Sunday, February 26, 2017

বদরুলের উপস্থিতিতে খাদিজার সাক্ষ্য, যুক্তিতর্ক ১ মার্চ

সিলেটে কলেজ ছাত্রী খাদিজা বেগম নার্গিসের ওপর বর্বর হামলা মামলার যুক্তিতর্ক অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১ মার্চ। রোববার মূখ্য মহানগর হাকিম সাইফুজ্জামান হিরোর আদালতে আসামি বদরুল আলমের উপস্থিতিতে ভিকটিম খাদিজা সাক্ষ্য দেয়ার পর আদালত এই তারিখ ধার্য করেন। এদিন আদালতে বদরুলের সামনেই বর্বর হামলার বর্ণনা দেন খাদিজা। প্রায় ১০ মিনিটের বর্ণনায় উঠে আসে বদরুলের বর্বর হামলার আদ্যপান্ত। এসময় কাঠগড়ায় থাকা বদরুল বার বার চিৎকার করার চেষ্টা করলে আদালত তাকে থামিয়ে দেন। পরে আদালত থেকে বেরিয়ে যাবার সময় বদরুল নিজেই নিজের ফাঁসি দাবি করে চিৎকার করতে থাকেন। আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি মাহফুজুর রহমান এ তথ্য জানান। এর আগে রোববার সকাল ১০টায় বাড়ি থেকে আদালতের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন খাদিজা। একটি নোহা গাড়িতে করে খাদিজাকে আদালতে নিয়ে আসেন তার পরিবারের লোকজন। এসময় খাদিজার সঙ্গে ছিলেন পিতা মাসুক মিয়া, চাচা কুদ্দুস মিয়া, মামা আব্দুল বাছিত ও ফুফু আখতারুন্নেছা। খাদিজার ওপর হামলা মামলার একমাত্র আসামি বদরুল আলমকেও আজ আদালতে হাজির করা হয়। ফলে হামলার ঘটনার প্রায় চার মাস পর আজ প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হবেন বদরুল ও খাদিজা। এর আগেও খাদিজাকে সাক্ষী দেয়ার জন্য আদালতে তলব করা হলেও চিকিৎসকের ছাড়পত্র না পাওয়ায় আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি তিনি। গত ২৯ নভেম্বর এই মামলার একমাত্র আসামি বদরুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত।
এর আগে ৮ নভেম্বর শাহপরাণ থানার এসআই হারুনুর রশিদ আদালতে অভিযোগপত্র দেন। পরবর্তীতে ১৫ নভেম্বর শুনানি শেষে আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। গত ৫ অক্টোবর বদরুলকে আদালতে হাজির করা হলে হামলার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। ওইদিন আদালতে নিয়ে যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বদরুল চিৎকার করে বলতে থাকে, ‘আমার ফাঁসি হোক। খাদিজার জয় হোক।’ গত ৩ অক্টোবর এমসি কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা দিয়ে বের হওয়ার পর হামলার শিকার হন স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী খাদিজা বেগম নার্গিস। শাহজালাল প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতা বদরুল আলম চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে খাদিজাকে। বর্বর হামলার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমগুলোতে ছড়িয়ে পড়লে দেশে বিদেশে তোলপাড় শুরু হয়। মুমূর্ষু অবস্থায় প্রথমে খাদিজাকে সিলেটের ওসমানী হাসপাতাল এবং পরবর্তীতে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। পরবর্তীতে পুনর্বাসনের জন্য সাভারের সিআরপিতে পাঠানো হয় খাদিজাকে। প্রায় ৫ মাস চিকিৎসার পর চিকিৎসকরা ছাড়পত্র দিলে গত শুক্রবার সিলেটের গ্রামের বাড়ি ফিরেন খাদিজা। অপরদিকে, খাদিজার ওপর বর্বর হামলাকারী ছাত্রলীগ নেতা বদরুল গ্রেফতারের পর আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দেয়। বদরুল বর্তমানে কারাবন্দি রয়েছে।

No comments:

Post a Comment