ভরা
শুকনা মৌসুম, নেই কোনো বৃষ্টি, অথচ দনিয়ার গোয়ালবাড়ী-দোলাইপাড় সড়কের
গোয়ালবাড়ী মোড়ে জলাবদ্ধতায় সড়ক ডুবে আছে। আর এ পানি বৃষ্টির না,
পয়ঃনিষ্কাশনের নালার ময়লাযুক্ত পচা দুর্গন্ধময় পানি। একদিন দুইদিন নয়- সড়কে
সব সময় এ জলাবদ্ধতা থাকে। এতে পথচারীদের চলাচলে ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাতে
হচ্ছে। দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে শিক্ষার্থী, পথচারী, ব্যবসায়ী এবং সড়কের
পাশে থাকা বাসাবাড়ির লোকজন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন,
গোয়ালবাড়ী থেকে শনির আখড়া পর্যন্ত পয়ঃনিষ্কাশনের যে ড্রেন তা বন্ধ হয়ে
যাওয়ায় দনিয়া ও গোয়ালবাড়ী এলাকার পয়ঃনিষ্কাশনের পানি আটকে থেকে এ
জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও জুয়েল ডেপেলপমেন্টের কাজ চলছে ওই মোড়ে।
নির্মাণসামগ্রী বালু ও পাথর পড়ে ড্রেন বন্ধ রয়েছে। তাদের অভিযোগ, নাগরিকদের
এ দুর্ভোগের বিষয়টি দনিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জুম্মন মিয়াকে জানানোর পরও
কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এ এলাকাটি যাত্রাবাড়ী থানার দনিয়া ইউপির কিছু অংশ
১নং ওয়ার্ড এবং কিছু অংশ ৪নং ওয়ার্ডে রয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের
নবনিযুক্ত ৬১নং ওয়ার্ডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সড়কের পাশে রয়েছে একে
উচ্চবিদ্যালয়, বর্ণমালা আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ বিভিন্ন কোচিং
সেন্টারসহ অনেক প্রতিষ্ঠান।
শিক্ষার্থীরা ময়লা পানি মাড়িয়ে চলাচল করে। এতে
তারা পেটের পীড়া ও চর্মরোগসহ পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। সরেজমিন দেখা
যায়, সড়কের ওপর প্রায় হাঁটু পানি। এ পানি মাড়িয়ে চলতি এসএসসি পরীক্ষার্থীরা
বর্ণমালা আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় ও একে স্কুল অ্যান্ড কলেজ পরীক্ষা কেন্দ্রে
পরীক্ষা দিতে যাচ্ছে। এ সময় শিক্ষার্থীরা নাকে ও মুখে রুমাল চেপে পরীক্ষা
দিতে যায়। জলাবদ্ধতার কারণে সড়কের পাশে বিলাস টেইলার্স, আলমের জুতার
কারখানা, নিউ এস সাগরিকা টেইলার্সসহ অন্তত ১৫টি দোকান বন্ধ রয়েছে। শুক্রবার
সড়কের পানি দ্বিগুণ বৃদ্ধি পায়। কারণ এদিন বাসাবাড়িতে পানি ব্যবহার
অন্যান্য দিনের তুলনায় বেশি হয়। শুক্রবারে পানি বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে
মুসল্লিদের জুমার নামাজ পড়তে মসজিদে যেতে সমস্যা হয়। উপায়ান্তর না পেয়ে এ
ময়লা পানি মাড়িয়েই নাক-মুখ চেপে ধরে মসজিদে যেতে দেখা যায় মুসল্লিদের।
জলাবদ্ধ স্থানের পাশে রয়েছে মোহাম্মদিয়া আনোয়ারুল উলুম জামে মসজিদ। পানির
দুর্গন্ধে এ মসজিদের মুসল্লিরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। বিভিন্ন পেশার কর্মজীবী
মানুষ জলাবদ্ধ সড়কটি দিয়ে হেঁটে যেতে না পেরে বাধ্য হয়ে ১০ টাকা ভাড়া দিয়ে
পানি পাড় হতে হচ্ছে। বর্ণমালা আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির
চেয়ারম্যান আবদুস সালাম বাবু বলেন, হেঁটে তো যাওয়া যায় না। রিকশায় যেতে
গিয়ে সড়কের গর্তে পড়ে ময়লা পানিতে পড়ার ভয়ে রিকশায় যেতে ভয় হয়। গোয়ালবাড়ী
মোড় এলাকার মঈনুল ইসলাম বলেন, এলাকার ড্রেনগুলো ময়লায় ভরে যাওয়ার কারণে
পয়ঃনিষ্কাশনের পানি আটকে থাকে। এতে ওই এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এ
অবস্থায় এলাকায় বসবাস করা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। দনিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান
জুম্মন মিয়া যুগান্তরকে বলেন, শনির আখড়া মোড় থেকে যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত
ড্রেনের কাজ চলছে। সেজন্য ড্রেনে পানি চলাচলে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।

No comments:
Post a Comment