Sunday, January 29, 2017

রুয়েট শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জন অব্যাহত

পরবর্তী বর্ষে উঠতে ন্যূনতম ৩৩ ক্রেডিট পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) ক্লাস বর্জন করে দ্বিতীয় দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। রোববার সকাল ১০টা থেকে শহীদ মিনার চত্বরে ১৪ ও ১৫ সিরিজের শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেয়। গতকাল শনিবারও একই দাবিতে তারা এ কর্মসূচি পালন করে। কিন্তু এখন পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের এ দাবি অযৌক্তিক বলে মনে করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রুয়েটে ১৩ সিরিজের ব্যাচ বা ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষ থেকে পরবর্তী বর্ষে উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের ন্যূনতম ৩৩ ক্রেডিট প্রাপ্তি বাধ্যতামূলক করা হয়। এই পদ্ধতিতে স্নাতক পর্যায়ে একজন শিক্ষার্থীকে ১৬০ ক্রেডিটে পরীক্ষা দিতে হয়। প্রথম বর্ষের দুই সেমিস্টারের ফাইনাল পরীক্ষায় ৪০ ক্রেডিটের মধ্যে শিক্ষার্থীরা ৩৩ ক্রেডিট পেলে পরবর্তী বছরে বর্ষে পদার্পণের কথা বলা হয়। ২০১৩-১৪ ও ২০১৪-১৫ এই দুই শিক্ষাবর্ষের মোট ১৫০০ শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৬০ জনের বেশি কোনো শিক্ষার্থী ৩৩ ক্রেডিট অর্জন করতে পারেনি। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ,
৩৩ ক্রেডিট পদ্ধতির কারণে শিক্ষার্থীরা নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়ে আসছে। বিশেষ করে, রুয়েটে ক্লাস-ল্যাবের সঙ্কট থাকার কারণে যারা ক্রেডিট অর্জন করতে পারবে না তাদেরকে অন্য ব্যাচের সঙ্গে ক্লাস বা ল্যাবে থাকতে হবে। সেক্ষেত্রে জায়গা ও শিক্ষাগত দুই দিকেই সমস্যা হবে। এছাড়া কোনো শিক্ষার্থী অসুস্থ বা অন্য কোনো সমস্যার কারণে পরীক্ষা দিতে না পারলে তার এক বছরের বেশি সময় ক্ষতি হবে। এমনকি সিলেবাসগত জটিলতাতেও পড়তে হয় ওই শিক্ষার্থীকে। প্রশাসন কোনো পদ্ধতি প্রণয়ন করলে সেটা সবদিক বিবেচনা করে করা উচিত বলেও দাবি করেন শিক্ষার্থীরা। তবে রুয়েট ভিসি শিক্ষার্থীদের এ দাবিকে অযৌক্তিক উল্লেখ করে প্রফেসর রফিকুল আলম বেগ বলেন, ‘অকৃতকার্য হয়ে কি কখনো ওপরের ক্লাসে ওঠা যায়? আমরা তবুও দুই-তিনটি বিষয়ে ফেল করলেও পরের বর্ষে উঠার ব্যবস্থা রেখেছি। ওরা সব বিষয়েও ফেল করে পরবর্তী বর্ষে উঠার দাবি করছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘শনিবার বিভাগীয় প্রধান ও ডিনদের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। পরবর্তী অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভা শেষে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।’ এদিকে রুয়েটের ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টা এন এইচ এম কামরুজ্জামান সরকার দাবি করেন, ‘আজ (রোববার) ১৫ সিরিজের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়েছে। মুষ্টিমেয় কিছু শিক্ষার্থী সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে জোর করেই আন্দোলন চালাচ্ছে। অধিকাংশ শিক্ষার্থী এ নিয়মেই ক্লাস করতে আগ্রহী।’

No comments:

Post a Comment