এক
পরিবারে তিনজন ভাষাসৈনিক। পিতা, পুত্র ও পুত্রবধূ। তারা হলেনÑ প্রফেসর
সাইদুর রহমান, পুত্র শফিক রেহমান ও শফিক রেহমানের স্ত্রী তালেয়া রেহমান।
ভাষা আন্দোলনের সময় শফিক রেহমান ও তালেয়া রেহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে
অর্থনীতি বিভাগের সহপাঠী ছিলেন। তালেয়া রেহমান ভাষা আন্দোলনে অংশ নিয়ে
কারাবরণ করেছেন। ১৯৫২ সালে শফিক রেহমানের বাবা সাইদুর রহমান ছিলেন ঢাকা
কলেজের দর্শন বিভাগের প্রফেসর। একই সাথে হোস্টেল সুপারিনটেন্ডেন্ট। প্রফেসর
সাইদুর রহমান কলেজ থেকে একটি সাইক্লোস্টাইল মেশিন নিয়ে এসে বসান তাদের ৩৭
নম্বর বেচারাম দেউড়ির বাসায় সুপারিনটেন্ডেন্ট কোয়ার্টার্সে। এ মেশিনের
সাহায্যে ভাষা আন্দোলন বিষয়ে বান্ডেলের পর বান্ডেল লিফলেট, প্রচারপত্র তৈরি
করে ছড়িয়ে দেয়া হয় ঢাকাসহ সারা দেশে। ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে
ফেব্রুয়ারি/ আমি কি ভুলিতে পারি’ কবিতাটি আবদুল গাফফার চৌধুরী লিখেছেন শফিক
রেহমানদের ৩৭ নাম্বার বেচারাম দেউড়ির বাসা থেকে।
ভাষাসৈনিক আবদুল মতিনসহ
অনেক নেতা তখন আত্মগোপনে ছিলেন শফিক রেহমানদের ওই বাসায়। আবদুল গাফফার
চৌধুরী আহত অবস্থায় চার মাস ছিলেন এ বাসায় শফিক রেহমানের ঘরে। ভাষা
আন্দোলনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এবং কার্যক্রম পরিচালিত হয় এ বাসা
থেকে। ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে তাই অতি নিবিড়ভাবে জড়িয়ে আছে শফিক রেহমানদের
তখনকার ৩৭ নম্বর বেচারাম দেউড়ির বাসা এবং তাদের পরিবার। ইস্কাটন গার্ডেনের
বাসায় পয়লা ফেব্রুয়ারি শফিক রেহমানের সাথে একান্ত আলাপচারিতায় উঠে আসে এসব
তথ্য। সাংবাদিকতা এবং বাংলাদেশের গণমাধ্যম জগতে শফিক রেহমান আলোচিত একটি
নাম। বর্তমানে তার বয়স ৮২। তালেয়া রেহমানেরও বয়স একই। এক সময় তুমুল জনপ্রিয়
সাপ্তাহিক যায়যায়দিনের প্রতিষ্ঠাতা এবং এ পত্রিকার এরশাদবিরোধী ভূমিকার
কারণে ১৯৮৬ সালে শফিক রেহমানকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়। লন্ডন গিয়ে তিনি
প্রথমে স্পেকট্রাম রেডিওর পরিচালক এবং পরে বিবিসিতে সাংবাদিকতা করেন।
এরশাদের পতনের পর আবার দেশে ফিরে শফিক রেহমান যায়যায়দিন প্রকাশ করেন। ১৯৫২
সালে শফিক রেহমানের বাবা সাইদুর রহমান ঢাকা কলেজের শিক্ষক ছিলেন। যিনি
পরবর্তীকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক পদে যোগ দেন।
প্রফেসর সাইদুর রহমান কলকাতা ইসলামিয়া কলেজের শিক্ষক থাকাবস্থায় বঙ্গবন্ধু
শেখ মুজিবুর রহমান তার সরাসরি ছাত্র ছিলেন। ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করে
শফিক রেহমান বলেন, ১৯৫২ সালে আমার বাবা সাইদুর রহমান ঢাকা কলেজের দর্শনের
শিক্ষক ছিলেন। কলেজের মেইন হোস্টেলের সুপারিনটেন্ডেন্টের দায়িত্ব পালন
করেন। হোস্টেলটি ছিল বেগমবাজার এলাকায় হাসিনবাগ, মোস্তফা হাউজ এবং নূরপুর
ভিলায়। আর আমাদের বাসা ছিল তখন বেগমবাজারেই, ৩৭ বেচারাম দেউড়িতে। এটা তখন
কলেজের কোয়ার্টার ছিল।
৩৭ বেচারাম দেউড়ি বাসার ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি এবং
ভাষা আন্দোলনে তার বাবা সাইদুর রহমানের অবদান বিষয়ে শফিক রেহমান বলেন, ঢাকা
কলেজের তখনকার ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল ছিলেন প্রফেসর আশকর আলী। তার অনুমতি
নিয়ে বাবা সাইক্লোস্টাইল মেশিনটি নিয়ে আসেন কলেজ থেকে। মেশিনটি রাখা হয়
আমার ঘরে। আবদুল মতিনসহ যারা আমাদের বাসায় আত্মগোপন করেন, তারা সিদ্ধান্ত
