Thursday, February 23, 2017

এবারের একুশেতে ওই ছেলেটি কি নাজিম উদ্দিনের কবরেই গিয়েছিল?

Many men, Many minds- ইংরেজি এই প্রবাদটির জন্ম কবে জানি না, হয়তো সহস্রাব্দকাল কিংবা তারও আগে, অথচ এখনও কেমন খাঁটি, নির্ভুল ঘোষণা করছে নিজেকে। আমার পড়া টপ টেন প্রবাদের এটি একটি। সত্যিই তো, রাজার মনে রাজ্যটা যেমন, ফকিরের দৃষ্টিতে সেটা সম্পূর্ণ আলাদা। রাজা ভালোবাসে প্রজাকে এবং ভালোবাসাটা কৃত্রিমই। ফকির ভালোবাসে ভিক্ষাদাতাকে এবং এই ভালোবাসা তার নিখাদ। ঘোর গাঁয়ের ভূমি-মজুরের বউ ভাবে, পৃথিবীর সব সংসারেই বুঝি চার-পাঁচ সের ধান উঠানে শুকোতে দেয়া হয়, সন্ধ্যায় ঘরে তোলা হয় দু’-তিনটি মুরগি, শতছিন্ন শাড়িতে সুঁচের জোড়াতালি দেয়া হয় আর ধনী মানে ধানের পুঞ্জটা একটু বড় হওয়া। গুলশান-বনানীর ধনিক শ্রেণীর স্ত্রীদের কাছে সংসারের অর্থ- স্কাই ইজ দ্য লিমিট। এ তো গেল অর্থনৈতিক ও অবস্থানগত বৈষম্য থাকলে দুটি মাথা আলাদা হওয়ার কথা। অন্যভাবে বয়স, শিক্ষা, অভিজ্ঞতা, পরিবেশ, রাষ্ট্রব্যবস্থা, সংস্কৃতি, ধর্ম ইত্যাদি অনেক ফ্যাক্টরও পৃথিবীবাসীর মানসিক গঠনকে কোটি কোটি ভাগে বিভক্ত করে রেখেছে। আমি একবার এক বন্ধুর প্রক্সি দিয়েছিলাম, একটি বেসরকারি কলেজের স্নাতক শ্রেণীর পরীক্ষার কিছু খাতা কেটেছিলাম। সেদিন ভালোভাবেই বুঝে গিয়েছি- মাথা কত প্রকার ও কী কী? প্রবাদটি আমাকে আবারও মুগ্ধ করে।
এই মুগ্ধতার সঙ্গে মিশেছে নির্মল হাসি। বেলুনে অতিরিক্ত বাতাস ঢোকালে যেমন সেটা ফেটে যায়, হাসির গমকে সহকর্মী আসিফ ও আমার তেমন পেট ফুলে ঢোপ, আরেকটু হলেই ফাটতাম। কে হাসালো? উত্তরাঞ্চলের এক উপজেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার কর্মকর্তা সে। ছুটিতে এসেছিল ঢাকায়, যুগান্তরের ক্যান্টিনে জমেছিল জমপেশ আড্ডা। হাসির খোরাকগুলো পাঠকও পাবেন একটু পর, তার আগে আমাদের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে প্রশ্নটা করে নিই। এই যে নতুন প্রজন্ম, নতুন প্রজন্ম বলে চিল্লাচ্ছি, তাদের সঙ্গে কোনোদিন কথা বলে দেখেছেন কি, কীভাবে বেড়ে উঠছে তারা? যে উপজেলাটির কথা বলছি, পানি নিয়ে কাজ করছে ব্রিটেনের এমন একটি সংস্থা ‘ইউকে ওয়াটার’-এর স্টাডিতে পাওয়া গেছে, সেটি বাংলাদেশের দরিদ্রতম অঞ্চল। দারিদ্র্যেরও প্রকারভেদ থাকে- অর্থনৈতিক দারিদ্র্য, চিন্তার দারিদ্র্য, সংস্কৃতির দারিদ্র্য, ভাষার দারিদ্র্য, কত কী! ‘ইউকে ওয়াটার’ এই এলাকার অর্থনৈতিক দারিদ্র্যের কথাই বলেছে নিশ্চয়ই, আমার অতি প্রিয়ভাজন এই কর্মকর্তা জানাল সেখানকার তরুণ প্রজন্মের শিক্ষা ও চিন্তার দারিদ্র্যের