সাংবাদিক
আবদুল হাকিম শিমুল হত্যা মামলার প্রধান আসামি সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর
মেয়র হালিমুল হক মিরুসহ ছয় আসামির রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার
সকাল ১০টায় শাহজাদপুর সিনিয়র চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক
হাসিবুল হক শুনানি শেষে সাত আসামির মধ্যে ছয়জনের পাঁচ দিন করে রিমান্ড
মঞ্জুর করেন। এদিকে ছাত্রলীগ নেতা বিজয় মাহামুদের ওপর হামলা মামলায় সাত
দিনের রিমান্ড চাওয়া হলে আদালত তা নামঞ্জুর করেন। ছয়জনের মধ্যে রয়েছেন-
মিরুর ভাই হাসিবুল হক মিন্টু,সম্প্রতি বহিষ্কৃত আওয়ামী লীগ সদস্য কেএম
নাসির উদ্দিনও। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহজাদপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত)
মনিরুল ইসলাম জানান, আদালতে দুই মামলায় সাত দিন করে রিমান্ডের আবেদন করা
হয়। শুনানি শেষে সকাল ১০টায় আদালত হত্যা মামলায় পৌর মেয়র হালিমুল হক মিরুসহ
ছয় আসামির পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
তবে ছাত্রলীগ নেতা বিজয়
মাহামুদের ওপর হামলা মামলারও সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হলে আদালত তা
নামঞ্জুর করেন। এর আগে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সকাল ৯টার দিকে মীরুসহ
আটজনকে সিরাজগঞ্জ কারাগার থেকে আদালতে নেয়া হয়। আদালত চত্বরে একজন নির্বাহী
ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পুলিশ ও র্যাবের সমন্বয়ে ৩ স্তরের নিরাপত্তা
বলয় গড়ে তোলা হয়। যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতেই এ ব্যবস্থা নেয়া
হয়েছে। গত ৫ ফেব্রুয়ারি মিরুকে ঢাকার শ্যামলী থেকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা
পুলিশ। নিরাপত্তাজনিত কারণে শাহজাদপুরের পরিবর্তে সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত
সিনিয়র চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোরশেদ আলমের আদালতে হাজির করে ৭ দিনের
রিমান্ড চাওয়া হয়। বিচারক শাহজাদপুরের আমলি আদালতে রিমান্ড শুনানির জন্য
আজকের দিন ধার্য করে তাকে জেলহাজতে পাঠায়। ২ ফেব্রুয়ারি পিন্টু কালিবাড়ী
মোড় থেকে ছাত্রলীগ নেতা বিজয় মাহমুদকে তুলে নিয়ে হাত-পা ভেঙে ভ্যানে বাড়ি
পাঠিয়ে দেয়। প্রতিবাদে বিজয়ের সমর্থকরা মিছিল নিয়ে মিরুর বাড়িতে হামলা করে।
এ সময় মেয়র ও তার ভাই মিন্টুর নেতৃত্বে সশস্ত্র বাহিনী মিছিলকারীদের ওপর
গুলি চালায়। ছবি তুলতে গেলে গুলিবিদ্ধ হন সাংবাদিক শিমুল। পরদিন ঢাকায়
নেয়ার পথে মারা যান তিনি।

No comments:
Post a Comment