Tuesday, February 28, 2017

২০১৮ সালের মধ্যে গ্যাস সমস্যার সমাধান হবে

২০১৮ সালের মধ্যেই গ্যাসের সমস্যার সমাধান হবে। অনেক বিদেশী প্রতিষ্ঠানকে নতুন গ্যাস কূপ খননের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। ভোলায় প্রচুর গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেছে। সেখানে বিদেশী কোম্পানি খননের কাজ করবে। ভবিষ্যতে গ্যাসের সংকট থাকবে না। সোমবার হোটেল র‌্যাডিসনে ২০১৩ সালের সিআইপি (রফতানি ও ট্রেড) কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এসব কথা বলেন।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন এফবিসিসিআই সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় আসে, তখন বাংলাদেশের রফতানির পরিমাণ ছিল ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। ক্ষমতা ছাড়ার সময় ২০০১ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলারে। বিএনপির সময়ে তা দাঁড়ায় ১০ বিলিয়ন ডলারে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় সেটি বেড়ে দাঁড়ায় ১৪ বিলিয়ন ডলারে। এরপর ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর গত বছর ৩৪ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি হয়। এ চিত্রই বলে দেয়, বর্তমান সরকার কতটা ব্যবসাবান্ধব। তৈরি পোশাক খাতে ট্রেড ইউনিয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি রফতানি করে ভিয়েতনাম। অথচ সে দেশে ট্রেড ইউনিয়ন নেই। চীন সবচেয়ে বড় রফতানিকারক দেশ। অথচ সেখানে প্রতিদিনই দুর্ঘটনায় শ্রমিক নিহত হন। অর্থনৈতিক উন্নতির উদাহরণ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ছোট বেলায় খালি পায়ে স্কুলে যেতাম। এখন গ্রামে বিদ্যুৎ ও পাকা রাস্তা- সব হয়েছে। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ থেকে চা, কাঁচাপাট ও চামড়া রফতানি হতো। ওই সময় চা ১৫ মিলিয়ন কেজি উৎপাদন হতো। এখন ৮৫ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদন হয়। তারপরও আমদানি করতে হচ্ছে। সিআইপি কার্ড বিলম্বের কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০১৩ সালের সিআইপি ২০১৭ সালে দেয়া হচ্ছে। এটা শুনতে খারাপ লাগে। চেষ্টা করব, যাতে বছরেরটা বছরে দেয়া যায়। অনুষ্ঠানে রফতানিতে অবদান রাখায় ১২৫ রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং ট্রেডে অবদান রাখায় ৩৯ জনকে সিআইপি কার্ড দেয়া হয়। উপস্থিত ছিলেন ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মাফরূহা সুলতানা।
সিআইপি কার্ড গ্রহণের পর অনুভূতি ব্যক্ত করে দাদা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ মোহাম্মদ আবদুল ওয়াদুদ যুগান্তরকে বলেন, ২০১৩ সালের পণ্য রফতানিতে সিআইপি হিসেবে মনোনীত হয়ে আনন্দিত। পাশাপাশি এ ধরনের আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্ট বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ইপিবিকে ধন্যবাদ জানাই। তিনি বলেন, বাংলাদেশের রফতানির ক্ষেত্রে সরকার যে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে এর জন্য সরকারকেও ধন্যবাদ জানাই। আয়োজকরা যদি প্রতিবছর এ ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করে তাহলে রফতানি আরও বাড়বে বলে বিশ্বাস করি। তিনি বলেন, বহু বছর ধরে পোশাক খাত রফতানির লাইম লাইটে আছে। পোশাক খাত ছাড়াও অন্যান্য খাতের দিকে নজর দেয়া উচিত। এ বছর চামড়াকে যেমন বর্ষপণ্য ঘোষণা করা হয়েছে তেমনি প্রতিবছর যদি একটি পণ্যকে রফতানির জন্য নির্ধারণ করা হয় তাহলে রফতানি আরও বাড়বে। এর আগে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এফবিসিসিআই সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়নে রফতানির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। যুগোপযোগী নীতি প্রণয়ন ও ব্যবসায়ীদের নিরলস প্রচেষ্টায় রফতানিতে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হচ্ছে। সিআইপি স্বীকৃতির কারণে মানসম্পন্ন বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, পরিবেশবান্ধব পণ্য উৎপাদন, নির্ধারিত কর প্রদান, দেশীয় কাঁচামালের ব্যবহার, গবেষণা উন্নয়ন ও শ্রমসংক্রান্ত সব ধরনের কমপ্লায়েন্সের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা উৎসাহিত হবে। এ সঙ্গে বৃহৎ শিল্পের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তা মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদনে আগ্রহী হবে, যা পণ্য রফতানিতে অবদান রাখবে। তিনি বলেন, প্রয়োজনের তুলনায় গ্যাস-বিদ্যুৎ অপ্রতুল। কোয়ালিটির বিদ্যুতের দাম শিল্পের জন্য ৫ থেকে ৬ টাকার মধ্যেই রাখা প্রয়োজন।

No comments:

Post a Comment