কথা। দারিদ্র্যসীমার কত নিচে তারা, তার কোনো তল নেই। কারও সঙ্গে দেখা অথবা পুনঃদেখা হওয়ার জন্য শুধু বেঁচে থাকলেই চলে, হয়ে যায় দেখা। আমিও বাঁচতে চাই আরও অনেকদিন, উপজেলাটির এখনকার তরুণ-তরুণীদের যে কারও সঙ্গে তাহলে দেখা হয়ে যাবে কখনও, পরিণত বয়সেও কি তারা আমাকে আবারও করবে বিনোদিত? হ্যাঁ, সম্প্রতি ‘জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০১৭’ উপলক্ষে এই উপজেলায়ও আহ্বান করা হয়েছিল রচনা প্রতিযোগিতা। ‘খ’ গ্রুপে অংশ নিতে পেরেছে নবম ও দশম শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীরা। উপজেলার চারটি হাইস্কুলের সবচেয়ে মেধাবী, সর্বাধিক ধীশক্তিসম্পন্ন, সৃজনশীল ছাত্রছাত্রীদের মধ্য থেকে বাছাই করা ১৭ জন অংশ নিয়েছে এই প্রতিযোগিতায়, বিষয়- একুশের চেতনা। তো এই কর্মকর্তা ছিলেন একমাত্র বিচারক। তিনি উপর মহলের চাপে যার কপালে তৃতীয় স্থান অধিকারীর তিলক এঁকেছেন, সে লিখেছে- ২১ ফেব্রুয়ারির কালরাত্রে পাকিস্তানি বাহিনী ৩০ লাখ মানুষকে গুলি করে হত্যা করেছিল! আরেকজন লিখেছে, ২০ ফেব্রুয়ারির রাতে বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন দেখেছিলেন, বাংলা ভাষাকে হত্যা করা হয়েছে। সকাল বেলা লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমে পড়ে। সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং তরুণটির কথা দিয়ে শেষ করি, লিখেছে- মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ১৯৫২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি বলেছিলেন, Urdu and urdu shall be the state language of Pakistan, খাজা নাজিম উদ্দিন ঠিক পরদিন এটার বাংলা অনুবাদ করেছিলেন- উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা। পাঠক, বাক্য গঠন ও বানানগুলো কিন্তু আমার, প্রতিযোগীদের ভাবটাই শুধু প্রকাশ করেছি অবিকল। এই হল অবস্থা! ১৭ প্রতিযোগীর কারও লেখায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অথবা ঢাকা মেডিকেল কলেজের উল্লেখ নেই। অর্থাৎ চেতনা অনেক পরে- ঘটনা কী, এর পটভূমিই বা কী, কোথায় ঘটেছে, কারা ঘটিয়েছে, শহীদই বা হলেন কারা- এসবের বালাই নেই। ‘গ’ গ্রুপে অংশ নিয়েছিল কলেজের ছাত্রছাত্রীরা, বিষয় ছিল- শিক্ষার গুণগত মান। এক ছাত্র লিখেছে- শিক্ষা খুব ভালো জিনিস, গুণও একটি ভালো জিনিস! আমাদের আড্ডা শেষ হলে আমি সিদ্ধান্ত নিই, এবার ২১ ফেব্রুয়ারিতে শহীদ মিনারে যাওয়ার পথে খাজা নাজিম উদ্দিনের কবরটা জেয়ারত করব আগে। ভাষা আন্দোলনের শুরুটা হয়েছিল ১৯৪৮ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি। ওইদিন পাকিস্তান কনস্টিটুয়েন্ট অ্যাসেম্বলিতে উর্র্দুর পাশাপাশি বাংলাকেও রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার দাবি করেছিলেন নির্বাচিত সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত।
