Tuesday, February 21, 2017

ট্রাম্পের নতুন নিরাপত্তা উপদেষ্টার নাম ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নতুন নিরাপত্তা উপদেষ্টার নাম ঘোষণা করেছেন। নতুন নিরাপত্তা উপদেষ্টা হয়েছেন লে. জেনারেল এইচআর ম্যাকমাস্টার। সোমবার ট্রাম্প এ ঘোষণা দেন। এর ফলে ম্যাকমাস্টার মিচেল ফ্লিনের স্থলাভিষিক্ত হলেন। খবর বিবিসি ও সিএনএনের। ট্রাম্প তার ফ্লোরিডার বাসভবন মার-এ-লাগোতে দেয়া এ ঘোষণার সময় তার পাশেই ছিলেন ম্যাকমাস্টার। এসময় উপস্থিত ছিলেন ক্যালোগ। এর আগে ট্রাম্প নিরাপত্তা উপদেষ্টা পদে নিয়োগের জন্য অনেকের সাক্ষাৎকার নেন। সেনাবাহিনীর ইন্টারগেশন সেন্টারের প্রধান ম্যাক মাস্টারের  ইরাক, আফগানিস্তানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের দুর্নীতি অনুসন্ধানী এ কর্মকর্তার। এর আগে এ পদে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম পছন্দের ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত ভাইস অ্যাডমিরাল রবার্ট হার্ডওয়ার। তিনি ট্রাম্প প্রশাসনে কাজে অস্বীকৃতি জানানোর পর ম্যাকমাস্টারকেই বেছে নেয়া হল। ম্যাকমাস্টারকে মনোনিত করার পর ট্রাম্প বলেন, গত দুইদিনে তাকে আমি পর্যালোচনা করেছি। মেধাবী ও চৌকষ এ ব্যক্তিটিকে সেনাবাহিনীর সবাই খুবই শ্রদ্ধা করে। নতুন নিরাপত্তা উপদেষ্টা ম্যাকমাস্টার বলেন, আমেরিকার জনগণের স্বার্থ রক্ষার জন্য আমি যেকোনো কিছু করতে প্রস্তত। রাশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ নিয়ে বিতর্ক জোরদারের প্রেক্ষাপটে দায়িত্ব নেয়ার মাত্র ২৪ দিনের মধ্যেই মাইকেল ফ্লিন পদত্যাগ করেন। এরপর  ভারপ্রাপ্ত জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে সাবেক সেনা কর্মকর্তা জোসেফ কেইথ কেলগের নাম ঘোষণা করে হোয়াইট হাউস।
ম্যাকমাস্টার দায়িত্ব নেয়ার পর তিনি ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের চিফ অব স্টাফ পদে ফিরে যাবেন। উল্লেখ্য, বারাক ওবামা প্রশাসনের শেষ দিনগুলোতে রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার জন্য রুশ রাষ্ট্রদূতকে আশ্বাস দিয়েছেন ফ্লিন- এমন অভিযোগ ছিল। তিনি ওই আলোচনার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছেন বলেও কথিত রয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাইকেল ফ্লিন ভোটের প্রচারণার দিনগুলোতে জাতীয় নিরাপত্তা সম্পর্কিত বিষয়গুলোতে ট্রাম্পের পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছেন। কখনও কখনও ট্রাম্পের প্রচার সমাবেশে সূচনা বক্তব্য নিয়েও আসতে দেখা গেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক এই প্রধানকে। যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি দায়িত্বের বাইরের কারও কূটনৈতিক যোগাযোগ করার এখতিয়ার নেই। আর গত বছর শেষ দিকে ফ্লিন যখন রুশ দূতের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, তখনও নতুন প্রশাসনে তার নিয়োগ পাকা হয়নি। পদত্যাগপত্রে ফ্লিন লিখেন, রাশিয়ার দূতের সঙ্গে তার টেলিফোন আলাপের বিষয়ে ‘অসম্পূর্ণ তথ্য’ দেয়া হয়েছিল, তবে সেটা ‘ইচ্ছাকৃত নয়’। আমি বিষয়টি নিয়ে নবনির্বাচিত ভাইস প্রেসিডেন্ট ও অন্যান্যের সঙ্গে শেয়ার করেছিলাম।

No comments:

Post a Comment