যুক্তরাষ্ট্রের
৮৪তম অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন আলবামা অঙ্গরাজ্যের সিনেটর
জেফ সেশন্স। বুধবার মার্কিন সিনেটে ৫২ ভোটে জেফের নিয়োগ নিশ্চিত করা হয়।
তার বিরুদ্ধে ভোট দেন ৪৭ জন সিনেটর। মার্কিন নাগরিক অধিকার বিষয়ে অতীতে
বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে জেফের নিয়োগের বিরোধী ছিলেন ডেমোক্রেটি পার্টির
সিনেটররা।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের নিয়ন্ত্রণমুক্ত স্বাধীন অ্যাটর্নি জেনারেল
মার্কিন বিচার বিভাগের এক লাখ ১৩ হাজার কর্মকর্তার প্রধান। এ পদে জেফের
মতো বিতর্কিত ব্যক্তির নিয়োগ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছিলেন ডেমোক্রেটরা। তবে
শেষ পর্যন্ত রিপাবলিকানদের ভোটে সিনেটে উৎরে যান জেফ সেশন্স। তার নিয়োগের
পক্ষে পশ্চিম ভার্জিনিয়ার ডেমোক্রেট সিনেটর জো ম্যানচিনও ভোট দেন। সিনেটে
জেফের নিয়োগ নিশ্চিতের ঘোষণার সময় সিনেটররা ব্যাপক করতালি দিয়ে তাকে স্বাগত
জানান। সিনেটে ভোটের ফল প্রকাশের পরপরই 'অভিনন্দন আমাদের নতুন অ্যাটর্নি
জেনারেল' বলে টুইট করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এছাড়া সেশন্সের নিয়োগের
ব্যাপারে 'অসম্মতি' জানিয়ে অপ্রত্যাশিত বাধা দেয়ার জন্য ডেমোক্রেট
সিনেটরদের কঠোর সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প। এর আগে মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল
হিসেবে জেফ সেশন্সের মনোনয়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন ডেমোক্রেট দলের
শক্তিশালী নেত্রী ম্যাচাচুসেটসের সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন। সেশন্সের নাগরিক
অধিকার বিরোধী অবস্থানের কথা তুলে ধরতে ওয়ারেন নাগরিক অধিকার কিংবদন্তী
মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের স্ত্রী কোরেতা স্কট কিংয়ের ৩০ বছর আগে লেখা
একটি চিঠি পড়ে শোনান। মঙ্গলবার রাতে এ নিয়ে সিনেটে পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়ে
যায়। কোরেতার চিঠি পড়ার ঘটনায় এলিজাবেথ ওয়ারেন রিপাবলিকান সিনেটর নেতা মিচ
ম্যাকনেলের রোষাণলে পড়েন। ওয়ারেন সিনেটের শিষ্টাচার ভঙ্গ করেছেন দাবী করে
ম্যাকনেল বলেন, তাকে সতর্ক করা হয়েছে, এর আগে তিনি ব্যাখ্যাও দিয়েছেন,
তারপরেও তিনি একই কাজ করছেন। ওয়ারেনকে সিনেট থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা
হয়েছে। পরে তিনি এক চিঠিতে বলেন, অবমাননাকর এবং বর্ণবাদী মন্তব্যকারী কাউকে
অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগের ব্যাপারে আমি চুপ থাকব না এবং আমাদের বিচার
ব্যবস্থায় তার কোনো জায়গা নেই। ১৯৮৬ সালে জেফ সেশন্সকে ফেডারেল বিচারপতি
নিয়োগের বিরোধিতা করে সিনেটের তৎকালীন বিচার বিভাগীয় কমিটির সভাপতির কাছে
চিঠি লিখেছিলেন লুথার কিংয়ের স্ত্রী কোরেতা। এতে তিনি লিখেছিলেন, সেশন্স
তার ক্ষমতা ব্যবহার করে কৃষাঙ্গ নাগরিকদের অবাধে ভোটাধিকার প্রয়োগকে ব্যহত
করতে চেষ্টা করেছিলেন। প্রসঙ্গত, সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড
ট্রাম্প সাতটি মুসলিম দেশের শরণার্থী ও নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে
সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে নির্বাহী আদেশ জারি করেন। মার্কিন আদালত
ট্রাম্পের এই নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে দিয়েছে। এ কারণে ট্রাম্প আদালতের কঠোর
সমালোচনা করেছেন। এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা হিসেবে
নিয়োগ পেলেন ৭০ বছর বয়সী জেফ সেশন্স। তিনি ১৯৮১ সাল থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত
প্রসিকিউটর ছিলেন। পরে তিনি আলবামার অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব পালন
করেন। ১৯৯৬ সালে তিনি সিনেটর নির্বাচিত হন। জেফ সেশন্স শুরু থেকেই
ট্রাম্পের সমর্থক ছিলেন। তিনি ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণা টিম এবং
টানজিশন টিমের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছিলেন।

No comments:
Post a Comment