পরমাণু
শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে একটি চুক্তি
স্বাক্ষরের সম্ভাবনা আছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন ভারত সফরকালে এ
চুক্তি সই হতে পারে। এ ছাড়া বাংলাদেশের আণবিক শক্তি কমিশনের সঙ্গেও ভারতের
সংশ্লিষ্ট কমিশনের আলাদা চুক্তি হবে। এ দুই চুক্তির মাধ্যমে মূলত রূপপুর
পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রকল্পে যুক্ত হচ্ছে ভারত। প্রধানমন্ত্রী শেখ
হাসিনা আগামী ৭ এপ্রিল চার দিনের সফরে ভারত যাচ্ছেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী
নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে তিনি এ সফরে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
সফরের সময় ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনে উঠবেন। দেশটির রাষ্ট্রপতি প্রণব
মুখার্জির আমন্ত্রণে তিনি সেখানে থাকবেন। জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ
হাসিনার ভারত সফরকালে দু’দেশের মধ্যে প্রায় দুই ডজন চুক্তি সই হওয়ার
সম্ভাবনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা রোববার যুগান্তরকে বলেন, ‘আমরা
৪০টি চুক্তি টেবিলে নিয়ে কাজ করছি। এর মধ্যে যেসব বিষয়ে চুক্তি চূড়ান্ত করা
সম্ভব হবে সেগুলো সই হবে। আমরা আশা করছি, ২০ থেকে ৩০টির মধ্যে যে কোনো
সংখ্যক চুক্তি সই করতে পারব।’ সূত্র জানায়, এবারের সফরে রুশ সহায়তায়
রূপপুরে যে পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র হচ্ছে তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি চুক্তি
সই হবে। এর একটি হল- পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার এবং অপরটি আণবিক
শক্তি কমিশনের সঙ্গে ভারতের সংশ্লিষ্ট কমিশনের মধ্যে সহযোগিতা সংক্রান্ত
আলাদা চুক্তি। চুক্তিগুলোর অধীনে বাংলাদেশী কর্মকর্তারা ভারতে প্রশিক্ষণ
নেয়াসহ কারিগরি নানা সহায়তা পাবেন। রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে
রাশিয়ার যেসব সহায়তা পাওয়া যাবে, ভারতের সঙ্গে চুক্তির ফলে সহায়তা হবে তার
অতিরিক্ত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এবারের ভারত সফরকালেও তিস্তার পানি
বণ্টন চুক্তি সই হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী
মমতা ব্যানার্জির আপত্তির কারণে তিস্তা চুক্তি সই হচ্ছে না। এ ছাড়াও গঙ্গা
ব্যারাজ প্রকল্পে ভারতের সহায়তা নেয়ার বিষয়ে দু’দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে।
তবে এখনই এ ব্যাপারে কোনো চুক্তি হবে কি-না তা নিশ্চিত নয়। ২০১০ সালের
জানুয়ারির পর প্রধানমন্ত্রীর এটাই প্রথম আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় ভারত সফর।
এর আগে ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির স্ত্রী শুভ্রা মুখার্জির
মৃত্যুতে তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে দিল্লি গিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। এ ছাড়াও
ব্রিকস-বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে গোয়ায় যান প্রধানমন্ত্রী।
তবে
এগুলো দ্বিপক্ষীয় সফর ছিল না। অপরদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি
২০১৫ সালের জুনে বাংলাদেশ সফর করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত
সফরকালে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয়
বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব
মুখার্জির সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে যেসব
ভারতীয় সৈন্য প্রাণ দিয়েছেন তাদের কয়েকটি পরিবারকে এবার আনুষ্ঠানিকভাবে
সম্মাননা জানাবেন শেখ হাসিনা। ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন,
বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রায় ১৭০০ ভারতীয় সৈন্য প্রাণ হারিয়েছেন। এ
ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী দুই দেশের ব্যবসায়ীদের এক সম্মেলনে বক্তব্য রাখবেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্মানে রাষ্ট্রীয় ভোজের আয়োজন থাকবে। ভারত
সফরকালে শেখ হাসিনা ব্যক্তিগত সফরে আজমির শরিফ যেতে পারেন। এবারের ভারত
সফরে উল্লেখযোগ্য দুটি চুক্তি হবে সামরিক সহযোগিতা বিষয়ে। তার একটি হল
দ্বিপক্ষীয় সামরিক সহযোগিতাবিষয়ক সার্বিক কাঠামো চুক্তি। এই চুক্তির অধীনে
বর্তমানে দুই দেশের সামরিক বাহিনীর যৌথ মহড়া পরিচালিত হবে। পাশাপাশি
প্রশিক্ষণ বিনিময় এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সামরিক বাহিনীর মধ্যে সহযোগিতা
করা হবে। সামরিক সহযোগিতা সংক্রান্ত অপর চুক্তির অধীনে বাংলাদেশকে ৫০ কোটি
ডলারের ঋণ (লাইন অব ক্রেডিট-এলওসি) দেবে ভারত। বাংলাদেশ ইচ্ছা করলে এই
ঋণের অর্থ দিয়ে ভারত থেকে সমরাস্ত্র কিনতে পারবে। এ ছাড়াও নৌবাহিনী
পরিচালিত ডকইয়ার্ড ক্ষেত্রে সহযোগিতা সংক্রান্ত পৃথক চুক্তি সই হবে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকালে ভারতের সঙ্গে আরও যেসব চুক্তি সই হওয়ার সম্ভাবনা
রয়েছে সেগুলো হল- ট্রেডিং কর্পোরেশন বাংলাদেশের (টিসিবি) সঙ্গে ভারতের এ
সংক্রান্ত সংস্থার চুক্তি, নতুন করে বর্ডার হাট স্থাপন, নৌপথে বাতিঘর
স্থাপন, বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থনৈতিক সহায়তা সংক্রান্ত ৮-৯টি চুক্তি। এ ছাড়া
বাংলাদেশে কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপনে ৯ কোটি টাকার অনুদান সংক্রান্ত চুক্তি
সই হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

No comments:
Post a Comment