নারায়ণগঞ্জের
আলোচিত সাত খুন মামলায় সোমবার ২৬ জনকে ফাঁসির আদেশ দেয়া হয়েছে। ফাঁসির
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ফাঁসি কার্যকর করতে এখনও দুটি বিচারিক ধাপ ও অনেকগুলো
প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। সে অনুযায়ী প্রথমেই মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত
আসামিদের মৃত্যু অনুমোদনের জন্য মামলাটি হাইকোর্টে ‘ডেথ রেফারেন্স’ হিসেবে
আসবে। এ মামলার যাবতীয় নথি ও রায়ের কপি বিচারিক আদালত থেকে ডেথ রেফারেন্স
হিসেবে হাইকোর্টে পাঠাবেন রায় প্রদানকারী বিচারক। রায়ে স্বাক্ষর করার পরপরই
এগুলো পাঠানোর রীতি রয়েছে। অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের
বলেন, নিম্ন আদালতের দেয়া ফাঁসির রায় কার্যকর হয় না, যতক্ষণ পর্যন্ত না
হাইকোর্ট তা কনফার্ম (অনুমোদন) করেন। বিচারিক আদালতের রায় নথিসহ ডেথ
রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে আসবে। ডেথ রেফারেন্স হিসেবে আসার পর এ মামলার
দ্রুত শুনানি শুরু করার চেষ্টা করা হবে। ডেথ রেফারেন্স পাঠাতে কত সময় লাগে
জানতে চাইলে একজন সিনিয়র জেলা জজ যুগান্তরকে বলেন, অধস্তন আদালত থেকে
ফাঁসির আদেশ হওয়ার পর ওই রায়ে বিচারক স্বাক্ষর করার সঙ্গে সঙ্গেই তা ডেথ
রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে পাঠিয়ে দেবেন। এটাই প্রচলিত রীতি। এক্ষেত্রে
ফাঁসির আদেশ দিয়ে ঘোষিত রায়ে বিচারকের স্বাক্ষর হওয়ার পর নথি পাঠাতে বিলম্ব
করার কোনো সুযোগ নেই। রায় ঘোষণার দিনেই অনেক মামলা ডেথ রেফারেন্স হিসেবে
ওই জেলা জজ হাইকোর্টে পাঠিয়েছেন বলেও যুগান্তরকে জানান। সংশ্লিষ্টরা জানান,
মামলাটি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে আসার পাশাপাশি আসামিরা হাইকোর্টে
আপিল দায়ের করতে পারেন। এ আপিল দায়েরের ক্ষেত্রে তারা আইন অনুযায়ী ৩০ দিন
সময় পাবেন। আর যদি কেউ আপিল না করেন তাহলে তাদের ক্ষেত্রে শুধু ডেথ
রেফারেন্সেরই শুনানি হবে।
এরপর হাইকোর্ট মামলাটি শুনানির জন্য প্রথমেই
মামলার পেপারবুক (মামলার এফআইআর, চার্জশিট, বিচারিক আদালতের রায়সহ যাবতীয়
তথ্য সংবলিত নথি) তৈরি করবেন। এটি তৈরি হলে প্রধান বিচারপতি যদি চাঞ্চল্যকর
মামলা হিসেবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই ডেথ রেফারেন্স মামলাটি শুনানির
উদ্যোগ নেন, সেক্ষেত্রেও শুনানি শুরু হতে প্রায় এক বছর সময় লেগে যেতে পারে।
অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি না করলে এ সময় আরও বেশি লাগবে। এ ব্যাপারে
মামলাটির বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান সাংবাদিকদের
বলেন, ‘যদি অন্য মামলার মতো এই মামলাও একই নিয়মে চলে তাহলে চূড়ান্ত রায়
পেতে সময় লেগে যাবে। মামলাটি সংবেদনশীল হওয়ায় দ্রুত নিরসন
প্রয়োজন।’সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানান, হাইকোর্টে শুনানি শেষে দেয়া রায়ে
আসামিদের ফাঁসির আদেশ বহাল থাকলে আসামিরা আপিল বিভাগে আপিল দায়েরের সুযোগ
পাবেন। হাইকোর্টের রায়ের পর তারা আপিল দায়েরের জন্য দু’মাস সময় পাবেন। এরপর
মামলাজট আর বিচার ব্যবস্থার ধীরগতির কারণে এই আপিলের শুনানি কত তাড়াতাড়ি
বা কত দেরিতে হবে তা বলা সম্ভব নয়। আপিলের শুনানি শেষে আপিল বিভাগও
আসামিদের ফাঁসি বহাল রাখলে তখন আপিল বিভাগের রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউয়ের)
আবেদন জানানোর সুযোগ পাবেন আসামিরা। এ রিভিউ দায়ের করার ক্ষেত্রে তারা এক
মাস সময় পাবেন। এরপর রিভিউ আবেদনের শুনানি শেষে তা খারিজ হওয়ার পর আসামিদের
ফাঁসি কার্যকরের দিনক্ষণ গণনা শুরু হয়ে যায়। আদেশের কপি হাতে পেয়ে জেল কোড
অনুযায়ী আসামিদের ফাঁসি কার্যকর করার ক্ষেত্রে ‘২১ দিনের আগে নয় এবং ২৮
দিনের পরে নয়’ বলে যে বিধান রয়েছে তা অনুসরণ করবে জেল কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি এ
সময়ের মধ্যে আসামিরা রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাওয়ার সুযোগও নিতে
পারেন। সেক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি প্রাণভিক্ষার আবেদন নাকচ করলে তারপর আসামিদের
ফাঁসি কার্যকর হবে।

No comments:
Post a Comment