নেন ২১ ফেব্রুয়ারি পুলিশের বর্বরতার খবর, রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলার
অধিকার, বাংলা ভাষার মর্যাদা এবং আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার খবর সংবলিত লিফলেট ও
প্রচারপত্র সারা দেশে ছড়িয়ে দেয়ার। কারফিউর মধ্যেও আমাদের বাসায় এসব
কার্যক্রম চলে। আমি নিজে লিফলেট ও প্রচারপত্র লিখেছি। বাবা আমাদের এসব কাজে
উৎসাহ দিতেন। সব ধরনের সাহায্যের আশ্বাস দিতেন। আন্দোলনের স্বার্থে
লিফলেট-প্রচারপত্র প্রকাশ ও প্রচারের জন্য ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা
সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হলো। সাধারণ বাঙালিরা শুধু চাঁদা নয়, সব ধরনের
সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিলেন। ফলে বান্ডেলের পর বান্ডেল লিফলেট-প্রচারপত্র
তৈরি হতে লাগল আমাদের বাসায় রাখা সাইক্লোস্টাইল মেশিনের সাহায্যে। বিভিন্ন
প্রতিষ্ঠানের ছাত্র ও অন্য কর্মীরা এসব লিফলেটসহ প্রচারপত্র সারা দেশে
পৌঁছে দিতে লাগল। আমার ভাই দিপু ঝুঁকি নিয়ে লিফলেটসহ একবার চট্টগ্রামে
যায়। এভাবে সারা দেশে পৌঁছে যায় ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ছাত্রদের ওপর পুলিশের
নৃশংসতার বিস্তারিত খবর; একই সাথে ভাষা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান।
শফিক রেহমান বলেন, বাসায় আমার জন্য একটি রুম ছিল। তাতে দু’টি বেড পাতা ছিল।
ভাষা আন্দোলনে অংশ নেয়া অনেক ছাত্র আমার রুমে থেকেছেন বিভিন্ন সময়। আবদুল
মতিনসহ অনেক নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি আত্মগোপন করেছেন আমাদের বাসায়। আবদুল
গাফফার চৌধুরী থাকত আরমানিটোলায় বান্ধব কুটিরে। ১৯৫২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি
সে আহত হয়। আমি তাকে তুলে নিয়ে আসি আমাদের বাসায়। চার মাসের বেশি সময় তখন
সে ছিল আমার সাথে।
আমি, আমার মা তার সেবা ও দেখাশোনা করি। আমাদের এ বাসায়
থেকেই সে তখন ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ কবিতাটি রচনা
করে। কবিতাটি অবশ্য ২১ ফেব্রুয়ারির ঘটনার পরে লেখা হয়। ১৯৫২ সালের ২১
ফেব্রুয়ারি দিনের স্মৃতিচারণ করে শফিক রেহমান বলেন, দিনটি ছিল মেঘলা, মাঝে
মাঝে হালকা বৃষ্টি হচ্ছিল। বেশ ঠাণ্ডা। ঢাকা কলেজ থেকে আমরা অনেক ছাত্র
সেদিনের কর্মসূচিতে অংশ নেই। ঢাকা কলেজ তখন ছিল ফুলবাড়িয়ায়। মার্চে আমাদের
ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। যা হোক, ২১ ফেব্রুয়ারির হত্যাকাণ্ড
এবং নিহতের সংখ্যা নিয়ে ঢাকাসহ সারা দেশে ব্যাপক গুজব চলতে থাকে। ২৩
ফেব্রুয়ারি আমি এবং আবদুল গাফফার চৌধুরী পাশপাশি ছিলাম মিছিলে। কার্জন হল
থেকে আমাদের মিছিলকে ধাওয়া করে পুলিশ। আব্দুল গনি রোড থেকে রাস্তা ক্রস করে
আমি আর গাফফার চৌধুরী দৌড়ালাম। পুরনো হাইকোর্টের দিকের ফুটপাথে গেলাম।
ব্যাটনচার্জে আহত হয় আবদুল গাফফার। সে রাস্তায় পড়ে গেল। পায়ের গোড়ালিতে
আঘাত লাগে। আমার কাঁধে ভর দিয়ে সে আর আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্টস
বিল্ডিংয়ের দিকে গেলাম। বর্তমান ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ যেটি, সেটিই ছিল আর্টস
বিল্ডিং। এর সামনেই ছিল আমতলা। কোনো মতে একটি রিকশা পেলাম। নাজিমুদ্দিন
রোড দিয়ে আহত গাফফার চৌধুরীকে নিয়ে ৩৭ বেচারাম দেউড়ির বাসায় ফিরলাম। এরপর
চার মাস সে ছিল আমাদের সাথে। শফিক রেহমান বলেন, ভাষা আন্দোলনের সময় আব্দুল