প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলীসহ এই দাবির তীব্র প্রতিবাদ করেছিলেন যারা, নাজিম উদ্দিন তাদেরই একজন। আবার ’৫২-এর একুশে ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ নির্বিচার গুলি চালানোর সময় জিন্নাহ মরে ভূত, এই নাজিম উদ্দিনই ছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। অর্থাৎ সালাম-বরকতদের হত্যার দায় মূলত তারই। তাতে কী! এত বড় একজন অনুবাদক, সম্মান দেখাতেই হয়! আর তার কবর তো বঙ্গবন্ধু ও জিয়ার কবরের চেয়েও দৃশ্যমান! দৃষ্টিনন্দন কবরটি রাজধানীর একটি ক্রিম জায়গায় অবস্থিত, তা-ও আবার সোহরাওয়ার্দী-ফজলুল হকের লাগোয়া। মহান নেতা নন? জিয়ার মাজার স্থানান্তরের ব্যাপারে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের মনোবাসনা থেকে থেকে জেগে ওঠে। নাজিম উদ্দিনের কবরটি যে এদেশের শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি জগতের নাভিকেন্দ্রে অস্তিত্ব ঘোষণা করছে, এই দলটির গবেষণা সংস্থা সিআরআই (Centre for Research and Information)-এর নথিতে নেই বুঝি এই তথ্য। থাকবে কেন? জিয়া ফ্যাক্টর, নাজিম উদ্দিন তো নন। আমি প্রস্তাব করছি, দোয়েল চত্বর থেকে বইমেলায় যাওয়ার রাস্তার যে জায়গাটায় নাজিম উদ্দিনের কবর সরল ও সমান্তরাল রেখায় মিশেছে, সেখানে খুঁটি গেড়ে একটি স্থায়ী নির্দেশিকা লাগানো হোক, যেখানে লেখা থাকবে- দাঁড়াও পথিক বর তিষ্ট ক্ষণকাল, একটু ডানে শুয়ে আছে এক মহা দিকপাল! আমি আরও প্রস্তাব করছি, ‘একুশের চেতনা’ রচনা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী ওই প্রতিযোগীকে সিআরআই-এর লিড রিসার্চার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হোক। তিনি বদরুদ্দীন উমরের চেয়েও ভাষা আন্দোলনের বড় গবেষক!
২. এসব কী হচ্ছে দেশে? তরুণ প্রজন্মের কাছে শহীদ দিবস অথবা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাটা আসলে কী? জাতীয় দিবসগুলোয় গালে জাতীয় পতাকার আল্পনা এঁকে ঘুরে বেড়ানো অথবা পাকিস্তানিদের একচোট গালিগালাজ করা? ফিডব্যাকের মাকসুদ আমাকে একদিন বলেছিলেন- এত যে বলি ‘চেতো না, চেতো না’, চেইত্যাই থাকে। হায়রে চেতনা! আমার এক বান্ধবীর নাম ছিল চেতনা, মারা গেছে। বেঁচে থাকলে বলতাম- অ্যাই, তোকে নিয়ে এত মাতামাতি কেন রে? একটা মিছিল যাচ্ছে। গগনভেদী