হাতছোঁয়া
দূরত্বে ছিল ট্রফি। আরেকটি জয়েই হত স্বপ্নপূরণ। কিন্তু সব স্বপ্ন যে সত্যি
হয় না। সাবিনাদের স্বপ্নও অপূর্ণ রইল। মেয়েদের সাফ ফুটবলের শিরোপা এবারও
জিতে নিল ভারত। ফাইনালে ১-৩ গোলে হারল বাংলাদেশ। বুধবার শিলিগুড়ির
কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশকে মাশুল দিতে হল নিজেদের ভুলের। ভারতকে
টপকেই গ্রুপসেরা হয়েছিল বাংলাদেশ। বি-গ্রুপের সেই ম্যাচ গোলশূন্য ড্র হওয়ায়
স্বাগতিকরা হয়েছিল গ্রুপ রানার্স-আপ। ফাইনালে চিত্র পাল্টে গেল।
স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় স্বপ্নারা কাঁদলেন। অগত্যা রানার্স-আপ হয়েই সন্তুষ্ট
থাকতে হল গ্রুপ পর্বে রক্ষণাত্মক কৌশলে ভারতকে আটকে দিয়েছিল বাংলাদেশ।
ফাইনালে রক্ষণের ভুলে ১১ মিনিটে এগিয়ে যায় ভারত। শিউলি আজিমের কাছ থেকে বল
কেড়ে নিয়ে বাঁদিক থেকে সাসমিতার বাড়ানো ক্রসে প্লেসিং শটে জালে জড়িয়ে দেন
দাঙ্গমেই গ্রেসি।
ভারতের এই ফরোয়ার্ড শট নেয়ার আগে তা বিপদমুক্ত করার সুযোগ
ছিল শামসুন্নাহারের সামনে। খেলার ৩৯ মিনিটে গোছালো প্রতিআক্রমণ থেকে
ম্যাচে ফেরে বাংলাদেশ। মারিয়া মান্ডার কাছ থেকে বল পেয়ে সাবিনা খাতুন বাড়ান
ডান দিকে থাকা সিরাত জাহান স্বপ্নাকে। দুরূহ কোণ থেকে লক্ষ্যভেদ করেন
সেমিফাইনালে মালদ্বীপের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করা স্বপ্না। দ্বিতীয়ার্ধে
বাংলাদেশের রক্ষণে চাপ ধরে রাখা ভারত ৬২ মিনিটে আবারও এগিয়ে যায়। ডি-বক্সের
মধ্যে বালাকে নার্গিস খাতুন ফাউল করলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি।
স্পটকিক থেকে অনায়াসে স্কোরলাইন ২-১ করেন সাসমিতা। আগের তিন ম্যাচে পোস্টের
নিচে অতন্দ্র প্রহরী হয়ে থাকা সাবিনা আক্তারের হাস্যকর ভুলে ম্যাচ থেকে
ছিটকে পড়ে বাংলাদেশ। ডি-বক্সের বেশ বাইরে থেকে ইন্দুমতির শট শুরুতে গ্লাভসে
নেয়ার সহজ চেষ্টাও করেননি গোলরক্ষক। বল সামনে পড়ে লাফিয়ে সাবিনার হাত
ছুঁয়ে জালে জড়ায়। শেষদিকে বালা, সাসমিতাদের প্রচেষ্টা ঠিকানা খুঁজে না
পেলেও শিরোপা ধরে রাখার উৎসবে মাতে ভারত। আর স্বপ্ন ভাঙার বেদনায় নীল হয়
বাংলাদেশ। এর আগে বাংলাদেশের মেয়েরা পাঁচবার ভারতের মুখোমুখি হন। কোনোবারই
জেতা সম্ভব হয়নি। আজ রাতে ঢাকায় ফিরবে বাংলাদেশের ফুটবল কন্যারা।

No comments:
Post a Comment