লতিফের লেখাÑ ‘ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়’ খুবই জনপ্রিয় ছিল। এ
ছাড়া কাজী নজরুল ইসলামের ‘কারার ওই লৌহ কপাট, ভেঙ্গে ফেল কররে লোপাট’, সলিল
চৌধুরীর ‘নওজোয়ান, নওজোয়ান’ গান খুব প্রেরণা জোগায় আমাদের। এরপর আবদুল
গাফফার চৌধুরীর লেখা ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’
কবিতাটিতে শহীদ আলতাফ মাহমুদ সুর দেয়ার পর ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। ১৯৫৪ সালে
কবি হাসান হাফিজুর রহমানের একুশে সঙ্কলনও বড় ভূমিকা রাখে আন্দোলনের পক্ষে।
তার নাম আর শোনা যায় না।
শফিক রেহমানের স্ত্রী তালেয়া রেহমান। বর্তমানে তার
বয়সও ৮২ বছর। তিনি অসুস্থ এবং লন্ডনে চিকিৎসাধীন। ভাষা আন্দোলনে তালেয়া
রহমানের অংশগ্রহণের বিষয়ে জানতে চাইলে শফিক রেহমান উঠে গিয়ে তালেয়া
রেহমানের লেখা সৌরভে গৌরবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বইটি নিয়ে আসেন। এরপর বই
থেকে ‘নির্বাচন, জেল ও এক বালতি চা’ নিবন্ধটি বের করে পড়তে বলেন। এরপর তিনি
নিজেই আবার কথা বলা শুরু করেন। শফিক রেহমান বলেন, ১৯৫২ সালের ২১
ফেব্রুয়ারির মর্মান্তিক ঘটনা ঘটলেও আন্দোলন ওই সময়ই শেষ হয়ে যায়নি। বাংলাকে
রাষ্ট্রভাষার মর্যাদার আসনে বসাতে ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যায়
ছাত্রসমাজ। ১৯৫৬ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাকে পাকিস্তানের সংবিধানে
রাষ্ট্রভাষা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয় উর্দুর সাথে। শফিক রেহমান বলেন, আমি
১৯৫২ সালে ঢাকা কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করার পর ওই বছরই জুনে ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ে ইকোনমিক্সে ভর্তি হই। অন্য দিকে তালেয়া একই বিভাগে ভর্তি হয়
১৯৫৩ সালে দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী হিসেবে। এভাবে সহপাঠী হিসেবে তার
সাথে আমার পরিচয় এবং ১৯৫৭ সালে এম এ পাস করার পর তার সাথে আমি বিয়েবন্ধনে
আবদ্ধ হই। ভাষা আন্দোলনে তালেয়া রেহমানের অংশগ্রহণ বিষয়ে শফিক রেহমান বলেন,
তালেয়া তখন থাকত চামেলি হাউজে। বর্তমানে এটি রোকেয়া হল।
চামেলি হাউজ
সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের সাথে অ্যাটাচড ছিল। ১৯৫৪ সালে তালেয়া প্রগতিশীল
ছাত্র ইউনিয়ন থেকে সলিমুল্লাহ মুসলিম হল ছাত্রসংসদের সদস্য নির্বাচিত হন।
কবি শামসুর রাহমান, বোরহান উদ্দিন খান জাহাঙ্গীরও তখন ওই ছাত্রসংসদের সদস্য
ছিলেন তার সাথে। বর্তমান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ছিলেন ওই
ছাত্রসংসদের সভাপতি। তিনি ছাত্র ইউনিয়ন থেকে নির্বাচিত হন। ১৯৫২ সাল এবং এর
পরবর্তী ভাষা আন্দোলনের প্রতিটি পর্যায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
মেডিক্যাল কলেজ, মিটফোর্ড মেডিক্যাল কলেজ, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজসহ বিভিন্ন
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদের অংশগ্রহণ ছিল বড় ফ্যাক্টর। আর সলিমুল্লাহ
মুসলিম হল ছাত্রসংসদের একজন নির্বাচিত সদস্য হিসেবে ছাত্রীদের উদ্বুদ্ধকরণে
বিশেষ ভূমিকা পালন করেন তালেয়া রেহমান। তালেয়া রেহমান তার বইয়ে ‘নির্বাচন,
জেল ও এক বালতি চা’ শীর্ষক নিবন্ধে লিখেছেনÑ ১৯৫৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি
আমার জীবনের স্মরণীয় দিন। ১৯৫৩ সালে ১৪৪ ধারা ছাত্রছাত্রীদের দমিয়ে রাখতে
পারলেও ১৯৫৫ সালে ছাত্রছাত্রীরা সিদ্ধান্ত নেন ১৪৪ ধারা ভাঙতে হবে। ১৯৫৫