স্লোগান- মানি না, মানি না। এক পথচারী স্লোগানধারীদের একজনকে ডেকে জিজ্ঞেস করলেন- কী মানেন না ভাই? সে স্লোগান তুলল- জানি না, জানি না! আরেকটু বলি। সালমান রুশদির ফাঁসির দাবিতে বিশ্বময় যখন স্লোগান আর স্লোগান, আমি তাদের সঙ্গে শরিক হওয়ার আগে ‘সাটানিক ভার্সেস’ বইটা একটু পড়ে দেখতে চাইলাম। আমি যা পড়তে চাই, সেটা পেয়ে যাবই কী যাব। সম্ভবত বাংলাদেশে আমার হাতেই প্রথম একটি কপি আসে বইটির। ছাত্রলীগের এক সাবেক সহকর্মী লস এঞ্জেলেস থেকে পাঠিয়েছিল। পড়ে দেখলাম, মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগার যথেষ্ট উপাদান রয়েছে সেখানে, আহত মুসলমান তার শাস্তি চাইবেই। কিন্তু কথা সেটা নয়। কথা হচ্ছে, রুশদির ফাঁসির দাবিতে তোপখানা রোড দিয়ে একটি মিছিল যাচ্ছিল, আমি একজনকে ডেকে বললাম, ভাই সালমান রুশদিটা কে? সে বলল, ইহুদি নাছারা! জিজ্ঞেস করলাম, তার দোষটা কী? বলল, নবীকে নিয়ে একটা বাজে কবিতা লিখেছে। পাঠক জানেন নিশ্চয়ই, সাটানিক ভার্সেস সালমান রুশদির ৫০০’রও অধিক পৃষ্ঠার ভিন্ন ফরম্যাটের চতুর্থ উপন্যাস। ধারণা করি, উপরে যে তরুণদের কথা বলা হয়েছে, তারা ছাত্ররাজনীতি, আরও খোলাসা করে বললে ছাত্রলীগ বা ছাত্রদলের সঙ্গে এখনও যুক্ত হয়নি। এরপর প্রশ্ন আসবে দুটি। এক. ওই বয়সে একজন ছাত্র বা ছাত্রী আমাদের ইতিহাস-ঐতিহ্য ইত্যাদির পুরোটাই গলগল করে বলে যাবে, এমন অতি আশাবাদ কেউ ব্যক্ত করবে না। তাই উত্তরপত্রটা যদি ব্ল্যাংক রেখে তারা জমা দিত, আমরা ধরে নিতাম, দূর ইতিহাস বলে তারা একুশ সম্পর্কে কিছু জানে না, তবে একাত্তর সম্পর্কে নিশ্চয়ই কিছু জানে। প্রশ্নটা, তারা ভুল জানল কীভাবে? না জানা এক কথা, ভুল জানা আরেক; শেষেরটা বেশি দোষণীয়। উদ্ভট কথা লিখেছে তারা, এর অর্থ তাদের শিক্ষাদানের পরিবেশ ও পদ্ধতিটিও উদ্ভট। তবে কি এটাই ঠিক যে, যারা তাদের শিক্ষাটা দিচ্ছেন, তারাই ভুল জানেন? হবে হয়তো। আমি এমনও দেখেছি, একটি মফঃস্বল কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক জানতেন না সোহরাওয়ার্দী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন; মনে করতেন বিশ্বনাথ প্রতাপ সিং ও ভিপি সিং দুই আলাদা ব্যক্তি! বাংলার অধ্যাপককে বলতে শুনেছি- বঙ্কিম তো রবীন্দ্র অনুসারী ছিলেন...! এসব শিক্ষককে অনুরোধ করি, আপনাদের কিছুই শেখানোর দরকার নেই, স্কুল অথবা কলেজে যাবেন-আসবেন, বেতন নেবেন; কত লোকই তো ফাঁকিবাজি করে দিন কাটাচ্ছে, তবে দয়া করে ভুল শেখাবেন না। দুই. এই যে ছাত্রলীগ-ছাত্রদলের কথা বললাম, তারাই বা আমাদের অতীত ও বর্তমান বিষয়ে কতটা নির্ভুল? কত সহজ হয়ে গেছে রাজনীতি