কেরানীগঞ্জের
রাজেন্দ্রপুরের নতুন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের কারা ক্যন্টিন থেকে শুরু
করে সব জায়গায় পদে পদে হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বন্দীরা। এর মধ্যে
কারাগার থেকে দেয়া খাবারের মানে ‘সন্তুষ্ট’ হতে না পেরে বেশির ভাগ বন্দীই
এখন কারা ক্যান্টিনের খাবারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। এই সুযোগে কারা
ক্যান্টিনের দায়িত্বে থাকা কারারক্ষীরা দৈনন্দিন প্রায় প্রতিটি খাবারই
বাজারমূল্যের দ্বিগুণ দামে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ দিকে
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার নেছার আলমকে জেল সুপার পদে পদোন্নতি দিয়ে
গাজীপুর জেলা কারাগারে বদলি করা হয়েছে। অপর দিকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয়
কারাগারের জেলার মাহাবুব আলম আবারো ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার হিসেবে
যোগদান করেছেন বলে কারাগারের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে। গতকাল
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী নয়া দিগন্তকে অভিযোগ
করে জানান, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক বন্দী ও তাদের স্বজনদের ঘিরে
প্রতিদিন জামিনে মুক্তি, থাকা, খাওয়াসহ নানা খাতে লাখ লাখ টাকার অনিয়ম হলেও
এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের যেন নজর নেই। তাদের বক্তব্য মতে,
কারাগারের বিভিন্ন স্পটে ডিউটি বণ্টনের দায়িত্বে (লাইছ) থাকা কারারক্ষীদের
‘জিম্মি’ করে রাশেদুল ইসলাম রাশেদ টাকা দাবি করছেন। তাকে টাকা দেয়া না হলে
তিনি ‘ভালো’ কোনো জায়গায় ডিউটি দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ব্যাপারে গত
শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টায় কারারক্ষী রাশেদুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে
তিনি নয়া দিগন্তকে বলেন, আমি যদি ডিউটি বণ্টনের নামে কারারক্ষীদের কাছ থেকে
টাকা আদায়ই করতাম, তাহলে আমার প্রশাসন কি দেখত না? আমাদের তো প্রশাসন আছে।
আমার মনে হয়, যে বা যারাই আমার নামে এসব অভিযোগ দিয়েছে, হতে পারে সেই
কারারক্ষী বা ব্যক্তি শত্রুতা করে এটা বলতে পারেন। পরে তথ্য দেয়া
কারারক্ষীর মোবাইল নাম্বার চান তিনি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কারাগারের গেটে
জামিনে মুক্তি পাওয়া বন্দীদের মধ্যে কেউ কেউ হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার
হলেও এ মুহূর্তে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের কারা ক্যান্টিন ঘিরেই সবচেয়ে
বেশি অনিয়ম হচ্ছে। বন্দীদের অভিযোগ, কারা ক্যান্টিন থেকে বিক্রি হওয়া প্রায়
সব ধরনের খাবারই বিক্রি হচ্ছে দ্বিগুণ দামে। কারণ একটাই, সরকারি বরাদ্দের
খাবারের মান ভালো নয়। তাই বাধ্য হয়ে বন্দীরা তাদের পিসিতে (অ্যাকাউন্ট) জমে
থাকা টাকা দিয়ে কারা ক্যান্টিন থেকে খাবার গ্রহণ করছেন। এর মধ্যে ডিম ভাজি
৩০ টাকা আর রান্না ডিম নাকি ৫০ টাকা। এ ছাড়া অন্যান্য খাবারের মধ্যে কোনো
কোনোটির দাম তিনগুণও আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে স্পিড ক্যান ৫০ টাকা আর
সবজি এক কেজির দাম ৮০ টাকা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে এই কারাগারের
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে দুদক আতঙ্ক বিরাজ করছে। চার-পাঁচ মাস আগে
দুদকের জালে আটকা পড়েছিলেন সাবেক জেলার নেছার আলমের (অর্ডারলি) বডিগার্ড
নাদিম। পরে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার জাহাঙ্গীর কবিরের
সুপারিশে ওই যাত্রায় কারারক্ষী রেহাই পান। পরে তাকে তাৎক্ষণিক জামালপুর
কারাগারে বদলি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে তাকে কী অপরাধে দুদক
কর্মকর্তারা আটক করেছিলেন,
তা ওই সূত্রটি নিশ্চিত করে জানাতে পারেননি। এ
ব্যাপারে গাজীপুর কারাগারের জেল সুপার নেছার আলমের সাথে ঘটনার সত্যতা জানতে
বৃহস্পতিবার রাতে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
বন্দীদের কাছে কারা ক্যান্টিন থেকে দ্বিগুণ দামে খাবার বিক্রি প্রসঙ্গে
জানতে ঢাকা বিভাগের ডিআইজি প্রিজন তৌহিদুল ইসলামের সাথে বৃহস্পতিবার রাতে
যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, জেলার মাহাবুব আলম এই
কারাগারে যোগ দেয়ার আগে তিন বছরেরও বেশি সময় অনেকটা সুনামের সাথেই দায়িত্ব
পালন করেছেন। তবে সাবেক জেলার নেছার আলমের সময়ে পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন
রোডের কারাগারেই বেশি অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এর মধ্যে বন্দীর সাথে স্বজনদের
ভিআইপি স্টাইলে দেখা-সাক্ষাৎ থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ ছিল
বন্দী ও তাদের স্বজনদের মুখে মুখে। গতকাল পর্যন্ত নতুন এ কারাগারে সাড়ে
সাত হাজার বন্দী অবস্থান করছে। তবে পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের কারাগার
থেকে এই কারাগারে বন্দীরা অনেকটা আরামেই থাকতে পারছেন।

No comments:
Post a Comment