স্বামীর
অনুরোধে প্রথমবারের মতো যমুনা ফিউচার পার্কে এসে মন জুড়িয়ে যায় পুরান
ঢাকার দক্ষিণ মৈশুন্ডির গৃহবধূ অনামিকা আক্তারের। ফিউচার পার্কের প্রতিটি
ফ্লোর ঘুরে দেখেছেন। কাপড়সহ পছন্দের জিনিসপত্র কিনেছেন। বাসায় ফেরার পথে
গ্রাউন্ড ফ্লোরে কথা হয় অনামিকার সঙ্গে। যুগান্তরকে জানান, ‘স্বামীর
অনুরোধে ফাল্গুনের প্রথম দিন যমুনা ফিউচার পার্কে এসেছি। দীর্ঘ সময়
মার্কেটের বিভিন্ন ফ্লোর ঘুরে দেখেছি। অনেক ভালো লেগেছে। এই মার্কেটে না
এলে অজানাই থেকে যেত, ঢাকা শহরে একটি ছাতার নিচে এত সুন্দর একটি মার্কেট
আছে। তা ছাড়া এখানকার জিনিসের দামও নাগালের মধ্যে।’ শুধু অনামিকা নন,
এমন
হাজারও ক্রেতার সমাগম ও বিকিকিনিতে মুখরিত এশিয়ার সর্ববৃহৎ মার্কেট যমুনা
ফিউচার পার্ক। বুধবার ছাড়া সপ্তাহের অন্য দিনগুলোয় ক্রেতা-দর্শনার্থী
সমাগমে মুখর থাকে যমুনা ফিউচার পার্ক। বিশেষ দিন ও উৎসবে যমুনা ফিউচার
পার্ক লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়ে। এবারের পহেলা ফাল্গুন এবং বিশ্ব ভালোবাসা
দিবস উপলক্ষে যমুনা ফিউচার পার্কে ক্রেতা-দর্শনার্থীর ঢল নেমেছে। সকাল থেকে
সন্ধ্যা পর্যন্ত লোকে-লোকারণ্য থাকছে মার্কেটের বিভিন্ন দোকানপাট। সোমবার
সন্ধ্যায় সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, যুমনা ফিউচার পার্কের গ্রাউন্ড ফ্লোরের
কিডো ল্যান্ড, ইনফিনিটি, ক্যাটস আইসহ অন্য শোরুমগুলো লোকে ভর্তি। বিশেষ
দিবস উপলক্ষে ভালোবাসার মানুষের জন্য কেনাকাটা করেছেন হাজারও মানুষ।
কেনাকাটা শেষে রাজধানীসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা দর্শনার্থীদের
যমুনা ফিউচার পার্কের লেভেল-ফাইভে’র দেশী-বিদেশী খাবারের আয়োজনে অংশ নিতে
দেখা গেছে। অনেককে কেনাকাটা শেষে গ্রাউন্ড ফ্লোরের রেস্টুরেন্টে খাবার খেয়ে
বের হতে দেখা যায়। গ্রাউন্ড ফ্লোরে শিশুদের বিশেষ আয়োজন কিডো ল্যান্ডের
ব্যবস্থাপক সামিয়া ইসলাম কেয়া যুগান্তরকে জানান, পহেলা ফাল্গুন ও ভালোবাসা
দিবস উপলক্ষে তাদের বেচা-বিক্রি অনেক বেড়েছে। পরিবারের সদস্যরা নিজেদের
কেনাকাটার পাশাপাশি শিশুদের জন্যও নানা জিনিস কিনছেন।
এ কারণে তারা বেশ
ব্যস্ত সময় পার করছেন। ইনফিনিটির এক্সিকিউটিভ রিপন মিয়া যুগান্তরকে জানান,
পহেলা ফাল্গুন এবং ভালোবাসা দিবসকে টার্গেট করে বিক্রি বেড়েছে।
তরুণ-তরুণীদের পোশাকের পাশাপাশি অন্য অনেক আইটেমের বিক্রিও বেড়েছে।
বিক্রেতাদের অনেকে জানান, যমুনা ফিউচার পার্কে শুধু রাজধানী কিংবা বিদেশ
থেকেই ক্রেতা-দর্শনার্থী আসছেন তা নয়, প্রত্যন্ত গ্রাম থেকেও এ বিখ্যাত
শপিংমলে অসংখ্য ক্রেতা-দর্শনার্থী ভিড় করছেন। গ্রাম হোক কিংবা শহর, সবাই
ভালো-আরামদায়ক শপিংমল চান। একই ছাদের নিচে সব কেনাকাটা সারতে চান। সেদিক
থেকে এ শপিংমলের জুড়ি নেই। ফিউচার পার্কে কথা হয়, দনিয়া থেকে আসা মরিয়ম
আক্তার ও মনিরুল ইসলাম দম্পতির সঙ্গে। তারা জানান, কেনাকাটা করতে সঙ্গে দুই
সন্তানকে নিয়ে এসেছেন। শপিংমলের মূল গেট দিয়ে ভেতরে ঢুকতেই এসির আরামদায়ক
বাতাস আর ভেতরের চাকচিক্য দেখে দীর্ঘ ভ্রমণ ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। আনন্দে
নাচানাচি শুরু করে তাদের দুই ছেলেমেয়ে। শুধু তারাই নয়, ঢাকাসহ দেশের
বিভিন্ন স্থান থেকে বিশেষ দিবস উপলক্ষে লাখো মানুষ যমুনা ফিউচার পার্কে
শপিং করতে আসছেন। যমুনা ফিউচার পার্কে কর্মীদের আন্তরিক ব্যবহার, এক ছাদের
নিচে এত কিছুর সমাহার দেখে মরিয়ম বলেন, এমন সুন্দর, শান্তির শপিংমল আগে
কখনও দেখিনি। স্বামী আর সন্তানদের তাগিদে এখানে না এলে দারুণ মিস করতাম।

No comments:
Post a Comment