Tuesday, January 31, 2017

অপূর্ব নীলগিরি

হ্যাঁ, পাহাড়-ঝরনা আর মেঘের সঙ্গে মিতালির প্রবল ইচ্ছা থেকে সিদ্ধান্ত নিলাম এবারের ভ্রমণটা হবে বান্দরবানের নীলগিরি। অনেক উৎসাহ-উদ্দীপনায় মাইক্রোবাস নিয়ে রওনা হলাম আমরা ঘুরি বাংলাদেশ গ্রুপের ১০ সদস্যের একটি দল। চট্টগ্রামে এক রাত বিরতি দিয়ে পরের দিন বিকালে বান্দরবান জেলা শহরে গিয়ে অবস্থান করি এবং হোটেল প্যারাডাইসে রাত্রি যাপনের সিদ্ধান্ত হয়। রাতেই নীলগিরি যাওয়ার জন্য চাঁন্দের গাড়ি ভাড়া করা হয়।
ভোর ৫টায় রওনা দিতে হবে তাই ঘুমাতে তাড়া আছে। তারপরও রাত সাড়ে ১২টার আগে কেউ ঘুমাতে পারিনি। কাক ডাকা ভোর। হোটেলের জানালে খুলে দেখা গেল চারদিকে কুয়াশার চাদর। চাঁন্দের গাড়ি এসে হাজির, শুধু হাজির হয়নি আমরা। একে একে সবাইকে হোটেল থেকে বাইর করে যখন নিজে প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, তখন ফোন বাজছে তো বাজছে। তাড়াতাড়ি রওনা হলাম চাঁন্দের গাড়ি চড়ে। কনকনে শীত, ঠাণ্ডা হিমেল হাওয়া, প্রথমে কুয়াশা মনে হলেও চাঁন্দের গাড়ির ড্রাইভার মনের ভুল ভেঙে দিয়ে বলল এগুলো মেঘ। অবাক করা দৃশ্য আর অনুভূতি। মেঘের ভেতর দিয়ে আমরা শুধু ওপরে উঠছি আর নামছি। বান্দরবান শহর থেকে যখন আমরা পাহাড়ি পথ ধরে নীলগিরি দিকে এগিয়ে যাচ্ছি তখনও পাহাড়ি জনপথে কোনো পাহাড়ি জনগণ চোখে পড়েনি। মনে হচ্ছে একটু পড়ে ঘুম ভাঙবে। হয়তো যার যার কাজে বাইর হবে। একদিকে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে মেঘের খেলা অন্যপাশে মনে হয় সব কিছুই কত নিচে। ভয়ংকর অনুভূতি। আঁকা-বাঁকা পথ পেরিয়ে আমরা যখন চিম্বুক সেনা ক্যাম্পে হাজির তখন আমাদের সামনে হাজির হল সকালের নাস্তা ভুনা খিচুড়ি আর ডিম। অসাধারণ রান্না। নাস্তার পাশাপাশি চিম্বুক সূর্যোদয়ে চলে ছবি তোলার প্রতিযোগিতা। পেছনে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে মেঘে ঢাকা। গায়ে লাগছে শীতের কনকনে শীতল হাওয়া। সকালের নাস্তাটা সেরে রওনা হলাম আঁকা-বাঁকা পাহাড়ি পথ ধরে নীলগিরির দিকে। পেটে যখন দানা পড়েছে মনে তখন আনন্দ এসেছে। গাইতে লাগল পাঁচমিশালি গান। অসাধারণ অনুভূতি। কখন যাব নীলগিরি। হইহুল্লোড় আর গানের এক পর্যায়ে পৌঁছে গেলাম স্বপ্নের নীলগিরি। দৌড়ে ওপরে উঠলাম আর দেখলাম প্রাকৃতির লীলাখেলা। সত্যিই কি মেঘের ওপর আমরা! ঘুরাঘুরি ছোটাছুটি আর ছবি তোলা।
একটু বলে রাখি, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২২০০ ফুট উচ্চতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক পরিচালিত এ নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্রটি পাহাড় এবং আকাশের মিতালির এক অপূর্ব নিদর্শন। সকাল ও বিকালে মেঘের খেলা বিরাজ করলেও দুপুরে আকাশ পরিষ্কার থাকলে এখান থেকে খালি চোখে বঙ্গোপসাগরে জাহাজ চলাচলের দৃশ্য উপভোগ করা যায়। মাথার ওপরে সূর্য উঁকি দিচ্ছে আর মেঘেরা পালিয়ে যাচ্ছে। দেখলাম কীভাবে পাহাড় মেঘের বাধা হয়ে দাঁড়ায়। দু’ঘণ্টা শেষ করে ফিরতে প্রস্তুতি নিলাম। সেনাবাহিনী কর্তৃক পরিচালিত চায়ের দোকানে চা পান করে স্মৃতিস্বরূপ কিছু কেনাকাটা। চিম্বুক ও শৈত্যপ্রপাতের দর্শন নিয়ে চাঁন্দের গাড়ি চড়ে দুপুর ২টায় হাজির হলাম বান্দরবান শহরে। এই শীতে আপনিও প্রিয়জনকে নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন নীলগিরি। পেছনে বিস্তীর্ণ এলাকা মেঘে ঢাকা। গায়ে লাগছে শীতের কনকনে শীতল হাওয়া। সকালের নাস্তাটা সেরে রওনা হলাম আঁকা-বাঁকা পাহাড়ি পথ ধরে নীলগিরির দিকে। পেটে যখন দানা পড়েছে মনে তখন আনন্দ এসেছে। গাইতে লাগল পাঁচমিশালি গান। অসাধারণ অনুভূতি। কখন যাব নীলগিরি। হইহুল্লোড় আর গানের এক পর্যায়ে পৌঁছে গেলাম স্বপ্নের নীলগিরি। দৌড়ে ওপরে উঠলাম আর দেখলাম প্রাকৃতির লীলাখেলা। সত্যিই কি মেঘের ওপর আমরা!

No comments:

Post a Comment