জাতীয়
স্বাস্থ্যসেবা (এনএইচএস) সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক চলছিল।
সেখানে স্বাস্থ্য ইস্যুতে কথা বলছিলেন কমিটির সদস্যরা। এ সময় বৈঠকে উপস্থিত
এনএইচএসের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা তার নাস্তার প্লেটে তেলাপোকা দেখতে
পান। পরে তার সমুচার মধ্যেও তেলাপোকা পাওয়া যায়। সোমবার পাকিস্তান সিনেটে
স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ ঘটনা ঘটে।
দ্য ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থায়ী
কমিটির বৈঠককালে এনএইচএসের অতিরিক্ত সচিব হাশিম পোপালজাই তার প্লেটে
তেলাপোকা পরিবেশনের কথা বলেন। এর কিছুক্ষণ পর তার সমুচায় আরেকটি তেলাপোকা
পাওয়া যায়। পরে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে নির্ধারিত আলোচ্যসূচির পরিবর্তে
খাবারের মান এবং খাদ্য প্রস্তুত ও পরিবেশনকারী (ক্যাটারিং) প্রতিষ্ঠানগুলোর
অপরিচ্ছন্নতার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে তীব্র
ক্ষোভের সৃষ্টি হলে স্থায়ী কমিটির সভাপতি সিনেটর সাজ্জাদ হোসেন তুরি বলেন
খাবারে পোকামাকড়ের উপস্থিতি মোটেই সহ্য করা হবে। তেলাপোকা পাওয়ার বিষয়টি
তিনি সিনেট চেয়ারম্যান মিয়া রাজা রাব্বানিকে জানাবেন বলেও জানান সিনেটর
তুরি। এদিকে নাস্তা করার সময় তিনটি তেলাপোকা পেয়েছেন বলে জানান পোপালজাই।
তিনি বলেন, আমি একটি স্যান্ডউইচ খাওয়ার জন্য প্লেট থেকে তুলতেই এর নিচে
একটি তেলাপোকা দেখতে পাই। এরপর সমুচার ভেতরে আরেকটি তেলাপোকা দেখতে পাই।
আরেকটি তেলাপোকা আমার প্লেটের কাছে ছিল। তিনি বলেন, তেলাপোকা পাওয়ার পর আমি
ভালোবোধ করছিলাম না। এমনকি আমি সেখানে এক কাপ চা পর্যন্ত পান করিনি।
বোতলের ছিপি ভালোমতো লাগানো দেখে আমি শুধু পানি পান করেছি।
আমি সিদ্ধান্ত
নিয়েছ সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আমি আর কিছু পান করব না। এদিকে খাবারে
তেলাপোকা পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার অভিযোগ
অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ক্যাটারিং প্রতিষ্ঠানটি। তাদের দাবি, খাবারে এবং
প্লেটে তেলাপোকা ছিল না। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) পার্লামেন্ট
ভবন ঠিকমতো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন না করায় সেখানে পোকামাকড় বাসা বেঁধেছে।
অভিযুক্ত ক্যাটারিং প্রতিষ্ঠানটি পার্লামেন্ট ভবনে পোকামাকড় থাকা এবং
অপরিচ্ছন্নতার বিষয়ে সিডিএকে ২০১৬ সালের ১৪ অক্টোবর একটি লিখিত চিঠিও
দিয়েছিল। তবে সিডিএ বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব দেয়নি। এমনকি তারা পার্লামেন্ট
ভবন পরিচ্ছন্ন করে তা সুবাসিত করার ব্যবস্থা করেনি। এদিকে সিডিএ মুখপাত্র
মাজহার হোসেন বলেছেন, পার্লামেন্ট ভবন পরিচ্ছন্ন করা এবং নিয়মিত সুবাসিত
করার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা করেছে। উল্লেখ্য, পাকিস্তানের সংসদ সদস্যরা
আগে থেকেই তাদের অস্বাস্থ্যকর খাবার পরিবেশন করার অভিযোগ করে আসছেন। এছাড়া
পার্লামেন্টে ইদুরের উপদ্রুব রয়েছে বলেও অভিযোগ তাদের। এসব ইদুর ওয়াইফাইসহ
বিভিন্ন নেটওয়ার্কের ক্যাবল কেটে ফেলে প্রায় সময়েই বিপত্তি তৈরি করে।

No comments:
Post a Comment