Saturday, February 18, 2017

বন্নি-বাবুলের পরকীয়ায় খুন হন এসআই আকরাম

‘সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের সঙ্গে পুলিশের বিশেষ শাখার উপপরিদর্শক (এসআই) আকরাম হোসেন লিটনের স্ত্রী বনানী বিনতে বন্নির পরকীয়ার সম্পর্ক রয়েছে। এ কারণেই পরিকল্পিতভাবে আকরাম ও বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতুকে হত্যা করা হয়েছে। পরকীয়ার বলি হয়েছেন এরা। আর এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে বাবুল আক্তার জড়িত।
আকরাম হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার খবর পেয়ে মারা গেছেন তার মা আলেয়া খাতুন। বাবা (আকরামের) আবুল হোসেন এখনও বাকরুদ্ধ।’ এসব অভিযোগ করেছেন এসআই আকরামের স্বজনরা। শুক্রবার ঝিনাইদহ প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত ওই সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আকরামের বোন জান্নাত আরা পারভীন রিনি। রিনি অভিযোগ করেন, খুলনায় বাবুল আক্তারের বাবা পুলিশে ও এসআই আকরামের স্ত্রী বন্নির বাবা বিআরডিবিতে চাকরি করতেন। থাকতেন পাশাপাশি বাসায়। সেই সুবাদে বাবুল-বন্নির মধ্যে সম্পর্ক হয়। কিন্তু ২০০৬ সালের ১৩ জানুয়ারি আকরামের সঙ্গে বিয়ে হয় বন্নির। অন্যদিকে পারিবারিকভাবে মিতুকে বিয়ে করেন বাবুল। কিন্তু বিয়ের পরও বাবুল আর বন্নির মধ্যে যোগাযোগ ছিল। বিষয়টা জানাজানি হয় বিয়ের পর। বিয়ের দেড় বছর পর আকরামের একটি সন্তান হয়। সন্তান জম্মকালে বন্নি যখন হাসপাতালে ছিলেন তখন এসপি বাবুল আক্তার রোজই হাসপাতালে আসতেন। হাসপাতাল থেকে রিলিজ করার পর বন্নিকে বাবুল আক্তারের বোন লাবনীর বাসায় নিয়ে তোলা হয়। বিভিন্ন সময় বন্নির সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন বাবুল আক্তার। এসআই আকরাম বিদেশে মিশনে থাকাবস্থায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাবুল আক্তারের সঙ্গে কথা বলত বন্নি। রিনির ভাষ্য, বিয়ের কিছুদিন পরই বন্নি-বাবুলের প্রেমের বিষয়টি জানতে পারেন আকরাম। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ শুরু হয়। এর জেরে আকরাম নিহত হওয়ার আনুমানিক এক মাস আগে বন্নি ঢাকার মগবাজারের বাসা ছেড়ে ঝিনাইদহে তার বাবার ভাড়া বাড়িতে গিয়ে ওঠে। পরবর্তীকালে ২০১৪ সালের ২৮ ডিসেম্বর আকরামকে যমুনা সেতু হয়ে ঢাকা আসার কথা বলে বন্নি। কিন্তু সে বাবুলের সঙ্গে কূটকৌশল করে পথে সন্ত্রাসী ফিট করে রাখে। এরপর ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বড়দাহ নামক স্থানে মহাসড়কে মুমূর্ষু অবস্থায় আকরামকে উদ্ধার করা হয়। সেখান থেকে তাকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল, পরে ফরিদপুর এবং এরও পরে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। রিনি আরও অভিযোগ করেন, আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকাকালীন আকরামের অবস্থার উন্নতি হচ্ছিল। বন্নি স্যুপের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে আকরামকে খাওয়ায়। এরপর ১৩ জানুয়ারি ২০১৫ সালে আকরাম মারা যান। সেখান থেকে ময়নাতদন্ত ছাড়াই তার স্ত্রী বন্নি আকরামের লাশ গ্রহণ করে। বন্নি ও বাবুল মিলে পরিকল্পিতভাবে আকরামকে হত্যা করে সড়ক দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। এমনকি আকরামের ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা রিপোর্ট পরিবর্তনে বাবুল আক্তার প্রভাব খাটিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন রিনি। লাশ ঝিনাইদহে আনার সময় বন্নি না আসার জন্য নানা প্রকার ভণিতা করে।
পরে ঝিনাইদহে এনে দাফন করা হয়। বন্নির বাবা একমাত্র জামাইয়ের জানাজায় অংশ না নিয়ে বন্নিসহ পরিবারের অন্যদের নিয়ে বাবুল আক্তারের মাগুরার বাড়িতে গিয়ে ওঠেন। সংবাদ সম্মেলনে রিনি আরও অভিযোগ করেন, ময়নাতদন্তের সময় চিকিৎসকরা বলেছিলেন, আকরামের মাথায় ধারালো অস্ত্রের জখমের চিহ্ন রয়েছে। তখনই সন্দেহ হয় এটি হত্যা। কিন্তু ওই ঘটনায় থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি। এছাড়া তৎকালীন পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাননি। পরবর্তীকালে বাবুল আক্তার, বন্নি ও তার ফুফাতো ভাই সাদিমুল ইসলাম মুনকে আসামি করে আদালতে মামলা করা হয়। এ ঘটনায় ভাই হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত আকরামের বোনরা। সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আকরামের বড় বোন রেহেনা খাতুন, মেঝো বোন ফেরদৌস আরা, ৪র্থ বোন সাহানাজ পারভীন রিপা ও ছোট বোন শামিমা নাসরিন মুক্তি। এদিকে বন্নি সম্প্রতি মাগুরা প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, বাবুল আক্তারের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। শুক্রবার বিকালে এ রিপোর্ট লেখার সময় (বিকাল ৫টা ৩৪ মিনিটে) বন্নি মোবাইল ফোনে (নম্বর- ০১৮৭৩৯১৯১৯০) একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, বন্নি বর্তমানে মাগুরা জেলা শহরের কলেজপাড়ায় ক্ষমতাসীন দলের এক নেতার বাড়িতে ভাড়া থাকেন। বাবুল আক্তারের বাবা আবদুল ওয়াদুদের বাড়ি একই শহরের কাউন্সিলপাড়ায়। স্বামী নিহত হওয়ার পর বন্নি ওই বাড়িতে অবস্থান নেয়। বন্নির বাবা মাগুরা জেলার মহম্মদপুরে বিআরডিবি অফিসে চাকরি করেন।

No comments:

Post a Comment