Saturday, February 25, 2017

বইয়ের জন্য স্টলে স্টলে ভিড়

ছুটির দিনে এমনটাই হয়। তবু কল্পনাকে হার মানিয়েছে সব। মধুর চাকে মৌমাছি যেমন ভিড় করে অনেকটা তেমন। বইকে যদি জ্ঞানের মধু ধরা হয় তাহলে মৌমাছির মতো ঝাঁকে ঝাঁকে এলেন পাঠক। স্টলে স্টলে বইপ্রেমীদের ভিড় মেলার শেষ শুক্রবারে তেমনটাই ছিল। ছোট-বড় সব প্রকাশনার স্টলেই বইয়ের ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়ে মুখরিত পুরো মেলা। হাতে হাতে শুধু বই আর বই। ব্যাগেও বই।
এমন দৃশ্য লেখক-প্রকাশকদের তো বটেই যে কোনো সাহিত্যপ্রেমীর মন ভালো করে দেয়। মেলার শেষ শুক্রবারে শিশু প্রহর ছিল বলে দ্বার খুলে যায় বেলা ১১টায়। কিছুক্ষণ পরেই টের পাওয়া গেল চারদিকে শুধু মানুষ আর মানুষ। দুপুর গড়িয়ে বিকাল হতেই দেখা গেল বিভিন্ন স্টলে প্রিয় লেখকদের বই সংগ্রহ করার জন্য পাঠকদের উপচে পড়া ভিড় আর জটলা। অন্যপ্রকাশ, অনন্যা, অবসর, পাঞ্জেরী, তাম্রলিপি, অন্বেষা, কাকলী, এতিহ্য, প্রথমা, মাওলা ব্রাদার্স, আগামী, অনুপম ইত্যাদি প্রকাশনীগুলো ঘুরে দেখা গেল বই কেনার হিড়িক। বিক্রিয়কর্মীরা পাঠকের হাতে বই তুলে দিতে দিতে ঘেমেনেয়ে একাকার। শেষ শুক্রবারের এমন বই কেনার ধুম নিয়ে বলতে গিয়ে জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি মাজহারুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, বইয়ের বিক্রি মূলত শুরু হয়েছে ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে।
আর মেলার শেষ শুক্রবারে বিক্রি এমনটা হবে এটাই স্বাভাবিক। তবে অন্যবারের তুলনায় এবারের শেষ শুক্রবারের বিক্রি বেশি হয়েছে। বিক্রি নিয়ে জানতে চাইলে তাম্রলিপি প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী একেএম তারিকুল ইসলাম রনি বলেন, বইয়ের বিক্রি আসলেই খুব ভালো। এমনটাই আমাদের প্রত্যাশা ছিল। মেলায় এসেছে কবরীর আত্মজৈবনিক ‘স্মৃতিটুকু থাক’ : মিষ্টি মেয়ে নামেই তাকে চেনেন সবাই। রূপালি পর্দায় ঝড় তুলেছেন তার অভিনয় দিয়ে। একটা সময়ে রাজনীতির মাঠে লড়াই করে সংসদ সদস্য হয়েছেন। তিনি সবার প্রিয় কবরী। ‘স্মৃতিটুকু থাক’ শিরোনামে কবরীর আত্মজৈবনিক গ্রন্থটি শুক্রবার মেলায় এনেছে প্রকাশনা সংস্থা বিডিনিউজ পাবলিশিং লিমিটেড (বিপিএল)। আজ বিকালে গ্রন্থমেলা প্রাঙ্গণেই বইটির মোড়ক উন্মোচন করবেন কবরী নিজেই। ১৫৬ পৃষ্ঠার বইটির ভূমিকা লিখেছেন কবি নির্মলেন্দু গুণ। বইটি কবরী উৎসর্গ করেছেন তার মা লাবণ্যপ্রভা পাল ও বাবা কৃষ্ণদাস পালকে। বইটিতে কবরী অভিনীত জনপ্রিয় চলচ্চিত্রগুলোর পোস্টারের পাশাপাশি তার জীবনের বিভিন্ন সময়ের দুর্লভ আলোকচিত্রও স্থান পেয়েছে।