এদেশে! আমরা যখন জাসদসমর্থিত ছাত্রলীগ করেছি, শুধু পাকিস্তান আমল নয়, জানতে হয়েছিল ব্রিটিশ আমলের পুরোটা। শুধু কি এটুকুই? রাহুল সাংকৃত্যায়ন পড়ে জেনেছিলাম আদিম সাম্যবাদী সমাজ থেকে শুরু করে মানবসভ্যতার ক্রমবিকাশ। তা-ও শুধু তথ্য বা ঘটনা নয়, ঘটনার ব্যাখ্যাও বোঝার চেষ্টা করেছি। রাজনীতি ও ইতিহাস পরস্পর contributory I complementary, এক কথায় পরিপূরক।
এ দু’য়ের ঘনিষ্ঠতা সম্পর্কে এক ইংরেজ বলেছিলেন- Without history political science has no fruit, without political science history has no root- ইতিহাস ছাড়া রাষ্ট্রবিজ্ঞানের কোনো ফল বা পরিণাম নেই, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ছাড়া ইতিহাসের নেই শিকড়। ‘জনমত’ কথাটির একটি ব্যঙ্গাত্মক অর্থ করা হয়েছিল- যেখানে ‘জন’ নেই, মতও নেই। আমাদের ছাত্র রাজনীতির দুর্ধর্ষ নেতাকর্মীদের অন্তত ৮০ শতাংশেরই চিন্তাভাবনায় ইতিহাস নেই, নেই রাষ্ট্রবিজ্ঞানও। এবারের বইমেলায় ছাত্রলীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদকের একটি বই বেস্টসেলারের তালিকায় ঢুকে পড়েছে। ছাত্রলীগ কর্মীরা লাইন দিয়ে কিনছেন বইটি। তাদের ক’জন সেটি পড়বেন আর ক’জন নেতার সঙ্গে দেখা করার সময় বইটি হাতে রাখবেন বলে কিনেছেন বলতে পারব না। তবে আমি অবশ্যই পড়ে দেখব তিনি কী লিখেছেন। বেস্টসেলার এই বইটির লেখককে একটি নমুনা দিচ্ছি ছাত্রলীগের এক কর্মী একদিন আমার সঙ্গে কথোপকথনের সময় কী কী বলেছিলেন। বছর দেড়েক আগে লেখা আমার ‘ছাত্ররাজনীতি, নাকি গ্যাংস্টারিজম?’ কলামটিতে লিখেছিলাম তার কথা। পাটগ্রাম উপজেলার এই ছাত্রলীগ কর্মী আমাকে বলেছিলেন- বঙ্গবন্ধু খুব উদার ছিলেন, মুক্তিযুদ্ধের পর তিনি যদি বিএনপিকে ধ্বংস করে দিতেন, তাহলে আর ঝামেলা থাকত না! মিছিলে বিএনপিকে গালি দিতে দিতে মুখে ফেনা তোলা এই কর্মী দলটির জন্মপ্রক্রিয়াটিও জানেন না! অবশ্য এর চেয়েও নিন্মমানের ছাত্রদল কর্মী দেখেছি। বলেছেন, শেখ মুজিব ভারতের দালাল ছিলেন, ভারতের কাছে দেশ বিক্রি করার দলিলে সই করার আগেই জিয়াউর রহমান তাকে হত্যা করে ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছিলেন! এসব দেখার কি কেউ নেই দেশটায়? এই জাতি কি সত্যি সত্যি এতিম হয়ে পড়েছে? তরুণ প্রজন্মকে আমরা অতিরিক্ত ভালোবাসা দিচ্ছি, করছি অস্বাভাবিক প্রশংসা। বেশি প্রশংসায় মাথা ঘুলিয়ে যায়, ভালোবাসা প্রদানকারীর প্রতি মনোযোগ কমে আসে। একটু কম ভালোবেসে যদি নিরন্তর মনিটরিংয়ে রাখা যায় তাদের, তাতে যদি কিছু কাজ হয়।
লেখক : সাংবাদিক
mahbubkamal08@yahoo.com

No comments:

Post a Comment