মেহেদী
হাসান মিরাজের বিদায়ে কাল সাতসকালেই বেরিয়ে এসেছিল বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের
লেজ। দ্রুত গুটিয়ে যাওয়ার শংকা তখন প্রবল। কিন্তু দেশের বিপর্যয়ের মুখে
আগেরদিনের মতোই বুক চিতিয়ে লড়াই করলেন মুশফিকুর রহিম। অসাধারণ ব্যাটিংয়ে
তুলে নিলেন ক্যারিয়ারের পঞ্চম টেস্ট সেঞ্চুরি। তিন অংকের ম্যাজিক ফিগার
ছোঁয়ার পরও থামেননি মুশফিক। লোয়ার অর্ডারদের নিয়ে এগিয়ে নিয়েছেন দলকে।
শেষ
পর্যন্ত শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে রবিচন্দ্রন অশ্বিনের বলে আউট হয়েছেন ১২৭
রানে। কিন্তু তারপরও ভারতের ৬৮৭ থেকে ২৯৯ রান দূরেই থামে বাংলাদেশের প্রথম
ইনিংস। ৩৮৮ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। এরপরও যে বাংলাদেশকে ফলো-অন না করিয়ে
দ্বিতীয়বার ব্যাটিংয়ে নামে ভারত, সেটি কিন্তু মুশফিকের অধিনায়কোচিত ইনিংসের
সৌজন্যেই। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস মুশফিক প্রায় লাঞ্চ পর্যন্ত টেনে নিয়ে
যাওয়ায় বোলারদের বিশ্রাম দেয়ার কথা ভাবতে হয়েছে বিরাট কোহলিকে। তাতেই
নিশ্চিত হয়ে যায় ম্যাচ পঞ্চমদিনে গড়াচ্ছে। কাল বাকি চার উইকেটে বাংলাদেশের
প্রথম ইনিংসে যে ৬৬ রান যোগ হয়েছে তার ৪৬-ই এসেছে মুশফিকের ব্যাট থেকে। নবম
উইকেটে তাসকিনের সঙ্গে ৩৯ রানের জুটি গড়ে দলকে এগিয়ে নেয়ার পাশাপাশি নিজের
একটি রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ করেছেন মুশফিক। টেস্টে তিনি পাঁচটি সেঞ্চুরি করলেন
ভিন্ন পাঁচটি দেশে। বাংলাদেশের আর কোনো ব্যাটসম্যানের এমন কীর্তি নেই।
আগেরদিন বাংলাদেশের চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্টে তিন হাজার রানের
মাইলফলক পেরিয়ে গেছেন তিনি। রোববার সেঞ্চুরি সংখ্যায় সাকিব ও মুমিনুলকে
পেছনে ফেলে এককভাবে উঠে এলেন তিন নম্বরে।
টেস্টে সাকিব ও মুমিনুলের
সেঞ্চুরি চারটি করে। বাংলাদেশের পক্ষে টেস্টে মুশফিকের চেয়ে বেশি সেঞ্চুরি
রয়েছে শুধু মোহাম্মদ আশরাফুল (৬) ও তামিম ইকবালের (৮)। কিন্তু সবচেয়ে বেশি
দেশে সেঞ্চুরির রেকর্ড আগে থেকেই মুশফিকের দখলে। ভারতের আগে মুশফিক তার
প্রথম চারটি টেস্টে সেঞ্চুরি করেছিলেন যথাক্রমে বাংলাদেশ, শ্রীলংকা, ওয়েস্ট
ইন্ডিজ ও নিউজিল্যান্ডের মাটিতে। টেস্টে নিজের প্রিয় প্রতিপক্ষ ভারতের
বিপক্ষে করেছেন সর্বোচ্চ দুটি সেঞ্চুরি। ভারতের বিপক্ষে চার টেস্টে তার
ব্যাটিং গড় সর্বোচ্চ ৬২.৮০। এখন পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া ও পাকিস্তান ছাড়া
বাকি আটটি টেস্টখেলুড়ে দেশেই টেস্ট খেলেছেন মুশফিক। জিম্বাবুয়ে ও দক্ষিণ
আফ্রিকার মাটিতে রয়েছে ফিফটি। শুধু ইংল্যান্ডেই সুবিধা করতে পারেননি।
তারপরও যে কোনো ভেন্যুতে খেলার সামর্থ্যে মুশফিকই দলের সেরা ব্যাটসম্যান।
তামিম আটটি সেঞ্চুরি তিনটি দেশে এবং আশরাফুল ছয়টি সেঞ্চুরি করেছেন মাত্র
দুটি দেশে। সাকিবের চারটি সেঞ্চুরিও এসেছে দুটি দেশ থেকে।
টেস্টে
মুশফিকুরের পাঁচ সেঞ্চুরি
রান প্রতিপক্ষ ভেন্যু সাল
১০১ ভারত চট্টগ্রাম ২০১০
২০০ শ্রীলংকা গল ২০১৩
১১৬ ওয়েস্ট ইন্ডিজ কিংসটাউন ২০১৪
১৫৯ নিউজিল্যান্ড ওয়েলিংটন ২০১৭
১২৭ ভারত হায়দরাবাদ ২০১৭
টেস্টে
মুশফিকুরের পাঁচ সেঞ্চুরি
রান প্রতিপক্ষ ভেন্যু সাল
১০১ ভারত চট্টগ্রাম ২০১০
২০০ শ্রীলংকা গল ২০১৩
১১৬ ওয়েস্ট ইন্ডিজ কিংসটাউন ২০১৪
১৫৯ নিউজিল্যান্ড ওয়েলিংটন ২০১৭
১২৭ ভারত হায়দরাবাদ ২০১৭

No comments:
Post a Comment