চুয়াডাঙ্গার
কলেজ শিক্ষক মাহবুল ইসলাম সেলিম তার শশুর মৃত্যুর খবর পেয়ে সুদুর
চট্রগ্রাম থেকে বিমানযোগে আসেন ঢাকায়। পরে ঢাকা থেকে একটি প্রাইভেটকার নিয়ে
রওয়ানা দেন চুয়াডাঙ্গার পথে। কিন্তু বিপত্তি মানিকগঞ্জ পর্যন্ত এসে। ঢাকা
থেকে আসতে গিয়ে বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় শ্রমিক সংগঠনের পিকেটিং এর
মুখে বাধাগ্রস্ত হতে হয় তাকে। মানবিক কারণে ছাড়া পেয়ে মানিকগঞ্জ পর্যন্ত
আসতে পেরেছেন। এসেই শ্রমিক সংগঠনের বাধার মুখে। কোন ভাবেই তাকে যেতে দিচ্ছে
না। পরে পুলিশের সহায়তায় মানিকগঞ্জ থেকে মুক্ত হতে পারলেও সামনের
ব্যারিকেড নিয়ে মহা টেনশনে কলেজ শিক্ষক সেলিম। আদৌ শশুরের জানাযায় শরীক হতে
পারবেন কি না সেটা অনিশ্চিত। এরকম হাজার হাজার মানুষের ভোগান্তির চিত্র
ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে। সরেজমিনে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড
এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে শত শত মানুষের দুর্ভোগ চিত্র।
মিশুক মুনীরসহ ৫ জন
নিহতের ঘটনায় গত বুধবার চুয়াডাঙ্গার বাস চালক জামির হোসেনের যাবজ্জীবন
কারাদণ্ডের প্রতিবাদে শ্রমিক সংগঠনের ডাকে সড়ক অবরোধে নাকাল হয়ে পড়েছে
হাজার হাজার যাত্রী। মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় শ্রমিক সংগঠনের বিভিন্ন
নেতাকর্মীরা সকাল থেকে পিকেটিং করতে থাকে। দুরপাল্লার কোনো যানবাহন চলাচল
করেনি ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে। এছাড়া জেলার অভ্যন্তরীণ সড়ক গুলোতেও কোনো ধরনের
যাত্রীবাহী বাস চলাচল করতে দেখা যায়নি। ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে বিভিন্ন
যানবাহনে ভেঙ্গে ঝক্কি ঝামেলা উপেক্ষা করে কোনোমতে মানিকগঞ্জ পর্যন্ত আসতে
সক্ষম হলেও পাটুরিয়া কিংবা আরিচা পর্যন্ত যেতে কোনো ধরনে যানবাহন না পেয়ে
চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। বাধ্য হয়ে মানিকগঞ্জ থেকে পাটুরিয়া পর্যন্ত
২৭ কিলোমিটার পর্যন্ত মানুষজন পায়ে হেঁটে পাটুরিয়ার পথে গন্তব্যে যান।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের মানিকগঞ্জ শাখার সভাপতি বাবুল সরকার
জানান, যেহেতু এই অবরোধ কর্মসুচি কেন্দ্রীয় ভাবে আহবান করা হয়েছে। সেহেতু
কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের বাইরে তারা অবরোধ কর্মসুচি প্রত্যাহার করে নিতে পারে
না।

No comments:
Post a Comment