দুই
বাঙালি বিচারপতির রায়ে জেলে যেতেই হচ্ছে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী পদের
দাবিদার ‘চিন্নাম্মা’ শশীকলাকে। জয়ললিতার অবর্তমানে মুখ্যমন্ত্রীর মসনদে
আপাতত বসা হল না তার। জয়ললিতার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী ছিলেন চিন্নাম্মা। তার চার
বছরের সশ্রম কারাদণ্ড হয়েছে। দুর্নীতির মামলায় জয়ললিতার সহচর ‘চিন্নাম্মা’
শশীকলা নটরাজনকে মঙ্গলবার সকালে দোষী সাব্যস্ত করেন সুপ্রিমকোর্ট। ফলে তিনি
১০ বছর ভোটে দাঁড়াতে পারবেন না। ভারতীয় নির্বাচনী নিয়ম অনুযায়ী, দু’বছর বা
তার বেশি জেল হলে কারাদণ্ডের মেয়াদ শেষের পর ছয় বছর ভোটে দাঁড়ানো যায় না।
স্বাভাবিকভাবেই তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৌড় থেকে শশী পুরোপুরি ছিটকে
গেলেন। আদালত শশীকলাকে দ্রুত নিন্ম আদালতে আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ
দিয়েছেন। এছাড়াও আত্মসমর্পণ করতে হবে এ মামলায় দোষী সাব্যস্ত জয়া, শশীকলার
দুই আত্মীয় সুধাকরণ ও ইল্লাভারসিকে। উল্লেখ্য, জয়ললিতা তার পোষ্যপুত্র
সুধাকরণের বিয়েতে বিপুল খরচ করার পরই আয়বহির্ভূত মামলায় অভিযুক্ত হয়েছিলেন।
জয়ললিতার মৃত্যুর পর তার শূন্য আসনে কে বসবেন, তা নিয়ে গত এক সপ্তাহ ধরে
শশীকলা ও পন্নির সেলভমের মধ্যে তীব্র সংঘাত চলছিল। সুপ্রিমকোর্টের এ রায়ে
উচ্ছ্বসিত পন্নির সেলভম শিবির। আপাতত পন্নিরই মুখ্যমন্ত্রী হবেন বলে
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা। সকালে রায় ঘোষণা হতেই সন্ধ্যার মধ্যে দলের বেশ
কয়েকজন সদস্য শশীকলা শিবির ছেড়ে পন্নিরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরিস্থিতি
সামাল দিতে রায় ঘোষণার পরই পন্নির সেলভমকে দল থেকে বহিষ্কার করেছেন
দলনেত্রী শশীকলা। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তামিল রাজনীতির গতি-প্রকৃতি
বলছে ভারতীয় শীর্ষ আদালতের রায়ের পর মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে থেকে যাওয়ার দিকে
অনেকটাই এগিয়ে গেলেন পন্নির। তবে শশীও তার শিবিরের ঘনিষ্ঠ এআইএডিএমকে নেতা
এডাপ্পিডি পালানিস্বামীকে মুখ্যমন্ত্রী করার জন্য রাজ্যপাল সি বিদ্যাসাগর
রাওয়ের কাছে নাম সুপারিশ করতে চলেছেন। ইতিমধ্যেই শশীকলা শিবিরের ১১৯ জন
সদস্যের স্বাক্ষর নিয়ে রাজ্যপালের কাছে সরকার গঠনের দাবি করতে যাচ্ছেন
পালানিস্বামী। ইতিমধ্যে দলনেতাও নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।
নয়াদিল্লিতে
সুপ্রিমকোর্টে যখন রায় ঘোষণা হচ্ছিল তখন চেন্নাইয়ের গোল্ডেন বে রিসোর্টে
তার শিবিরের সদস্যদের সঙ্গে ছিলেন শশী। রিসোর্টের বাইরে প্রচুর পুলিশ
মোতায়েন রয়েছে। সূত্রের খবর, শিগগিরই নিন্ম আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন
শশীকলা। সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ১০ কোটি টাকা জরিমানাও দিতে হবে
তাকে। এ রায়কে সুপ্রিমকোর্টের ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা বলে দাবি করেন সরকারি
আইনজীবীরা। গত বছরের ডিসেম্বরে তামিল রাজনীতির সম্রাজ্ঞী জয়ললিতার মৃত্যুর
পর ভারপ্রাপ্ত মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তড়িঘড়ি শপথ নেন পন্নির সেলভম। এর আগেও
দু’বার জেলযাত্রার সময় জয়ললিতা তার কাঁধেই মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব
ছেড়েছিলেন। জয়ার আমলে কখনই সরাসরি রাজনীতিতে অংশ না নিলেও তার মৃত্যুর পরই
এআইএডিএমকে’র প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন বান্ধবী শশী। এরপর থেকেই পন্নির
সেলভমকে সরিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসতে ঝাঁপিয়ে পড়েন শশীকলা।

No comments:
Post a Comment