নরসিংদীতে
মাদক ব্যবসায়ীদের গুলিতে প্রাণ গেল সুজন মিয়া (২৫) নামে এক ব্যাবসায়ীর।
৪দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে অবশেষে হার মানলেন তিরি। শনিবার গভীর রাতে ঢাকা
মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায়
হাজিপুর ইউপি সদস্য রেখা বেগমকে প্রধান আসামি করে ১৪ জনের বিরুদ্ধে সদর
মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। তবে এঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করতে
পারেনি পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
চাপা ক্ষোভ দেখা দিয়েছে সুশিল সমাজে। মাদক বিক্রিতে বাধা দেয়ায় গত বুধবার
রাতে স্থানীয় ইয়াবা ব্যবসায়ীরা সুজনকে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে এলোপাতাড়ি
কুপিয়ে ও গুলি করে গুরুতর আহত করে। নিহত সুজন মিয়া সদর উপজেলার হাজীপুর
ইউনিয়নের দড়িপাড়া গ্রামের হানিফ মিয়ার ছেলে। তিনি হাজিপুর এলাকায় ইট-বালুর
ব্যাবসা করতেন।
পুলিশ ও নিহতের পরিবারের লোকজন জানায়, সুজন মিয়ার সঙ্গে
হাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা সদস্য রেখা বেগমের ছেলে কামাল, আবুল হোসেনের
ছেলে ফয়সাল এবং দত্তপাড়া মহল্লার শিপলু নামে ৩ জনের বন্ধুত্ব ছিল। বিগত
ইউপি নির্বাচনে রেখা বেগম হাজিপুর ইউনিয়নে সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর থেকেই
রেখা বেগম ও তার ছেলে কামাল ইয়াবা ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। এলাকায় ইয়াবা
বিক্রিতে বাধা দেন সুজন মিয়া। এ নিয়ে নবনির্বাচিত ইউপি সদস্য ও তার ছেলের
সঙ্গে কথাকাটাকাটি হয় তার। এরই জের ধরে গত বুধবার রাতে ব্যাবসায়ী সুজন মিয়া
ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরার পথে ইউপি সদস্যর ছেলে কামাল ও ফয়সাল মোবাইল ফোনে
তাকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর কামাল, ফয়সাল ও শিপলুসহ ১২ থেকে ১৪ জনের এক দল
সন্ত্রাসী তাকে দড়িপাড়া গ্রামের আবেদ আলীর বাড়ির পাশের রাস্তায় নিয়ে যায়।
সেখানে সন্ত্রাসীরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে
মৃত্যু নিশ্চত করতে হামলাকারীরা তার বুকে গুলি করে। এসময় তার চিৎকারে
আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে নরসিংদী সদর হাসপাতালে ও
পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।
৪ দিন আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে
লড়ে শনিবার রাতে সুজন মারা যান। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তার শরীরে ৪টি গুলি
পাওয়া গেছে। নিহতের বড় ভাই সুমন মিয়া বাদি হয়ে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা
করেছেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, মাদকের প্রতিবাদ করায় তারা আমার ভাইকে
নির্মম ভাবে হত্যা করেছে। আমরা হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও
দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। নরসিংদী সদর মডেল থানার ওসি গোলাম মোস্তফা বলেন,
নিহতের ভাই সুমন মিয়া বাদি হয়ে স্থানীয় হাজিপুর ইউপি সদস্য রেখা বেগমকে
প্রধান আসামি করে ৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৬ জনসহ ১৪ জনের
বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্তদের গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান
চালাচ্ছে। লাশ ময়নাতদন্ত শেষে রোববার সন্ধ্যায় পরিবারের লোকজনের কাছে
হস্তান্তর করা হয়েছে।

No comments:
Post a Comment