Sunday, February 12, 2017

না’গঞ্জে একশ' আবেদনকারীর মধ্যে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা একজন

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় শনিবার থেকে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই শুরু হয়েছে। ৫৩০জন আবেদনকারীর মধ্যে প্রথম দিনে ১৩৯ জনকে ডাকা হয়েছে। এরমধ্যে ১১৪ জন যাচাই-বাছাই কমিটির কাছে তাদের বক্তব্য দিয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনকে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সনাক্ত করা হয়েছে যার নাম প্রকাশ করা হয়নি। আর ২৫জন অনুপস্থিত ছিলেন। সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কক্ষে আবেদনকারীদের বক্তব্য গ্রহন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সোমবার পর্যন্ত আবেদনকারীদের বক্তব্য গ্রহন করা হবে।
অভিযোগ উঠেছে, সদরের একজন মুক্তিযোদ্ধা অবৈধ সুবিধা নিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা থেকে প্রায় দুই শতাধিক লোক দিয়ে ভুয়া আবেদন করিয়েছে। তাদের কেউই মুক্তিযোদ্ধে অংশ গ্রহন করেন নি এবং মুক্তিযোদ্ধ সম্পর্কে কোন ধারণা তাদের নেই। এমন অভিযোগ যাচাই বাছাই কমিটির কাছেও অনেকে জানিয়েছেন। এবিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যাচাই বাছাই কমিটির একজন জানিয়ে বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সাক্ষ্য প্রমান পেলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে তদন্তের স্বার্থে তার নাম কেউ প্রকাশ করেনি। যাচাই বাছাই কমিটির সূত্রে জানা যায়, আবেদনকারীদের মধ্যে অধিকাংশই সঠিক উত্তর দিতে পারেন নি। আবার অনেকেই বলেছেন তারা স্থানীয়ভাবে দেশে প্রশিক্ষণ নিয়ে যুদ্ধ করেছেন। যাচাই-বাছাই কমিটির সভাপতি সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা সেলিম ওসমান যুগান্তরকে জানান, নিয়ম অনুযায়ী আবেদনকারীদের প্রশ্ন করে তাদের বক্তব্য গ্রহন করা হয়েছে। আগামী রোববার ও সোমবার সদর উপজেলায় আবেদনকারীদের বক্তব্য গ্রহন করা হবে। এরপর আমরা সিদ্ধান্ত জানাবো। আমাদের এ কমিটির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ১৫ দিনের মধ্যে জামুকা বরাবর আপিল করা যাবে। অভিযোগের বিষয়ে সেলিম ওসমান জানান, ভুয়া আবেদনকারীর বিষয়ে কমিটি খোঁজ খবর নেবে। যাচাই-বাছাই কমিটিতে আরও উপস্থিত ছিলেন, মুক্তিযোদ্ধা জেলা ইউনিট কমান্ডের কমান্ডার মোহাম্মদ আলী, ডেপুটি কমান্ডার এ্যাড: নুরুল হুদা, কমান্ডার শাহজাহান ভুইয়া (জুলহাস), জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) সদস্য আব্দুস সাত্তার, যুদ্ধকালীন কমান্ডার একেএম ফজলুল হক এবং কমিটির সদস্য সচিব ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাসমিন জেবিন বিনতে শেখ।

No comments:

Post a Comment