Wednesday, January 11, 2017

মহেশখালীতে ইউএনও‘র নাম ভাঙ্গিয়ে পুলিশি মাসোহারায় বালি লুট!

নিজস্ব প্রতিবেদক: মহেশখালীর কালারমারছড়া ইউনিয়নে পুলিশি মাসোহারায় সরকারী জায়গার বালি এলাকার চিহ্নিত ভুমি দস্যু, বালি ব্যবসায়ীরা লুটপাট করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। সরেজমিনে জানা যায়, উত্তর নলবিলা চালিয়াতলী বাজার সংলগ্ন উত্তর নলবিলা মৌজার ১নং খাস খতিয়ানের বি.এস ২৩৩৪ ও ২৩২৯ দাগের ১.২৮ একর সরকারী জায়গার বালি দীর্ঘদিন থেকে রাত দিন লুটপাট করলেও কার্যকরী কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না উপজেলা প্রশাসন। মাঝে মধ্যে স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্ব প্রাপ্ত অফিসার সরকারী বালি লুটেরাদের বালি ভর্তি ডাম্পার সহ আটক করলেও মোটা অংকের টাকায় ছেড়ে দেন বলে জানান অনেকেই। কার্যতঃ সরকারী স্বার্থ দেখার যেন কেউ নেই। প্রশাসনের বিশেষ নিরবতা দেখে ও বালি লুটেরাদের খুটির জোর নিয়ে দেখা দিয়েছে নানান প্রশ্ন। বর্তমানে কোন প্রকার সরকারী অনুমতি ব্যথিত উত্তর নলবিলা চালিয়াতলী এলাকার অবৈধ বালি ব্যবসায়ী বদি আলম প্রতিরাতে সরকারী জায়গা থেকে কয়েক লাখ টাকা মূল্যের বালি লুট করে যাচ্ছেন বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। বালি লুটেরাদের টাকায় প্রশাসন ম্যানেজ হওয়ায় বার বার অধরাই থেকে যাচ্ছেন মুলহুতারা এমনই জানান স্থানীয় আওয়ামীলীগের এক নেতা। তিনি অভিযোগ করে বলেন- গত বর্ষা মৌসুমে অবৈধ বালি ব্যবসায়ী বদি আলম দিন দুপুরে তার বাড়ির পাশের ১২ নং পাহাড় কেটে বালির ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার সংবাদ স্থানীয় বন বিভাগ জানালেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। বর্ষা কালে পাহাড় থেকে বালি নিয়ে আসার সময় ঢলের পানিতে আটকা পড়ে বদির একটি ভাড়া ডাম্পার গাড়ি দুদিন আটকা পড়ে থাকলেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি বন বিভাগ এমনই জানান স্থানীয়রা। সরকারী ১নং খাস খতিয়ানের ও ১২ নং পাহাড় মৌজার বালি লুটের সংবাদ কর্তৃপক্ষকে গোপনে জানালে সে বিষয়টিও বালি লুটেরাদের কাছে পৌছে যাওয়ায় নিরাপত্তার ভয়ে এখন আর কেউ মূখ খুলছেনা বলে জানান এলাকাবসী। ফলে ক্রমেই বাড়ছে সরকারী সম্পতি লুটপাটের প্রতিযোগিতা। অবস্থা দৃষ্টে মনে হয় যেন মগের মুল্লুক। স্থানীয়রা জানান, বালি ব্যবসায়ীদের সাথে উপজেলা প্রশাসনের পদস্থ ব্যক্তিদের আঁতাত থাকায় এদের নাম বলতে কেউ সাহস না করলেও বলেন, বার বার বালি ভর্তি ডাম্পার আটক করায় কি প্রশাসন বুঝতে পারেনা, বালি উত্তোলন করছে কে ? কয়েক বার আটক করার পর অল্প জরিমানা করে ছেড়ে দেওয়ায় বন্ধ হচ্ছেনা অবৈধ বালির ব্যবসা। যদি আটক করার পর স্থায়িভাবে ডাম্পার জব্ধ ও জেল জরিমানা হতো তাহলে এমন লুটপাট বন্ধ হয়ে যেত বলে মনে করেন সচেতন মহল। অবশেষে বেশ কিছুদিন সরকারী বালি লুটের মহোৎসব চলতে থাকার সংবাদ পেয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সরকারী সম্পদ লুটেরাদের বিরুদ্ধে কয়েক দফা অভিযাপন পরিচালনা করেন। গত ৭ নভেম্বর উত্তর নলবিলা চালিয়াতলী এলাকার মৃত মুহাম্মদ নছিম এর ছেলে বালি ব্যবসায়ী বদি আলম চালিয়াতলী শাহ আমিন কাউন্টার সংলগ্ন ২৩৩৪ নং বি.এস দাগের ১নং খাস খতিয়ানের জায়গা থেকে অবধৈভাবে বালি উত্তোলনের সময় বালি ভর্তি ডাম্পারটি আটক করে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মহেশখালী“ বিভীষণ কান্তি দাশ” ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার মাধ্যমে অবধৈভাবে বালি উত্তোলনের জন্য পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন। এর পর কিছুদিন বন্ধ থাকলেও  আবারো বেপরোয়াভাবে চলছে অবৈধ বালির ব্যবসা। অনেকে অভিযোগ করে বলেন, কালারমারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির আই সি, এস আই ইমাম হোসেন অনুমতি বিহীন সরকারী জায়গার বালি উত্তোলনের ফলে মোটা অংকের রাজস্ব বঞ্চিত হয় সরকার। তবুও দীর্ঘদিন থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানা পুলিশ নিরব থাকায় রক্ষা করা যাচ্ছেনা সরকারী বালি এমনই জানান সচেতন মহল। অবশেষে উপজেলা ভূমি অফিসের আন্তরিক প্রচেষ্টায় অবধৈ বালি ব্যবসায়ী বদি আলমকে আর্থিক জরিমানা প্রদান করায় সরকারী সম্পদ লুটপাট অনেকটা কমে আসছিল বলে মন্তব্য করেন সচেতন মহল। তবে বর্তমানেও বদি আলমের বালি ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট আবারো ভুয়া কাগজপত্রে কর্তৃপক্ষকে বিভ্রান্ত করে সরকারী কাজে বালি সরবরাহের নাম দিয়ে দৈনিক পাঁচ ছয়টি ডাম্পার গাড়ি নিয়ে পাশর্^বর্তি ইউনিয়ন বদরখালীতে জলাশয় ভরাট কাজে বালি সরবরাহ করে যাচ্ছেন। বালি ব্যাবসায়ী বদি আলম সবাইকে বলে বেড়ান, সে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা থেকে অনুমতি নিয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভুমি) বিভীষন কান্তি দাশ‘র সাথে বার বার তার মুটোফোনে কথা বলতে চাইলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় তাহার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। আর সরকারী জায়গার বালি লুটপাট  অনুমতি বিহীন বালি ব্যবসা ও অনুমতির বিষয় নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আবুল কালাম এর মুটোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, বালি লুটের বিষয়ে তিনি জানেনা আর কাউকে এধরনের অনুমতি দেওয়া হয়নি। আরো জানার জন্য তিনি এসিল্যান্ড‘র সাথে কথা বলার জন্য বলেন। এলাকার সচেতন মহলের প্রশ্ন, স্থানিয় প্রশাসন কোন ব্যবস্থা না নিলে সরকারী সম্পত্তি নষ্ট করার বিষয়টি কি আল্লার হাতে ছেড়ে দিবে ?

No comments:

Post a Comment