সালের ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্টস
বিল্ডিংয়ের আমতালায় জ্বালাময়ী বক্তৃতা দিতে শুরু করেন ছাত্রনেতারা। এস এ
বারি এটি, সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ, গাজিউল হক, হাসান হাফিজুর রহমান, আবুল মাল
আবদুল মুহিত তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন। আমতলার সমাবেশে ছেলেদের সাথে
মেয়েরাও যোগ দেয়। ১৯৫৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ভোরেই চামেলি হাউজ (রোকেয়া হল)
থেকে সবাই বেরিয়ে পড়লাম। একযোগে গিয়ে সবাই হাজির হলাম আমতলায়। আর্টস
বিল্ডিং ঘিরে দাঁড়িয়ে ছিল খাকি পোশাকে শত শত পুলিশ। ছাত্রনেতারা জ্বালাময়ী
বক্তৃতা শুরু করলেন। ক্রমে ছাত্রছাত্রী বাড়তে লাগল। মিটফোর্ড কলেজ,
ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকেও শিক্ষার্থীরা যোগ দিলো। এক পর্যায়ে শুরু হলো
পুলিশের ব্যাটনচার্জ আর টিয়ার শেলের আক্রমণ। অনেকে আহত হলো। শ’খানেক ছাত্র
আটক করা হলো। প্রথমে মেয়েদের আটক করেনি। অনেক মেয়ে লাইব্রেরিতে আশ্রয় নিল।
আমি সিদ্ধান্ত নিলাম এত ছেলেদের যখন আটক করেছে তখন আমাদের পালালে চলবে না।
এরপর আমিসহ কয়েকজন ছাত্রী লাইন ধরে স্বেচ্ছায় পুলিশের ভ্যানে গিয়ে উঠলাম।
তালেয়া রেহমান লিখেছেন, ৩০ জনের মতো ছাত্রী পুলিশের গাড়িতে ওঠে। এরপর তাদের
প্রথমে লালবাগ থানায় এবং সেখান থেকে সেন্ট্রাল জেলে পাঠিয়ে দেয়া হয়। বেশ
কয়েকদিন তারা জেলে কাটান। ভাষা আন্দোলনের জন্য জেলজীবনের অভিজ্ঞতার বিবরণ
রয়েছে তার লেখায় তালেয়া রেহমানের সাথে। কামরুন্নাহার লাইলি, প্রতিভা
মুৎসুদ্দি ও হালিমা খাতুন জেলে ছিলেন। প্রতিভা মুৎসুদ্দি ও হালিমা খাতুন
পরে একুশে পদকে ভূষিত হন। তালেয়া রেহমানের বাবা ছিলেন উচ্চপদস্থ সরকারি
কর্মকর্তা। বাবার চাকরির সূত্রে কলকাতায় ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে লেখাপড়া শুরু
করেন।
দেশ বিভাগের পর প্রথমে চট্টগ্রামের ড. খাস্তগীর স্কুল, পরে করাচির
সেন্ট্রাল উইমেন্স কলেজ, চটগ্রাম কলেজে পড়া শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি
হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন শেষে তিনি করাচির সেন্ট্রাল উইমেন্স কলেজে
শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। এরপর বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসে সাংবাদিকতাসহ
বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের অধিকারী তালেয়া রেহমানের জীবনের বেশির ভাগ সময়
কেটেছে বিদেশে। তিনি ডেমোক্র্যাসিওয়াচের প্রতিষ্ঠিতা নির্বাহী পরিচালক
হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বর্তমানে। অন্য দিকে শফিক রেহমান ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন শেষে যোগ দেন ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড
অ্যাকাউন্ট্যান্টস ইন ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলসে। বর্তমানে তার পরিচিতি
সাংবাদিক লেখক হিসেবে হলেও বাংলাদেশ, জাপান, ইংল্যান্ডসহ বিভিন্ন আরব দেশে
নামকরা অনেক প্রতিষ্ঠানে অ্যাকাউন্ট্যান্ট হিসেবে চাকরির দীর্ঘ অভিজ্ঞতা
রয়েছে। স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় লন্ডনে অবস্থানকালে তিনি বিচারপতি আবু সাঈদ
চৌধুরীর সাথে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন মুক্তিযুদ্ধের প্রতি বিদেশী সমর্থন
আদায়ের ক্ষেত্রে।

No comments:
Post a Comment