Thursday, February 16, 2017

রাশিয়ার সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ ছিল ট্রাম্প শিবিরের

মার্কিন নির্বাচনের আগে রাশিয়ার সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ ছিল ডোনাল্ড ট্রাম্প শিবিরের। ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণা দলের বেশ কয়েকজন সদস্য রুশ গোয়েন্দাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করে চলতেন। নিউইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে এই বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের হাতে আসা ফোন রেকর্ড ও আড়ি পেতে প্রাপ্ত ফোনালাপ থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। গত নভেম্বরের ওই নির্বাচনে জয়লাভ করে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার বর্তমান ও সাবেক চার কর্মকর্তার মতে, রাশিয়ার সিনিয়র গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণা দলের বেশ কয়েকজন সদস্য ও ট্রাম্পের অন্য সহযোগীদের নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করেছিলেন। ডেমোক্রেটিক দলের ওয়েবসাইট হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে রাশিয়া মার্কিন নির্বাচন প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে এ মর্মে প্রমাণ খুঁজে বের করতে মার্কিন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সহযোগীদের ফোনালাপে আড়ি পেতেছিল। তখনই মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জানতে চেষ্টা করেছিল যে, মার্কিন নির্বাচন প্রভাবিত করতে হ্যাকিং বা অন্য কোনো প্রচেষ্টায় রাশিয়ার সঙ্গে ট্রাম্পের সহযোগীরা একযোগে কাজ করছে কিনা। তবে সম্প্রতি কয়েকটি সাক্ষাৎকারে ওই মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাশিয়ার সঙ্গে ট্রাম্পের সহযোগীদের যোগাযোগ ছিল।
তবে রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতামূলক কোনো কাজের প্রমাণ তারা খুঁজে পাননি। নির্বাচনী প্রচারণাকালে ট্রাম্প রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে এত বেশি প্রশংসা করছিলেন যে, ব্যাপারটা মার্কিন গোয়েন্দা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে সতর্ক করেছিল। এক সমাবেশে ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি আশা করেন, রাশিয়ার গোয়েন্দা কর্মকর্তারা হিলারি ক্লিনটনের ইমেইল হ্যাক করবেন এবং সেগুলো জনসমক্ষে ফাঁস করে দেবেন। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ শুধু ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণা দলের সদস্যদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। বরং তার অন্যান্য সহযোগীও এর সঙ্গে জড়িত ছিল। রাশিয়ার দিক থেকে এই যোগাযোগের সঙ্গে গোয়েন্দা কর্মকর্তা ছাড়াও সরকারি কর্মকর্তারাও অন্তর্ভুক্ত ছিল। মার্কিন কর্মকর্তারা এসব তথ্য জানিয়েছেন নাম না প্রকাশ করার শর্তে। কর্মকর্তারা জানান, রাশিয়ার সঙ্গে আলাপ করেছিলেন ট্রাম্পের এমন একজন কর্মকর্তা হচ্ছেন পল মানাফোর্ট। মানাফোর্ট ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণার সময় কয়েক মাস ধরে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। রাশিয়ার সঙ্গে ফোনালাপে জড়িত ট্রাম্পের অন্য সহযোগীদের নাম প্রকাশ করতে অস্বীকার করেছেন কর্মকর্তারা। ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কমিটির (ডিএনসি) ওয়েবসাইট হ্যাকিংসহ রুশ সরকার ও ট্রাম্পের সহযোগীদের যোগসূত্র খুঁজতে গিয়ে প্রাপ্ত তথ্যের অংশ হিসেবে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই ফোনালাপের তালিকা, আর্থিক লেনদেন ও ভ্রমণ সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র হাতে পেয়েছে। অবশ্য পল মানাফোর্ট মঙ্গলবার নিউইয়র্ক টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তার বিরুদ্ধে মার্কিন কর্মকর্তাদের সব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এটা অদ্ভুত। তারা কী বোঝাতে চাচ্ছেন সে ব্যাপারে আমার কোনো ধারণাই নেই। আমি সজ্ঞানে কখনও রুশ গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলিনি। বর্তমানে তদন্তাধীন কোনো ইস্যুতে পুতিন প্রশাসন কিংবা রাশিয়া সরকারের সঙ্গে কোনো বিষয়ে আমি কখনও জড়িত হইনি।’ পল মানাফোর্টের মতো ট্রাম্পের কয়েকজন সহযোগী রাশিয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্য করেছেন। আর রাশিয়া ও ইউক্রেনের মতো দেশে মার্কিন ব্যবসায়ীদের জন্য মাঝে মাঝে বিদেশী গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সংস্পর্শে আসা অস্বাভাবিক নয়। কেননা এই অঞ্চলে গোয়েন্দা তৎপরতা সমাজের গভীরে প্রোথিত। তবে তাদের আলাপ কতটুকু ব্যবসার মাঝে সীমাবদ্ধ ছিল সে ব্যাপারে কিছু বলেননি কর্মকর্তারা। ৩৫ মনোচিকিৎসকের খোলা চিঠি : ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনে অযোগ্য ঘোষণা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের একদল মনোচিকিৎসক।
৩৫ জন মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ এক খোলা চিঠিতে জানিয়েছেন, ট্রাম্পের কথা ও আচরণ বলে দিচ্ছে তিনি রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের যোগ্য নন। নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত ওই খোলা চিঠিতে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট নিজের কাল্পনিক মহত্ত্ব¡ প্রকাশ করতে সত্যকে বিকৃত করছেন। এই মানসিকতার কারণে তাকে যারাই চ্যালেঞ্জ করছেন, তাদের আক্রমণ করছেন। আর সেটা এমন উপাত্ত ও পদ্ধতিতে, যা নিজেকে কর্তৃত্বপরায়ণ করে তোলে। এই মনোবিদরা জানান, ট্রাম্পের পাগলামি আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে তারা মুখ খুলতে বাধ্য হয়েছেন। মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস পরিচালকের পদত্যাগ : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিস পরিচালক যোসেফ ক্লানসি পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। মঙ্গলবার সিক্রেট সার্ভিস কর্মীদের সামনে তিনি এ ঘোষণা দেন বলে একজন মুখপাত্র সিএনএনকে জানিয়েছেন। আগামী ৪ মার্চ থেকে তার পদত্যাগ কার্যকর হবে বলে এক লিখিত ঘোষণায় ক্লানসি জানান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও তার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সিক্রেট সার্ভিসের কাজ। এই বাহিনীর সদস্য সংখ্যা ৭০০০। ক্লানসি ২৭ বছর ধরে মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৪ সালের অক্টোবরে তিনি সংস্থাটির ভারপ্রাপ্ত পরিচালকের দায়িত্বে আসেন। পরে ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি স্থায়ী পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পান। পরিবারকে সময় দেয়ার জন্য পদত্যাগ করছেন বলে লিখিত ঘোষণায় জানান ক্লানসি। সম্প্রতি নতুন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিরাপত্তা নিয়ে তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা দলের সঙ্গে সংস্থাটির বিরোধের কথা শোনা যায়। তবে ক্লানসি এ গুঞ্জনের কথা নাকচ করে দিয়েছেন।

No comments:

Post a Comment