Monday, February 27, 2017

বাদ যাচ্ছে সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকা

চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) থেকে বাদ যাচ্ছে ১০ হাজার ৫৫০ কোটি ৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৭ হাজার কোটি এবং বিভিন্ন সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ৩ হাজার ৫৫০ কোটি ৩ লাখ টাকা ছেঁটে ফেলা হচ্ছে। বরাদ্দ করা অর্থ ব্যয় করতে না পারায় বিপুল অংকের এ অর্থ কমানো হচ্ছে। তবে ৫০০ কোটি টাকা বাড়ানো হচ্ছে সরকারি তহবিল থেকে। সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (আরএডিপি) আকার দাঁড়াচ্ছে ১ লাখ ১২ হাজার ৭৯৫ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিলের ৭১ হাজার ২০০ কোটি, বৈদেশিক সহায়তা ৩৩ হাজার কোটি এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৮ হাজার ৫৯৫ কোটি ৩ লাখ টাকা। মূল এডিপির আকার ছিল ১ লাখ ২৩ হাজার ৩৪৬ কোটি টাকা। রোববার সংশোধিত এডিপির খসড়া আকার চূড়ান্ত করে বর্ধিত সভার কার্যবিবরণী জারি করা হয়েছে। একই দিনে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) বৈঠকের কার্যপত্র চূড়ান্ত করেছে পরিকল্পনা কমিশন। এজন্য পরিকল্পনা সচিব জিয়াউল ইসলামের সভাপতিত্বে বৈঠক করে কার্যক্রম বিভাগ। আগামীকাল মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী ও এনইসির চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় এনইসি বেঠকে আরএডিপি অনুমোদন দেয়া হবে। রোববার পরিকল্পনা সচিব জিয়াউল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, এনইসি বৈঠকের আগে কোনো তথ্য দেয়া ঠিক হবে না। কেন এত টাকা বাদ যাচ্ছে এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বিষয়টি আমার মাথায় নেই। মঙ্গলবার আমরা প্রেস ব্রিফিং করে গণমাধ্যমকে বিস্তারিত জানাব। এ বিষয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা যুগান্তরকে জানান, পরিকল্পনা কমিশনের প্রথম কল নোটিশ অনুযায়ী মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর চাহিদা ছিল ১ লাখ ১৭ হাজার ৯১ কোটি ৬৪ হাজার টাকা। কিন্তু ২০ ফেব্রুয়ারি অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন বাদে সংশোধিত এডিপির আকার নির্ধারণ করে দেয়া হয় ১ লাখ ৪ হাজার ২০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে স্থানীয় মুদ্রা ৭১ হাজার ২০০ কোটি টাকা, অর্থাৎ ৩৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ এবং বৈদেশিক অর্থায়ন ৩৩ হাজার কোটি কোটি টাকা, অর্থাৎ ৩১ দশমিক ৬৭ শতাংশ। সে হিসাবে সংশোধিত এডিপি তৈরি করা হয়েছে। তবে এনইসি বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ইচ্ছা করলে বরাদ্দ আরও বাড়াতে পারেন। পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, সংশোধিত এডিপিতে ১৭টি সেক্টরের মধ্যে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে পরিবহন খাতে ২৫ হাজার ৩৫৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ ভৌত-পরিকল্পনা-পানি সরবরাহ ও গৃহায়ন খাতে ১৩ হাজার ৯৭৭ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। তৃতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে শিক্ষা ও ধর্ম খাতে ১২ হাজার ৭১২ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। এছাড়া অন্যান্য খাতে বরাদ্দ হচ্ছে- বিদ্যুতে ১২ হাজার ৩৪৭ কোটি ৫৭ লাখ, পল্লী উন্নয়ন ও পল্লী প্রতিষ্ঠান খাতে ৯ হাজার ৯৯৪ কোটি ৭৭ লাখ, বিজ্ঞান-তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে ৫ হাজার ৪৭২ কোটি ৪ লাখ, কৃষিতে ৫ হাজার ১৮০ কোটি ৬০ লাখ, স্বাস্থ্য-পুষ্টি-জনসংখ্যা ও পরিবার কল্যাণে ৪ হাজার ৯৫৫ কোটি ৩৩ লাখ টাকা।
সংশোধিত এডিপিতে বাড়ছে প্রকল্পের সংখ্যা। মূল এডিপিতে বরাদ্দসহ মোট প্রকল্প ছিল ১ হাজার ২৭৮টি। সেখান থেকে ৩০৩টি বাড়িয়ে সংশোধিত এডিপিতে প্রকল্প সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ১ হাজার ৫৮১টি। এর মধ্যে বিনিয়োগ প্রকল্প ১২৫৫টি, কারিগরি সহায়তা প্রকল্প ১৫৪টি, জেডিসিএফ প্রকল্প ৬টি এবং স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত ১৬৬টি প্রকল্প রয়েছে। এগুলোর মধ্যে একবারেই নতুন অনুমোদিত প্রকল্প রয়েছে ২৭২টি। সূত্র জানায়, সংশোধিত এডিপিতে বরাদ্দহীনভাবে ৯১০টি অননুমোদিত নতুন প্রকল্প যুক্ত করা হচ্ছে। এছাড়া মূল এডিপিতে ৩৫৪টি প্রকল্পর সমাপ্তির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও সে লক্ষ্য কমিয়ে ৩১২টি প্রকল্প সমাপ্তির জন্য ধরা হচ্ছে। এর মধ্যে বিনিয়োগ প্রকল্প রয়েছে ৩০১টি, কারিগরি সহায়তা প্রকল্প ৬টি এবং জাপানি ঋণ মওকুফ সহায়তা তহবিলের ৫টি প্রকল্প রয়েছে। সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রাজধানীর এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত পরিকল্পনা কমিশনের বর্ধিত সভায় অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব কাজী শফিকুল আযম বলেছেন, চলতি অর্থবছরের এডিপিতে প্রকল্প সাহায্য বরাদ্দের পরিমাণ কিছুটা উচ্চাভিলাষী ছিল। তবে বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রকল্প সাহায্যের ব্যবহার আরও বৃদ্ধি করা সম্ভব। তিনি বলেন, পাইপলাইনে এখনও অনেক বৈদেশিক অর্থ রয়েছে এবং তা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সুতরাং প্রকল্প সাহায্য ব্যবহারে সবাইকে আরও সচেষ্ট হতে হবে। বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত সাত মাসে এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে ৩২ দশমিক ৪১ শতাংশ। এ সময়ে ব্যয় হয়েছে ৩৯ হাজার ৯৭৩ কোটি টাকা।

No comments:

Post a Comment