হঠাৎ
প্রচণ্ড শীত। আজো তাপমাত্রা কমবে। রাতের তাপমাত্রা ক্ষেত্রবিশেষে ১ থেকে ২
ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে গেছে। উত্তরাঞ্চলে বয়ে যাচ্ছে মাঝারি থেকে তীব্র
শৈত্যপ্রবাহ। প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় কাঁপছে শিশু ও বৃদ্ধরা। বিভিন্ন স্থানে
ইতোমধ্যে শীতজনিত কারণে দেখা দিয়েছে নানা রোগব্যাধি। সবচেয়ে বেশি শীত পড়েছে
রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের অঞ্চলগুলোতে। গতকাল শুক্রবার দেশের সর্বনি¤œ
তাপমাত্রা ছিল কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ৫.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটাই ছিল চলতি
শীত মওসুমে দেশের সর্বনি¤œ তাপমাত্রা। ঢাকা শহরের তাপমাত্রাও কমেছে বেশ।
এখানে গতকাল সর্বনি¤œ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
বলা চলে চট্টগ্রাম বিভাগের অল্প ক’টি অঞ্চল ছাড়া দেশের সর্বত্রই ছিল
প্রচণ্ড শীতের কবলে। গতকাল দেশের সর্বত্রই ছিল কনকনে হিমেল হাওয়া। আবহাওয়া
অফিসের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে কনকনে ঠাণ্ডা হাওয়া
প্রবেশ করছে বাংলাদেশে ৫ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে। শীতের জন্য দায়ী প্রচণ্ড
ঠাণ্ডা হাওয়াযুক্ত উচ্চচাপ বলয়টি (রিজ অব সাবকন্টিনেন্টাল হাই) বর্তমানে
অবস্থান করছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কাছে। এর একটি বর্ধিতাংশ রাজশাহী ও রংপুর
বিভাগ ও এর কাছাকাছি অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে নীলফামারী ও কুড়িগ্রাম জেলায়
তীব্র (৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে) শৈত্যপ্রবাহ জেঁকে বসেছে। এর
বাইরে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের অবশিষ্ট জেলাগুলোতে মৃদু থেকে মাঝারি
মাত্রার শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া ঢাকা বিভাগের মাদারীপুর, টাঙ্গাইল,
চট্টগ্রাম বিভাগের রাঙ্গামাটি ও সীতাকুণ্ড অঞ্চল, সিলেট বিভাগের শ্রীমঙ্গল
এবং খুলনা বিভাগের কুষ্টিয়া অঞ্চল মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার শৈত্যপ্রবাহের
আওতায় রয়েছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। আজ আরো কিছু এলাকায় শৈত্যপ্রবাহ
বিরাজ করতে পারে।
বাতাসে আর্দ্রতা কমে প্রচণ্ড শীত অনুভূত হয়ে থাকে। গতকাল
সন্ধ্যার ৬টায় রাজধানী ঢাকার বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৩৪ শতাংশ। দেশের
অন্যান্য অঞ্চলে একই রকম ছিল বলে জানা গেছে। শুষ্কতা দূর করতে নানা ধরনের
লোশন, ময়েশ্চারাইজার, পেট্রোলিয়াম জেলির ব্যবহার বেড়ে গেছে। রাজধানীর তেলের
দোকানে সরিষার তেল বিক্রির ধুম পড়েছে। গতকাল রাজশাহী রংপুর বিভাগের
সর্বত্রই সর্বনি¤œ তাপমাত্রা ছিল ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে। অপর দিকে
গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল টেকনাফে ২৫.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায়
সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৩.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঠাণ্ডা পরিবেশে জবুথবু
অবস্থা সর্বত্র। বিকেলের পর থেকে রাজধানীতে যানবাহনের পরিমাণও কমে যেতে
দেখা যায়। রাতের দিকে রাস্তা অপেক্ষাকৃত ফাঁকা হয়ে যায়। ঘরকে উষ্ণ রাখার
জন্য সারা দিনই দরোজা-জানালা বন্ধ রাখতে হয়েছে। ঢাকা অথবা অন্যান্য
শহরাঞ্চলের সামর্থ্যবানরা ঘরকে উষ্ণ রাখতে রুম হিটার ব্যবহার শুরু করেছেন।
গ্রামাঞ্চলে ঘরকে গরম রাখতে অনেকেই আগুন জ্বালিয়ে রাখছেন। ঢাকার অদূরে
নরসিংদী সংবাদদাতা জানিয়েছেন, নরসিংদীতে সারা দিনই প্রচণ্ড শীতে কাঁপুনি
ধরার অবস্থা ছিল। বিকেলের দিকে লোকজনের চলাচল কমে গেছে। গ্রামের মানুষ ঘরে
আগুন জ্বালিয়ে নিজেদের উষ্ণ রাখতে শুরু করেছেন। শেষ রাতের দিকে ভারী
কাঁথা-কম্বল অথবা লেপে শরীর গরম করতে পারে না। ঘরে ভেতর আগুন জ্বালিয়ে রাত
পোহাতে হচ্ছে। নরসিংদীর পলাশ উপজেলার মো: কুতুবুদ্দিন জানিয়েছেন, ষাটোর্ধ্ব
অনেকেই মাটির পাত্রে (মালসা) কাঠ-কয়লা জ্বালিয়ে বিছানায় নিয়ে ঘুমাচ্ছেন। এ
থেকে দুর্ঘটনাও ঘটে যাচ্ছে। এটা ছাড়া শরীরকে গরম রাখার বিকল্প কিছু থাকে
না তাদের। কষ্টে দিনাতিপাত করছে দরিদ্র মানুষ। শীতে কাজকর্ম তেমন একটা না
থাকায় গরম কাপড় কেনার সামর্থ্য নেই অনেকের। এখনো গ্রামের অনেক মানুষের ঘরে
ছেঁড়া তেল চিটচিটে ভারী কাঁথাই শীত নিবারণের একমাত্র ব্যবস্থা। তীব্র শীতে
শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে দেখা দিচ্ছে নানা ধরনের রোগ-ব্যাধি। সর্দি-কাশি,
জ্বর, হাঁপানি, ডায়রিয়া ইত্যাদি রোগ নিয়ে আসছেন হাসপাতালে। প্রাইভেট
চিকিৎসকদের কাছেও আসছে একই ধরনের রোগে। শিশু চিকিৎসক ডা. আবুল হাসেম
বৃদ্ধদের প্রতি পরামর্শ দিয়েছেন গরম পানি পান করতে। গোসলও করা উচিত গরম
পানি দিয়ে। শিশুদের বেলায়ও একই ব্যবস্থা। পানি পানে গরম পানিকে অগ্রাধিকার
দিলে কাশি অথবা বুকে কফ জমবে না। পাতলা লিকার দিয়ে রঙচা পান করা যেতে পারে
ঘন ঘন। বেশি সর্দি-কাশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ খেতে হবে। অবহেলা
করলে রোগের প্রকোপ বাড়তে পারে। শিশুদের বেলায় নিউমোনিয়া হয়ে যেতে পারে।

No comments:
Post a Comment