বিধি
অনুযায়ী যে কোনো সরকারি চাকরিতেই ৩০ শতাংশ পদে নিয়োগ পাবেন মুক্তিযোদ্ধা
পরিবারের সদস্যরা। কোনো চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য যোগ্য
প্রার্থী পাওয়া না গেলে সেই পদে লোক নিয়োগ বন্ধ থাকে। কারণ, সংরক্ষিত কোটার
পদে সাধারণ প্রার্থীদের নিয়োগ দেয়া হয় না। দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষিত
মুক্তিযোদ্ধা কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়ায় বিগত ৭টি বিসিএসে প্রথম
শ্রেণীর ৪২৩টিসহ এক হাজার ৭৫৪টি পদ খালি রয়েছে। এছাড়া নানা কারণে গত এক
বছরে শূন্য পদ বেড়েছে ২৫ শতাংশ। এতে প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এ
অবস্থায় সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে
মেধা তালিকায় শীর্ষে থাকা সাধারণ প্রার্থীদের দিয়ে ওই সব পদ পূরণের
সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব আজকের (সোমবার)
মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করার জন্য আলোচ্যসূচিতে রাখা হয়েছে। এছাড়া
আলোচ্যসূচিতে রয়েছে- প্রাণীকল্যাণ আইন,
শিশু (সংশোধন) আইন, বাংলাদেশ
কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড (সংশোধন) আইন, বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ
কেন্দ্র আইন এবং ৩৫তম বিসিএসের মুক্তিযোদ্ধা, মহিলা ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী
কোটার অপূরণকৃত পদে ৩৬তম বিসিএসের প্রাধিকার কোটার প্রার্থীদের দিয়ে পূরণ
সংক্রান্ত প্রস্তাব। সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে
অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে উল্লিখিত বিষয়গুলো অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন
করা হতে পারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। বর্তমানে
প্রথম শ্রেণীর চাকরিতে বেশিরভাগ পদই কোটার ভিত্তিতে পূরণ করা হয়। প্রথম
শ্রেণীর চাকরির মাত্র ৪৫ শতাংশ পূরণ হয় মেধার ভিত্তিতে। বাকি ৫৫ শতাংশই
পূরণ করা হয় কোটার ভিত্তিতে। এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৩০ শতাংশ, মহিলা
কোটা ১০ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কোটা ৫ শতাংশ এবং জেলা কোটা বা সাধারণ
কোটা ১০ শতাংশ। বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি) সম্প্রতি জনপ্রশাসন
মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছে, কোটা পদ্ধতি অনুসরণ করতে গিয়ে ২৮তম বিসিএসে ৯১টি,
২৯তম বিসিএসে ৪৫টি, ৩০তম বিসিএসে ৮৫টি, ৩১তম বিসিএসে ৩৬টি, ৩২তম বিসিএসে
১৩টি, ৩৩তম বিসিএসে প্রথম শ্রেণীর ৯১টি, দ্বিতীয় শ্রেণীর ৮৫টি এবং ৩৪তম
বিসিএসে প্রথম শ্রেণীর ৬২টি ও দ্বিতীয় শ্রেণীর এক হাজার ২৪৬টি পদ শূন্য
রয়েছে। এসব পদের উপযুক্ত প্রার্থী মেধা কোটায় থাকার পরও তাতে নিয়োগের
সুপারিশ করতে পারেনি পিএসসি। এ কারণে বিসিএসে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় উপযুক্ত
প্রার্থী না পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট পদ সংরক্ষণ না করে মেধা কোটায় নিয়োগ
দেয়ার সুপারিশের সুযোগ চায় পিএসসি।
শুধু বিসিএসেই নয়, অন্যান্য সরকারি
চাকরিতেও এ সুযোগ চায় তারা। এর কারণ হিসেবে তারা জানায়, ৩১ অক্টোবর
মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হিসাব অনুযায়ী ২০১৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সরকারের
শূন্য পদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৯ হাজার ৫৯১টি, যা আগের বছরের তুলনায় ২৫
শতাংশ বেশি। গত বছর সরকারের বিভিন্ন দফতর-অধিদফতরের শূন্য পদ ছিল ২ লাখ ৪৭
হাজার ৬৪৮টি। ২০১৩-১৪ সালে সরকারের শূন্য পদ ছিল ২ লাখ ৪২ হাজার ৪১২টি।
এসব বিবেচনায় নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে মেধা
তালিকায় শীর্ষে থাকা প্রার্থীদের মাধ্যমে পদ পূরণের উদ্যোগ নেয়া হয়। ২০১০
সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন সংস্থাপন মন্ত্রণালয় (বর্তমান জনপ্রশাসন
মন্ত্রণালয়) সরকারি ও আধা-সরকারি দফতর, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত
সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান এবং কর্পোরেশনের চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের
জন্য নির্ধারিত কোটা পূরণ করা সম্ভব না হলে এসব পদ খালি রাখার বিষয়ে অফিস
আদেশ জারি করেছিল। বিষ প্রয়োগে প্রাণী হত্যায় ২ বছর কারাদণ্ড : যৌক্তিক
কারণ ছাড়া কোনো প্রাণীকে বিষ প্রয়োগে হত্যা বা বিকলাঙ্গ করলে ২ বছর
কারাদণ্ড বা ২০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে হবে। একই
সাজা হবে কোনো প্রাণীর অঙ্গ কর্তনের মাধ্যমে শারীরিক কাঠামোর পরিবর্তন করা
হলে। পাশাপাশি কোনো প্রাণীর প্রতি অকারণে নিষ্ঠুর ও নির্দয় আচরণ করলে ৬
মাসের কারাদণ্ড বা ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে। উল্লেখিত বিধান রেখে
প্রাণিকল্যাণ আইন-২০১৭ এর খসড়া চূড়ান্ত করেছে সরকার। প্রস্তাবিত আইনে বলা
হয়েছে,
আইনানুগ কর্তৃত্ব বা যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া কোনো ব্যক্তি যদি
বিষাক্ত বা অনিষ্টকর ওষুধ বা খাদ্য কোনো গৃহপালিত, পোষা বা আবদ্ধ প্রাণীকে
খাওয়ান বা প্রয়োগ করেন এবং এ কারণে প্রাণীটির মৃত্যু হয়, বিকলাঙ্গ বা
কর্মক্ষমতা নষ্ট হয়, তাহলে তিনি অপরাধী হবেন। এছাড়া গৃহপালিত ও আবদ্ধ
প্রাণীর মালিক, তত্ত্বাবধানকারী বা তাদের নিয়োজিত অন্য কোনো ব্যক্তি
চিকিৎসা ও নিরাময়ের উদ্দেশ্য ছাড়া প্রাণীর সংবেদনশীল টিস্যু অথবা অঙ্গের
কর্তন বা শারীরিক কাঠামো পরিবর্তন ঘটায় বা ঘটানোর চেষ্টা করেন, তাহলে অপরাধ
বলে গণ্য হবে। সংশোধন হচ্ছে শিশু আইন : উচ্চ আদালতের নির্দেশের পর ‘শিশু
আইন’ সংশোধন করছে সরকার। ২০১৩ সালের শিশু আইনের অস্পষ্টতা দূর করাসহ
নতুনভাবে ধারা-উপধারা যুক্ত করা হচ্ছে। সংশোধনীতে আলাদা শিশু আদালত গঠনসহ
এটি সার্বক্ষণিক চালু রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি থানায় নারী পুলিশ
কর্মকর্তা নিয়োগ, ‘শহর শিশু কল্যাণ বোর্ড’, অধিদফতর ও বিভাগীয় পর্যায়ে
শিশু অধিকার সুরক্ষা অধিশাখা গঠন করার বিধান রাখা হয়েছে। বলা হয়েছে,
প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির সঙ্গে ‘শিশু অপরাধী’র বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়া যাবে
না। পাশাপাশি একই মামলায় শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিকে আসামি করা হলে, সে
ক্ষেত্রে শিশু আদালতেই শিশুদের বিচার করতে হবে।

No comments:
Post a Comment