মার্কিন
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়া শুধু ডেমোক্রেটদের ওপরই হ্যাকিং করেনি,
একইসঙ্গে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্পর্কেও তারা স্পর্শকাতর
তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করেছে। এর মধ্যে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য
রয়েছে। যদি কখনও প্রয়োজন হয় তাহলে ট্রাম্পকে ওই তথ্য দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করতে
পারে মস্কো। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর যৌথ প্রতিবেদনে এমন কথা রয়েছে
বলে জানিয়েছে সিএনএন। প্রতিবেদনটি প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও ট্রাম্পকে
হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে সিএনএনের ওই প্রতিবেদনকে ভুয়া নিউজ বলে দাবি
করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, এটা একেবারেই ভিত্তিহীন ও সম্পূর্ণ রাজনৈতিক
উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপের বিষয়ে গত সপ্তাহে একইসঙ্গে
প্রেসিডেন্ট ওবামা ও নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর যৌথ প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর ট্রাম্পের ওপর
অভ্যন্তরীণ ও বিদেশী চাপ ক্রমশ বাড়তে থাকে।
কিন্তু সব অভিযোগ ও কানাঘুষা
উপেক্ষা করে যুক্তরাষ্ট্রকে আবারও মহান করার প্রত্যয় নিয়ে ক্ষমতায় আসা
ট্রাম্প তার প্রশাসন গোছানোকেই প্রাধান্য দিয়ে আসছেন। তবে গোয়েন্দাদের
এবারের তথ্যটি ট্রাম্পকে একটু বেশিই নাড়া দিয়েছে। শুরু থেকেই
যুক্তরাষ্ট্রের চির বৈরী দেশ রাশিয়াকে সমীহ করে কথা বলে, বারবার গণমাধ্যমের
শিরোনাম হওয়া ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ও আর্থিক বেশকিছু স্পর্শকাতর তথ্য রুশ
গোয়েন্দা সংস্থার কাছে রয়েছে, যা প্রকাশ হয়ে পড়লে পরবর্তী মার্কিন
প্রেসিডেন্টের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। সিএনএন জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট
ওবামা ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে উপস্থাপন করা গোয়েন্দা প্রতিবেদনের একটি
সংক্ষিপ্তসার তাদের হাতে এসেছে। এতে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ও আর্থিক খাতের
বিভিন্ন গোপন তথ্য রাশিয়ার হাতে চলে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। সিএনএনের খবরে
৩৫ পৃষ্ঠার গোয়েন্দা প্রতিবেদনটির একটি দুই পৃষ্ঠার সারসংক্ষেপের কথা বলা
হলেও সেটি কারা তৈরি ও প্রকাশ করেছে তার সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দেয়া হয়নি।
তবে গোয়েন্দা প্রধানদের কাছ থেকে এ ব্যাপারে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
গার্ডিয়ান জানিয়েছে, গত মাসে সিনেটর জন ম্যাককেইন রাশিয়ার হাতে যাওয়া
ট্রাম্পের গোপন তথ্যের নথি এফবিআইয়ের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। ওই নথির সিরিজ
বিশ্লেষণ করে দেখেছে গার্ডিয়ান। এতে দেখা গেছে, ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে রুশ
সরকারের সঙ্গে গোপন সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন। এ সংক্রান্ত কয়েকটি নথি বাজফিড
তাদের ওয়েবসাইটে মঙ্গলবার প্রকাশ করেছে। ট্রাম্পের ক্ষমতা গ্রহণ বিষয়ক
কমিটি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছে। তবে ট্রাম্প এসব সংবাদকে ভুয়া
খবর আখ্যা দিয়েছেন।
কোনো রেফারেন্স উল্লেখ না করে এক টুইট বার্তায় ট্রাম্প
বলেছেন, ‘ভুয়া খবর- একটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উইচ-হান্ট।’ মঙ্গলবার সিনেট
ইন্টেলিজেন্স কমিটির এক শুনানিতে মার্কিন নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপের
বিস্তারিত তুলে ধরেন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রধানরা। বৈঠকে রাশিয়ার
বিরুদ্ধে ডেমোক্রেট দলের ইমেইল হ্যাক করে তথ্য চুরি, রিপাবলিকান প্রচারণা
দল ও তাদের পুরনো ইমেইল হ্যাক করার প্রমাণ পাওয়ার তথ্য তুলে ধরা হলেও
ট্রাম্পের প্রচারণা দল কিংবা আরএনসির বর্তমান কোনো তথ্যে মস্কো সফলভাবে
হানা দিতে পারেনি বলে উল্লেখ করা হয়। এফবিআই পরিচালক জেমস কোমি বলেন,
‘রিপাবলিকান দলের বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে রাশিয়া সাইবার হামলা
চালিয়েছে। কিন্তু যেসব ইমেইল ডোমেইন তারা হ্যাক করেছে, সেগুলো এখন আর
ব্যবহার করা হয় না। ট্রাম্পের প্রচারণা কমিটির কোনো তথ্য হ্যাক করার প্রমাণ
আমরা পাইনি।’ গোয়েন্দাপ্রধান জেমস ক্ল্যাপার বলেন, ‘আমি মনে করি, বিভিন্ন
দেশে দখলদারিত্ব কায়েম করার মনোভাব থেকেই রাশিয়ার অন্য দেশের রাজনীতিতে
হস্তক্ষেপ করার বাসনা তৈরি হয়েছে। আর এ জন্যই হয়তো তারা যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ
কয়েকটি দেশের নির্বাচন প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছে।’
রাশিয়ার অস্বীকার :
এদিকে, ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ও আর্থিক গোপন তথ্য পাওয়ার কথা অস্বীকার করেছে
রাশিয়া। বুধবার ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এ খবরকে ‘উদ্ভট’ আখ্যা
দিয়েছেন। পেসকভ বলেন, ‘যাচাই-বাছাই ছাড়া এ ধরনের কাল্পনিক খবর ছড়ানোর
উদ্দেশ্য রুশ-মার্কিন সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত করা। তিনি বলেন, ‘যারা
হিস্ট্রিয়ায় আক্রান্ত কেবল তারাই এ ধরনের উইচ-হান্ট চালিয়ে যাচ্ছেন।’
ক্রেমলিনের মুখপাত্র আরও জানান, মস্কো কারও ব্যক্তিগত স্পর্শকাতর তথ্য
হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেনি। তাই কেবল ডোনাল্ড ট্রাম্প নয়, হিলারি ক্লিনটনের
কোনো তথ্যও রাশিয়া সংগ্রহ করেনি।’ সে কারণে ট্রাম্পকে ব্লাকমেইল করার মতো
কোনো তথ্য থাকার প্রশ্নই আসে না।

No comments:
Post a Comment