দুর্নীতির
মামলায় আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আবদুল
মান্নান খান এবং তার স্ত্রী হাসিনা সুলতানার বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠনের
আদেশ দেয়া হবে আজ। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩ এর বিচারক আবু আহমেদ জমাদারের
আদালত এ আদেশ দেবেন। এর আগে ২২ জানুয়ারি মান্নান খান দম্পতির উপস্থিতিতে
চার্জ গঠন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। ওইদিন শুনানি শেষে আদেশের জন্য ১৯
ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করা হয়। দুদকের আইনজীবী মীর আহমেদ আলী সালাম
যুগান্তরকে বলেন,
আমরা আশাবাদী আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের মধ্য দিয়ে
তাদের বিচার শুরু হবে। সম্পদের তথ্য গোপন ও জ্ঞাতআয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের
অভিযোগে দুদকের করা পৃথক দুটি মামলার চার্জ গঠন শুনানির জন্য অনেক কাঠখড়
পোড়াতে হয় দুদকের আইনজীবীদের। ২০১৪ সালের ২১ আগস্ট মান্নান খানের বিরুদ্ধে
৭৫ লাখ ৪ হাজার টাকার আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করে দুদক।
মামলার ৩ দিনের মাথায় ২৪ আগস্ট মান্নান খান ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন
ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন। অপরদিকে তার
স্ত্রী হাসিনা সুলতানার বিরুদ্ধে ১ কোটি ৮৬ লাখ ৫৩ হাজার টাকার সম্পদের
তথ্য গোপন ও ৩ কোটি ৪৫ লাখ ৫৩ হাজার টাকার জ্ঞাতআয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের
অভিযোগে একই বছরের ২১ অক্টোবর মামলা করে দুদক। এর দু’দিনের মাথায় ২৩
অক্টোবর ঢাকার সিএমএম আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন হাসিনা সুলতানা।
এরপর শুরু হয় মামলার তদন্ত। এ তদন্ত শেষ করতে দুদক প্রায় এক বছর সময় নেয়।
তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ১১ আগস্ট মান্নান খানের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট
দাখিল করে দুদক। চার্জশিটে মান্নান খানের অবৈধ সম্পদের পরিমাণ বেড়ে যায়।
এতে দেখা যায়, তার আয়বহির্ভূত সম্পদের পরিমাণ ২ কোটি ৬৬ লাখ ৭ হাজার টাকা
এবং তিনি সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন ৩১ লাখ ৪৫ হাজার টাকার। তদন্ত শেষে
হাসিনা সুলতানার বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ৯ জুন আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। চার্জশিটে ১ কোটি ৮৬ লাখ ৫৩ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য গোপন ও ৩ কোটি ৩৬ লাখ
৩৭ হাজার টাকার আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে
উল্লেখ করা হয়। ২০১৫ সালের ১১ আগস্ট মান্নান খানের বিরদ্ধে চার্জশিট
দাখিলের পর ৩ সেপ্টেম্বর মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে
বদলি হয়।
এরপর নানা অজুহাতে বিচার শুনানি পেছাতে থাকে। আদালত সূত্র জানায়,
মামলাটি ২০১৫ সালের ২২ নভেম্বর আমলে নেয়ার বিষয়ে শুনানি শেষে বিচারের জন্য
গ্রহণ করা হয়। এরপর বিচার শুনানির জন্য ঢাকার ৩ নম্বর বিশেষ জজ আদালতে
বদলি করা হয়। ৭ ডিসেম্বর বিচারিক আদালত মামলায় আসামি মান্নান খানের
বিরুদ্ধে চার্জ গঠন শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন। নির্ধারিত দিন চলতি বছরের
৩ জানুয়ারি তার পক্ষে সময়ের আবেদন করা হয়। ওই দিন দুদক প্রসিকিউশন শুনানি
করতে জোর চেষ্টা চালালেও আসামির সময় আবেদনের কারণে তা সম্ভব হয়নি। এভাবে
পরবর্তী সময়ে ১৭ জানুয়ারি, ২৪ জানুয়ারি, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২৪ এপ্রিল, ৩১
জুলাই ও সর্বশেষ ৩০ অক্টোবর তার বিরুদ্ধে চার্জ শুনানির কথা থাকলেও তা
হয়নি। অপরদিকে মান্নান খানের স্ত্রী হাসিনা সুলতানার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদের
মামলা বিচারের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে। এ মামলাটি বিচারের জন্য ২০১৫
সালের ১১ মে ঢাকা মহানগর আদালতে বদলি হয়। এরপর ৭ নম্বর বিশেষ জজ আদালতে
চার্জ গঠন শুনানির মাধ্যমে বিচার শুরুর জন্য পাঠানো হয়। কিন্তু দফায় দফায়
সময় আবেদন করায় তার বিরুদ্ধেও বিচার শুরু করা সম্ভব হয়নি। সর্বশেষ গত বছরের
৩০ অক্টোবর মান্নান খান ও তার স্ত্রী আদালতে হাজির হলেও আইনজীবীর
ব্যস্ততার কারণে ওই দিন চার্জ শুনানি হয়নি। অবশেষে ২২ জানুয়ারি দু’জনের
উপস্থিতিতে সেই শুনানি হয়। এখন অপেক্ষা আদেশের মধ্য দিয়ে বিচার শুরুর।

No comments:
Post a Comment