হবিগঞ্জের
বাহুবলে একটি শিশু কল্যাণ ট্রাস্টে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় একজনকে
পাস করাতে তিনজন প্রক্সি দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরীক্ষার হলে এ চারজনকে
একই বেঞ্চে বসানো হয়েছে। এ পদে পরীক্ষা দেয়া অপর এক পরীক্ষার্থীকে বসানো
হয় অন্য কক্ষে।
বাহুবল উপজেলার সাতকাপন গ্রামে সদ্য প্রতিষ্ঠিত ‘আওলিয়া নূর
শিশু কল্যাণ ট্রাস্ট’-এর শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় এমন দুর্নীতির অভিযোগ উঠে।
এতে পরীক্ষার্থী ও অভিভাকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে,
বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় দীননাথ উচ্চ বিদ্যালয়ে পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা
থাকলেও তা শুরু হয় মাগরিবের পর। পরীক্ষায় প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক
পদে মোট ৭৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। এর মধ্যে প্রধান শিক্ষক পদে পরীক্ষা
দেন মাত্র ৫ জন। তারা হলেন- এমপি কেয়া চৌধুরীর কথিত ভাগিনা শামীনুর রহমানের
স্ত্রী আমিনা খাতুন, ফয়জাবাদ মহাবীর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী
শিক্ষক তৌহিদুল আলম, পুটিজুরী এসসি উচ্চ বিদ্যালয়ের এমপিওভুক্ত শিক্ষক
আবুবকর সিদ্দিক, একই স্কুলের শিক্ষক রূপম আচার্য ও উত্তরসুর গ্রামের হনুফা
খাতুন সুমি। অভিযোগ উঠেছে, প্রধান শিক্ষক পদে আমিনা খাতুনকে পাস করিয়ে দিতে
আবুবকর, রূপম ও তৌহিদুল পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। এরমধ্যে আবুবকর ও রূপম
সরকারি এমপিওভুক্ত স্থায়ী শিক্ষক। আর তৌহিদুল আলম সরকারি রাজস্ব খাতের
শিক্ষক। তারা এখানে পরীক্ষা দেয়ার কথা নয়। পরীক্ষার হলে ওই তিন শিক্ষককে
আমিনার পাশাপাশি একই বেঞ্চে বসানো হয় যাতে আমিনা সব প্রশ্নের উত্তর যথাযথ
দিতে পারেন। আর অপর প্রার্থী হনুফা খাতুনকে রহস্যজনকভাবে অন্য কক্ষে দেয়া
হয়। এ সময় তাদেরকে এক বেঞ্চ থেকে সরিয়ে দিতে ইউএনওকে বললেও তিনি কর্ণপাত
করেননি বলে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা অভিযোগ করেন।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত
শিক্ষক তৌহিদুল আলম শুক্রবার রাতে যুগান্তরকে বলেন, ‘এমন অভিযোগ উঠেছে
নাকি। এটা মিথ্যা। আমরা একই বেঞ্চে চারজন নয় দু’জন পরীক্ষা দিয়েছি। আমার
সঙ্গে সহকারী শিক্ষক পদের একজন প্রার্থী পরীক্ষা দিয়েছেন।’ অভিযোগের বিষয়ে
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, পরীক্ষার হলে ৪ জন
আবেদনকারী একই বেঞ্চে বসার ব্যাপারটি আমার জানা নেই। যারা দায়িত্ব পালন
করেছেন তারাই বিষয়টি জানেন। এদেরকে স্থান পরিবর্তনের বিষয়ে আমাকে কেউ
বলেননি। এ ব্যাপারে উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আবদুল হাই মুঠোফোনে যুগান্তরকে
বলেন, ‘দেখেন শিশু কল্যাণ ট্রাস্ট সরকারি একটি প্রজেক্ট। এ প্রতিষ্ঠানে
শিক্ষক নিয়োগ করতে হলে সরকারই সার্কুলার দেবে এবং তা পত্রিকায় বাধ্যতামূলক
প্রকাশ করতে হবে। এ ছাড়া আমার উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে হলে তা পত্রিকার
পাশাপাশি নোটিশ বোর্ডেও টানানোর কথা। এ ছাড়া আমি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা
কমিটিরও সভাপতি। এ ব্যাপারে আমাকে কেউ কিছু জানায়নি। আমি বিষয়টি জেনে
শিক্ষা অফিসারকে ডেকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি ইউএনওর ওপর দায় চাপান। সুতরাং আমি
এই বিধিবহির্ভূত কথিত নিয়োগের ব্যাপারে নিন্দা ও ধিক্কার জানাই। ভবিষ্যতে
কেউ এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হলে এর দায়ভার আমার উপজেলা পরিষদ নেবে না।’

No comments:
Post a Comment