যুক্তরাষ্ট্রের
ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সানডিয়াগোতে প্রশিক্ষণ বিমান দুর্ঘটনায় ২০ বছর
বয়সী একজন বাংলাদেশী তরুণী নিহত হবার খবর দিয়েছে স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম।
নিহত তরুণীর নাম শায়রা নূর লামিছা। তিনি বাংলাদেশ বিমানের ক্যাপ্টেন জাকির
হোসেন পান্নার কন্যা।
নিহতের বাবা-মা ঢাকার উত্তরা-৩ সেক্টরের বাসিন্দা।
লামিছা সানডিয়াগোর এল কাজন এলাকার আমেরিকান অ্যাভিয়েশন একাডেমিতে বিমান
চালনার প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন। স্থানীয় সময় রোববার দুপুরে সানডিয়াগোর রামোনা
বিমানবন্দরের উত্তরে ছোট্ট প্রশিক্ষণ বিমানটি বিধ্বস্ত হলে লামিছা নিহত হয়।
এছাড়া আরও একজন প্রশিক্ষণার্থী এবং একজন প্রশিক্ষক আহত হয়েছেন। তারা
দুজনেই পুরুষ। রোববারই আহত দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হলেও সোমবার
সকাল সাড়ে ১০টায় লামিছার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সানডিয়াগোর শেরিফ
কার্যালয়ের সার্জেন্ট অ্যান্ড্রু মউয়িনসের বরাতে ফক্সফাইভ জানায়, রোববার
দুপুর আড়াইটার দিকে এল কাজন এলাকার গিলেসপি ফিল্ড বিমানবন্দর থেকে বিমানটি
উড়ে। বিমানটিতে একজন প্রশিক্ষ ও দুজন প্রশিক্ষণার্থী ছিল। এরমধ্যে নারী
প্রশিক্ষণার্থী নিহত হয় বলে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের মুখপাত্র আইজাক
সানচেজ। তিনি জানান, নিহত তরুণীর বয়স ২০ এবং আহত প্রশিক্ষকের বয়স ২৮ এবং
প্রশিক্ষণার্থীর বয়স ২৫ বছর। সানচেজ জানান, বিমানটি উড্ডয়নের পরপরই বেশ
উপরে উঠে যায়, এসময় তারা সাহায্যের আবেদন জানান। পরে রামোনার পাহাড় এলাকায়
বিধ্বস্ত হয়।
এ ঘটনা দেখার পর একজন প্রত্যক্ষদর্শী ৯১১ নম্বরে ফোন করে
পুলিশকে ঘটনা জানায়। প্রায় এক ঘণ্টা পরে শেরিফ কার্যালয়ের কর্মকর্তা এবং
ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ক্লিভল্যান্ড ন্যাশনাল বনের কাছে পামো ভ্যালিতে
বিমানটির ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পায়। দি সানডিয়াগো ইউনিয়ন ট্রিবিউন জানায়, যে
এলাকায় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে সেখানে সড়ক পথে যাওয়া ছিল কঠিন। এ কারণে
উদ্ধারকর্মীরা প্রথমে বিমানে করে সেখানে গিয়ে আহত দুই তরুণকে উদ্ধার করে
নিয়ে আসে। পরে তাদের অ্যাম্বুলেন্স করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। এদিকে বিমান
বিধ্বস্ত হলেও লামিসার লাশ উদ্ধার করতে পারেনি উদ্ধার কর্মীরা। রাত হয়ে
যাওয়ায় রোববার রাতে অন্ধকারের মধ্যে নিহত প্রশিক্ষণার্থীর লাশের খোঁজে
অনুসন্ধান কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। পরে স্থানীয় সময় সোমবার ফের অনুসন্ধান
শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল অ্যাভিয়েশেন প্রশাসন এবং ন্যাশনাল
ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড এই দুর্ঘটনা তদন্ত করবে বলে জানিয়েছে।

No comments:
Post a Comment