ভালো
স্কুলে ভর্তির কথা বলে পাচারের সময় বান্দরবান থেকে চার মারমা শিশুকে
উদ্ধার করেছে বান্দরবান সদর থানার পুলিশ। রোববার রাতে শহরের একটি আবাসিক
হোটেল থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত শিশুরা হলো- মংহ্লাই মারমা
(১০), মেসিং প্রু মারমা (১৩), নুচিং উ মারমা (১১) এবং হ্লাচিং শৈ মারমা
(১০)। এ ঘটনায় পুলিশ পাচারকারী দলের সদস্য মংশৈ প্রু ত্রিপুরাকে গ্রেফতার
করলেও অপর পাচারকারী পলিয়ে গেছে। থানা চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সম্পা
রানী সাহা জানান, অভিভাবকদের অভিযোগ পেয়ে পুলিশ একটি আবাসিক হোটেল থেকে ৪টি
মারমা শিশুকে উদ্ধার করে। এসময় পাচারকারী হিসেবে একজনকে গ্রেফতার করা হয়।
তাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসবাদ করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে তাদের আদালতে হাজির করার
কথা রয়েছে।
শিশুরা রোয়াংছড়ি উপজেলার তারাছা ইউনিয়নের বৈদ্যপাড়া ও হেডম্যান
পাড়ার মারমা পরিবারদের সন্তান। ভাল স্কুলে ভর্তি করানোর খরচ হিসেবে এদের
প্রত্যেকের জন্য ৫ হাজার টাকা করে দাবি করা হয়ছিল, তবে প্রাথমিকভাবে গত
রোববার এক হাজার টাকা করে আদায় করেন পাচারকারী চক্র বলে জানান পুলিশের ওই
কর্মকর্তা। পুলিশ সুপার সনজিত কুমার রায় বলেন, সম্প্রতি পুলিশ বিশেষ
অভিযান চালিয়ে বিজিবির সহায়তায় এক ভান্তের নেতৃত্বে মিয়ানমারে পাচার হওয়া
১১জন কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়। তারা সবাই রোয়াংছড়ি উপজেলার তারাছা ইউনিয়নের
বিভিন পাড়ার বাসিন্দা। সহজ-সরল মনের মারমা উপজাতীয় কৃষক পরিবারদের কাছ থেকে
এসব কিশোরীকে বৌদ্ধ বিহারে বিনা খরচে লেখাপড়া করানোর নামে ওই ভান্তেসহ
একটি চক্র মিয়ানমারসহ বিভিন্ন দেশে পাচার করে আসছিল। একইভাবে গত রোববার
রাতে উদ্ধারকৃত ৪ মারমা শিশু পাচারকারী চক্রের হাতে পড়ে। শিশুদের অভিভাবক
এবং পুলিশ সজাগ থাকায় এসব শিশু পাচারের শিকার থেকে রক্ষা পায়। এঘটনায় থানায়
এমটি মামলা হয়েছে। পুলিশ শিশু পাচারকারীদের গ্রেফতারে বিশেষ অভিযানও শুরু
করেছে।

No comments:
Post a Comment