ভারতীয়
গরুর বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে বর্ডার গার্ড অব
বাংলাদেশ (বিজিবি)। এতে নিয়মিত দায়িত্ব পালনে তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম
ব্যাহত হচ্ছে জানিয়ে বিজিবির দাবি, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় সীমান্তে তাদের
কর্মকাণ্ড বেশ বেড়েছে। নিয়মিত কাজের বাইরে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ
কাজেও তাদের ব্যস্ত থাকতে হয়। সীমান্তে স্থাপিত গবাদিপশুর বিট বা খাটাল
দিয়ে ভারতীয় গরু প্রবেশের ওপর বিজিবির নিয়মিত নজরদারি- এরকমই একটি কম
গুরুত্বপূর্ণ ও অলাভজনক কাজ। এতে সময় যাচ্ছে বেশি। অথচ সরকারের রাজস্ব আয়
হচ্ছে কম। এ ছাড়া খাটালের বাইরে অবৈধ পথেও গরু ঢুকছে জানিয়ে বিজিবি বলছে,
এসব নজরদারিতেও অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন রাখতে হচ্ছে। এ অবস্থায় বাহিনীর
সদস্যদের ওপর চাপ কমাতে ভারতীয় গরুর বাংলাদেশে আসার ক্ষেত্রে বিজিবি আপত্তি
জানিয়েছে বলে স্বীকার করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র। এ
ছাড়া সম্প্রতি রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত চোরাচালান প্রতিরোধে আঞ্চলিক টাস্কফোর্স
কমিটির সভার কার্যবিবরণীতে বিজিবির আপত্তির বিষয় উল্লেখ আছে। সূত্রমতে,
ভারত সরকার তার দেশ থেকে গরু পাচার বন্ধে বিএসএফকে কড়া নজরদারিতে রাখতে
নির্দেশ দিয়েছে। এ জন্য সম্প্রতি তারা এ ব্যাপারে বেশ তৎপর। এর বিপরীতে
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে গরুর মাংসের বেশ চাহিদা রয়েছে। এ চাহিদা
বিবেচনায় রেখে বাংলাদেশে ভারতীয় গরুর প্রবেশ শর্তসাপেক্ষে বৈধতা দেয়া
হয়েছে। মূলত এ কারণেই সীমান্তে খাটাল বসানো হয়েছে। গরু আমদানি কার্যক্রম
সুষ্ঠভাবে পরিচালনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সীমান্তে এই বিট বা খাটাল
স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে।
ভারত থেকে সীমান্ত পার হয়ে গরু আসার পর তা এই বিট
বা খাটালে রাখা হয়। এরপর যাবতীয় আইনি কার্যক্রম শেষ করে সরকারি রাজস্ব
পরিশোধের পর বাজারে তোলা হয়। এ ছাড়া অবৈধ পথেও শত শত গরু আসছে। এ নিয়ে
বিএসএফের কড়া অবস্থানে সীমান্তে প্রাণহানির মতো অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটছে।
মূলত প্রাণহানি ঠেকাতে, বৈধতা সত্ত্বেও নতুন করে সীমান্তে গবাদিপশুর খাটাল
অনুমোদনে আপত্তি জানাচ্ছে বিজিবি। এ ছাড়া টাস্কফোর্সের সভায় ‘সীমান্ত
এলাকায় গবাদিপশুর বিট বা করিডোর স্থাপন’ বিষয়ে একটি আলোচনার প্রস্তাব রাখা
হয়। সভায় দাবি করা হয়, গরু আমদানি কম হলে সার্বিক দিক থেকে তা দেশের জন্য
কল্যাণকর হবে। দেশে নতুন নতুন খামার গড়ে উঠবে এবং কর্মসংস্থান বাড়বে। গরু
আমদানির ফলে মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচার বেড়ে যাচ্ছে বলে
সভায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এ প্রসঙ্গে রাজশাহী সেক্টর কমান্ডার বিজিবি
কর্নেল গাজী মুহম্মদ সাজ্জাদ বলেন, সীমান্ত এলাকায় গবাদিপশুর খাটাল কমিয়ে
আনা যেতে পারে। কারণ খাটালের কারণে বিজিবির ওপর চাপ বেড়ে গেছে। ফলে অনেক
সময় নিয়ন্ত্রণ করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ছে। তিনি বলেন, কিছু দিন গরু আসা কমিয়ে
দেয়ায় অস্ত্র, হেরোইন, ফেনসিডিল, গাঁজাসহ অন্যান্য পণ্য আটকের পরিমাণ
বৃদ্ধি পেয়েছে। কারণ গরু আসা বেশি হলে সেদিকে নজর দেয়ার কারণে অন্যদিকে
তেমন নজর দেয়া সম্ভব হয়ে ওঠে না। এ ছাড়া গরু কম এলে বর্ডার কিলিংও কমে
যাবে।

No comments:
Post a Comment