Saturday, January 14, 2017

তুরস্কের কারাগারে বন্দি গোদাগাড়ীর গৌরচন্দ্র

দালালের মাধ্যমে বিদেশে গিয়ে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার এক যুবক বিপদে পড়েছেন। গৌরচন্দ্র শীল (২৮) নামের ওই যুবক বর্তমানে তুরস্কের একটি কারাগারে বন্দি। তিনি উপজেলার পাকড়ি ইউনিয়নের জাওইপাড়া গ্রামের নরেন্দ্রনাথ শীলের ছেলে। গৌরচন্দ্রের ব্যাপারে সম্প্রতি তুরস্ক থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি এসেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে দেশের একটি গোয়েন্দা সংস্থা তার ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করছে। বুধবার সংস্থাটির সদস্যরা গৌরচন্দ্রের পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে যান। এরপরই পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পারেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গোয়েন্দা সংস্থাটির এক সদস্য জানান, কারণে গৌরচন্দ্রের এমন বিপদ ঘটেছে। সংস্থাটি তথ্য সংগ্রহ করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দেবে। এরপর গৌরচন্দ্রকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার উদ্যোগ নেবে। পাশাপাশি ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে দালাল হযরত আলীর বিরুদ্ধেও। দালালের বাড়ি গোদাগাড়ীর মাটিকাটা গ্রামে। মাটিকাটা দাখিল মাদ্রাসার সুপার দালাল হযরত আলী।
বিভিন্ন দেশে তিনি লোক পাঠান বলে নিজেই স্বীকার করেছেন। গৌরচন্দ্র শীলের ব্যাপারে জানতে চাইলে হযরত আলী বলেন, তাকে এক বছরের ভিসায় ইরাক পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু ইরাক যাওয়ার চার লাখ টাকা তুলতে না পেরে ভিসার মেয়াদ শেষে গৌরচন্দ্র তুরস্কে প্রবেশ করেন, যা সম্পূর্ণ অবৈধ। তাই তাকে গ্রেফতার করেছে তুরস্কের আইনশৃংখলা বাহিনী। গৌরচন্দ্রের বাবা নরেন্দ্রনাথ শীল জানান, তার ছেলে ২০১৫ সালের মার্চে দালালের মাধ্যমে ইরাক যান। নানা প্রলোভন দেখিয়ে দালাল হযরত আলী চার লাখ টাকার বিনিময়ে তাকে ইরাকে পাঠান। কিন্তু দালালের কথা অনুযায়ী কাজ পাননি গৌরচন্দ্র। তাকে সড়ক পরিষ্কারের কষ্টকর কাজ দেয়া হয়। বেতনও ঠিকভাবে দেয়া হতো না। এরই মধ্যে তার ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। গৌরচন্দ্রের স্ত্রী রুমা রানী জানান, ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে তার স্বামী বিনা ভিসায় তুরস্কে প্রবেশ করেন। প্রায় এক মাস আগে সেখানে আইনশৃংখলা বাহিনী তাকে গ্রেফতার করে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে রুমা রানী তার স্বামীকে দেশে ফেরত আনার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানান। পাশাপাশি তিনি দালাল হযরত আলীর শাস্তি দাবি করেন।

No comments:

Post a Comment