নতুন বই : বাংলা একাডেমির তথ্য কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, শুক্রবার মেলার ২৪তম দিনে নতুন বই এসেছে ১৪৬টি এবং ৫৩টি নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ থেকে প্রকাশ হয়েছে হাসান আজিজুল হকের ‘স্মৃতিগদ্য বন্ধন গ্রন্থি’, একুশে বাংলা থেকে প্রকাশ হয়েছে ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেনের ‘ভাষা আন্দোলন অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক ভাষা দিবস’। অবসর থেকে আশা নাজনীনের ‘স্বামীসূত্র’, দিন দুনিয়া (চট্টগ্রাম) থেকে মো. জাফর উল্লাহ সম্পাদিত ‘আধুনিক মালয়েশিয়ার প্রধান রূপকার ড. মাহাথির মোহাম্মদের আত্মজীবনী’, পাঞ্জেরি পাবলিকেশনস এনেছে ইমদাদুল হক মিলনের ‘নিজের পেটে নিজেই হজম’, শিশু কিশোর প্রকাশন এনেছে সেলিনা হোসেনের ‘প্রিয় মানুষ শেখ মুজিব’। রকিব হাসানের ‘ভূত ও গোয়েন্দা’, কালিকলম এনেছে রকিব হাসানের ‘চিলে কোঠার ভূত’, চন্দ্রাবতী একাডেমি এনেছে মঞ্জু সরকারের ‘অচল ঘাটের আখ্যান’, মিজান পাবলিকেশন্স এনেছে ফাল্গুনী হামিদের ‘মহাজাতিক প্রাণীর সাথে’, গ্রন্থকুটির এনেছে ঝর্ণা দাশ পুরাকায়স্থ ‘দুই করবির দিন’। শোভা প্রকাশ এনেছে হাসান হাফিজের ‘১০০ কবির প্রেমের কবিতা’, অন্য প্রকাশ এনেছে ইমদাদুল হক মিলনের ‘মুক্তিযুদ্ধের বাছাই গল্প’, কথাপ্রকাশ এনেছে লুৎফর রহমান রিটনের ‘ভ্রমর যেথায় হয় বিরাগি’, বাংলাদেশ রাইটার্স গিল্ড এনেছে আল মামুন সোহাগের গল্প সংকলন ‘সে প্রথম প্রেম আমার’।
শুক্রবারের আয়োজন : অমর একুশে উদযাপন উপলক্ষে সকালে গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে শিশু-কিশোর সঙ্গীত প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী পাপিয়া সারোয়ার। বিচারকমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে ছিলেন শিল্পী কল্যাণী ঘোষ, সালাহউদ্দীন আহমেদ, কিরণচন্দ্র রায়। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান।
বিকালে গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘ব্যারিস্টার আবদুল রসুল : জীবন ও কর্ম’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ছিল অধ্যাপক লিয়াকত আলীর পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘সংস্কৃতি বিকাশ কেন্দ্র’, শাহ সাদিয়া আফরিন মল্লিকের পরিচালনায় ‘হামিবা সাংস্কৃতিক একাডেমি’ এবং ‘ক্রান্তি শিল্পীগোষ্ঠী’র সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।
আজকের আয়োজন : আজও মেলায় থাকছে শিশু প্রহর। মেলার দ্বার খুলবে বেলা ১১টায়, চলবে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত। সকালে গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অমর একুশে উদযাপন উপলক্ষে শিশু-কিশোর চিত্রাংকন, সঙ্গীত এবং সাধারণ ও উপস্থিত বক্তৃতা প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিশু-কিশোরদের মাঝে পুরস্কার প্রদান করা হবে। বিকালে মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে ‘বাংলাদেশের শিশুসাহিত্য’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন রফিকুর রশিদ।

No comments:

Post a Comment