Friday, January 20, 2017

যুক্তরাষ্ট্রে হস্তান্তরিত হওয়ার প্রস্তাবে অটল অ্যাসাঞ্জ

উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ বলেছেন, নিজের অধিকার সুরক্ষিত থাকলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তরিত হতে প্রস্তুত। গত সপ্তাহে অ্যাসাঞ্জ বলেছিলেন, যদি সাবেক মার্কিন সামরিক গোয়েন্দা বিশ্লেষক চেলসি ম্যানিং-এর সাজা মওকুফ করেন বিদায়ী প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, তাহলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তরিত হবেন। বুধবার ওবামা ম্যানিং-এর সাজা পুরোপুরি মওকুফ না করলেও ৩৫ বছরের কারাদ- কমিয়েছেন। ফলে এ বছরের মে মাসেই মুক্তি পাচ্ছেন তিনি।
সাজা অনেকখানি কমানোর ফলে অ্যাসাঞ্জের প্রতি সবার নজর ছিল, তিনি এবার কী বলবেন। এ প্রেক্ষিতে তিনি বলেছেন, ‘আমি যা বলেছি, সব কিছুতেই আমি অটল আছি। এর মধ্যে চেলসি ম্যানিং-এর সাজা কমানো হলে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তরিত হওয়ার প্রস্তাবও অন্তর্ভ’ক্ত।’ তবে তিনি আরও বলেন, ‘মে মাসের আগে সাজা শেষ হবে না। তাই এ নিয়ে আমরা আরও অনেক আলোচনা করবো।’
২০১০ সালে বিপুল পরিমাণ মার্কিন ¯পর্শকাতর তথ্য উইকিলিকসের হাতে তুলে দেন মার্কিন সেনা ম্যানিং। এটি মার্কিন ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তথ্য ফাঁসের ঘটনা। তাকে ৩৫ বছরের সাজা দেওয়া হয়। কারাগারে একাধিকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেন ম্যানিং। ওবামা তার সাজা কমানোর ঘোষণায় বলেছেন, কারাগারে কঠিন সময় পার করেছেন ম্যানিং। আর বিচার হয়ে গেছে। তবে অ্যাসাঞ্জের প্রস্তাবের কারণেই ম্যানিং-এর সাজা কমানো হয়েছে, এমন কথা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে হোয়াইট হাউজ।
ম্যানিং-এর সাজা কমানোর পর অ্যাসাঞ্জকে জিজ্ঞেস করা হয়, তিনি এখন নিজেকে কর্তৃপক্ষের কাছে সমর্পন করবেন কিনা। জবাবে তিনি বলেন, ‘মার্কিন কর্তৃপক্ষের উচিৎ তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রত্যাহার করা, অথবা গোপন অভিযোগ প্রকাশ করা। তবে আমি ডিওজে (মার্কিন আইন মন্ত্রণালয়)-এর সঙ্গে কথা বলার উপেক্ষায় আছি যে সামনে এগুনোর উৎকৃষ্ট পন্থা কী।’ তার ভাষ্য, ‘আমি সবসময়ই যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে বিচারের মুখোমুখিতে হতে ইচ্ছুক ছিলাম। তবে এ ক্ষেত্রে আমার অধিকার সুরক্ষিত রাখতে হবে।’ তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে যেকোন অভিযোগই মিথ্যা প্রমাণ করতে পারবেন বলে তিনি আত্মবিশ্বাসী। প্রসঙ্গত, ৪৫ বছর বয়সী অ্যাসাঞ্জ বর্তমানে বৃটেনে অবস্থিত ইকুয়েডরিয়ান দূতাবাসে স্বেচ্ছা নির্বাসনে রয়েছেন। সুইডেনে তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে। ওই অভিযোগে তাকে সুইডেনে পাঠানো হতে পারে আশঙ্কায় তিনি ধরা দিচ্ছেন না। তার আরও অভিযোগ, ওই অভিযোগ ভুয়া। মূলত, সুইডেনে নিয়ে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়ার জন্যই এসব অভিযোগ আনা হয়েছে।
>>>মানবজমিন

No comments:

Post a Comment