ওই এলাকাজুড়ে ২৪টি চেক পয়েন্ট বসানো হয়েছে।
বর্ষবরণে ভারতে হামলার সতর্কবার্তা ইসরাইলের : ভারতে ইংরেজি নববর্ষ উদযাপনের সময় পর্যটকদের ওপর হামলা হতে পারে জানিয়ে দেশটিতে পশ্চিমা নাগরিকদের ভ্রমণের বিষয়ে সতর্কবার্তা জারি করেছে ইসরাইল। শুক্রবার রাতে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দেশটির সন্ত্রাসবিরোধী দফতর এই সতর্কবার্তার কথা জানায়। এতে বলা হয়, ‘ভারতে পশ্চিমা লক্ষ্যবস্তু এবং পর্যটকদের ওপর আসন্ন হামলার আশংকা রয়েছে বলে আমরা ইসরাইলি পর্যটকদের সতর্ক করছি।’ ভারতের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে এই হামলার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ‘ইসলামী সন্ত্রাসবাদ’ জার্মানির জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি। ২০১৬ সাল ছিল কঠিন পরীক্ষার বছর
অ্যাঞ্জেলা মার্কেল
জার্মান চ্যান্সেলর

No comments:

Post a Comment