ফ্রিজে
থাকা মিষ্টি পানীয় শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এই পানীয়তে প্রচুর
পরিমাণে চিনি থাকে, যা নিয়মিত পানে শিশুদের রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা
বাড়িয়ে দেয়। এতে করে শিশুরা মুটিয়ে যায় এবং দেখা দেয় নানা রোগ-বালাই।
খবর
বিবিসির। সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, ফ্রিজের মিষ্টি পানীয় পানে শিশুর
দাঁতের ক্ষয় হয়, স্থূলতা বাড়ে এমনকি বয়ঃসন্ধিকালে মেয়েদের নানা সমস্যা
দেখা দেয়। যখন এ পানীয় পান করা হয়, তখন শরীরে অ্যানার্জি বেড়ে যায় এবং
হরমোনে আকস্মিকভাবে ইনসুলিন সরবরাহের মাত্রাও বাড়ে কয়েক গুণ। এভাবে শক্তি
বিস্ফোরিত হয়ে সেটা খুব অল্পসময় স্থায়ী হয় এবং দ্রুত ওঠা-নামা করে।
শিশুদের ক্ষেত্রে এটা আরো প্রবলভাবে কাজ করে। এজন্য অভিভাবকরা শিশুকে
চাঙ্গা রাখতে সকালের টিফিনে চিনিযুক্ত খাবার দিয়ে থাকেন। গবেষণায় দেখা যায়,
ফ্রিজের মিষ্টি পানীয়র কারণে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের এক তৃতীয়াংশ এবং আট
বছর বয়সীদের প্রায় অর্ধেকের দুধ দাঁতের ক্ষয় হয়। শুধু তাই নয় মেয়েরা
বয়ঃসন্ধিকালে অতিরিক্ত চিনি খেলে তাদের স্তন ক্যান্সারেরও ঝুঁকি বাড়ে।
ভবিষ্যতেও এ বিষয়টি নিয়ে জোরালোভাবে গবেষণা চালানোর প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে
করেন বিজ্ঞানীরা। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করেন, এক ক্যান ঠাণ্ডা
পানীয়তে ৩৬ গ্রামের সমান চিনি রয়েছে, যা পান করা শিশুর স্বাস্থ্যে জন্য
মোটেই নিরাপদ নয়। এতে শিশুদের স্থূলতার মাত্রা বাড়ে কয়েক গুণ।
তবে গবেষকরা
শিশুদের পরিমাণমতো চিনি খাওয়ার কথা বলেছেন যেমন: ৪-৬ বছরের শিশুরা প্রতিদিন
৫ চা চামুচ চিনি (১৯ গ্রাম) খাবে। ৭-১০ বছরের শিশুরা খাবে ৬ চা চামুচ (২৪
গ্রাম) ও ১১ বছরের ওপরের শিশুরা খাবে ৮ চা চামুচ (৩০ গ্রাম) চিনি। গবেষণার
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, টিনেজাররা (১৩-১৫ বছরের) এসব পানীয়র মাধ্যে তাদের গড়
চাহিদার চেয়ে ৫% অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ করছে, যা শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য
মোটেই সুখবর নয়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মাত্রাতিরিক্ত চিনিতে
শিশুর শরীরের চর্বির মাত্রা বেড়ে যায়। তবে এটা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব! শিশুদের
খাদ্যভ্যাসের পরিবর্তন, প্রতিদিন পুষ্টিকর গড় ক্যালোরিযুক্ত খাবার গ্রহণ
এবং নিয়মিত শারীরিক কসরতের মাধ্যমে।

No comments:
Post a Comment