Sunday, January 29, 2017

হিরামনি-বন্যার স্বর্ণস্বপ্ন

র‌্যাংকিং রাউন্ড পর্যন্ত সবই ঠিক ছিল। এরপরই শুরু অঘটন। কোথাও দৃষ্টি কোথাও নিশানা- নিজেদের ভুলে ঘায়েল হতে থাকেন লাল-সবুজের আরচাররা। তবে এরই মাঝে স্বর্ণ জেতার আশা জিইয়ে রাখলেন বিকেএসপির হিরামনি এবং বাংলাদেশ আনসারের বন্যা আক্তার। আন্তর্জাতিক সলিডারিটি আরচারি চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠেছেন বাংলাদেশের এ দুই তীরন্দাজ। দু’জনের মধ্যে মিল হল, এই প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠলেন হিরামনি ও বন্যা। ইয়ুথ অলিম্পিকে স্বর্ণ জেতা তামিমুল ইসলাম এবং অলিম্পিয়ান শ্যামলী ব্যর্থ। বিপরীতে সফল এই সেদিন তীর-ধনুক হাতে নেয়া হিরামনি ও বন্যা। ২০১০ সালে বিকেএসপিতে ভর্তি হন হিরামনি। জুনিয়র পর্যায়ে খেলার সময়ই জাতীয় দলে ডাক পান তিনি। সাফ গেমসেও খেলেছেন। কিন্তু সেরা সাফল্য বলতে অষ্টম বাংলাদেশ গেমসে ব্রোঞ্জেই আটকে ছিল হিরামনির সাফল্য। মিশ্র দ্বৈতে তিনি ওই পদক জিতেছিলেন। এবার আর ব্রোঞ্জ নয়, আজ স্বর্ণপদক জেতার লড়াইয়ে নামবেন হিরামনি।
উচ্ছ্বসিত তিনি। হিরামনির কথায়, ‘এটাই প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক আসরের ফাইনালে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব। রিকার্ভ এককের কোয়ার্টার ফাইনালে ভুটানের অলিম্পিয়ানের সঙ্গে সমান তালে লড়েছি আমি। সেখানে জিতেই সেমিফাইনালে উঠি। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আমার সঙ্গে ছিল রাদিয়া আক্তার শাপলা। ৬-২ সেট পয়েন্টে তাকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছি।’ স্বদেশী শাপলার বিপক্ষে খেলার সময় বেশ চাপেই নাকি ছিলেন ঠাকুরগাঁও হরিপুরের মেয়ে হিরামনি। চাপ সামলে জয় করেন সেট। ফাইনালে তার প্রতিপক্ষ আজারবাইজানের তীরন্দাজ। স্বর্ণপদকের ম্যাচ নিয়ে হিরামনির কথা, ‘আমার সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করব দেশকে স্বর্ণপদক এনে দিতে।’ একসময় কাবাডি আর ফুটবল খেলে সময় কাটত ফরিদপুরের মেয়ে বন্যা আক্তারের। ওই দুই ডিসিপ্লিনে খেলেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ফরিদপুরের এক কোচের কথায় তীর-ধনুক নিয়ে আনসারে ট্রায়াল দিতে আসেন বন্যা। তার কথায়, ‘ওই স্যার আমাকে বলেছিলেন, আনসারে চল, কপালে থাকলে তীর-ধনুকেই ক্যারিয়ার হয়ে যাবে। আমি বুঝে উঠতে পারছিলাম না, কীভাবে আরচারিতে খেলব। নাম শুনলেও আগে কখনোই তীর-ধনুক হাত দিয়ে ছুঁয়ে দেখিনি। অবাক হলেও সত্যি, ট্রায়ালে আমি টিকে গেলাম। সেটা ২০১৪ সালের কথা। এখন আমি স্বর্ণপদকের জন্য লড়ব।’ তিনি যোগ করেন, ‘এটাই আমার ক্যারিয়ারে প্রথম আন্তর্জাতিক আসর। প্রথম আন্তর্জাতিক ফাইনাল। এটা আমার সৌভাগ্য। কোচ থেকে শুরু করে সবাই আমাকে সহযোগিতা করেছেন। তারাই আমাকে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছেন। ভাবতেই পরিনি এতদূর আসতে পারব। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।’ রোড-টু-ফাইনাল নিয়ে বন্যার কথা, ‘অনুশীলন খুব একটা ভালো হয়নি। তাই আশাবাদী ছিলাম না। র‌্যাংকিংয়ে তিন নম্বরে ছিলাম।’ সেমিফাইনালে স্বদেশী শ্যামলী রায়কে ১৩০-১২৯ পয়েন্টে হারান বন্যা।

No comments:

Post a Comment