
মৌলভীবাজার শহরের বড়হাট এলাকার জঙ্গি আস্তানায় প্রচুর বিস্ফোরক মজুদ রয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, ওই আস্তানায় ‘অপারেশন ম্যাক্সিমাস’ শুরু হয়েছে। তবে অভিযান শেষ হতে বিলম্ব হতে পারে। পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল। শুক্রবার বড়হাট এলাকায় ব্রিফিংয়ের সময় সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান। মনিরুল বলেন, ভেতরে একাধিক জঙ্গি অবস্থান করছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতেও তাঁরা বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। গুলি ছুঁড়েছে।
তিনি আরও বলেন, জঙ্গি আস্তানায় একাধিক কক্ষ রয়েছে। কক্ষগুলোতে বিস্ফোরক রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিস্ফোরক বিষয়ে বিশেষজ্ঞ কোনো জঙ্গি ভেতরে রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান জানান, সিলেট জঙ্গিবিরোধী অভিযানকালে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনার সূত্র ধরে মৌলভীবাজার শহরের বড়হাট এলাকার জঙ্গি আস্তানার তথ্য পাওয়া যায়।
বড়হাট এলাকার আবুশাহ দাখিল মাদ্রাসা গলির দোতলা একটি বাড়িতে জঙ্গি আস্তানাটি অবস্থিত। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে বাড়িটি জঙ্গি আস্তানা হিসেবে শনাক্ত করে ঘিরে রাখে পুলিশ। বুধবার ওই আস্তানা থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে গ্রেনেড ছোড়া হয়। গতকাল দিনভর বাড়িটি থেকে কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া না গেলেও গভীর রাতে গুলি-বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম গতকালই জানিয়েছিলেন, নাসিরপুরে অভিযান শেষ করার পর বড়হাটের জঙ্গি আস্তানায় পুরোদমে অভিযান শুরু করা হবে।
বুধবার ভোরে শহর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে নাসিরপুর গ্রামে আরেকটি জঙ্গি আস্তানা শনাক্ত হয়। প্রায় ৩৪ ঘণ্টা ঘিরে রেখে সেখানে ‘অপারেশন হিট ব্যাক’ নামে অভিযান চালায় পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে নাসিরপুরের জঙ্গি আস্তানায় অভিযানের সমাপ্তি টানা হয়। সেখানকার জঙ্গি আস্তানা থেকে ‘ছিন্নভিন্ন সাত থেকে আটজনের লাশের অংশ’ পাওয়ার কথা জানায় পুলিশ।
No comments:
Post a Comment