Monday, March 27, 2017

হামলায় শ’ শ’ মানুষ নিহতের কথা স্বীকার পশ্চিমা জোটবাহিনীর

ইরাকে আইএস-বিরোধী লড়াইয়ে অংশগ্রহণরত মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটবাহিনী স্বীকার করেছে যে, গত সপ্তাহে তারা মসুলে একটি স্থানে বিমান হামলা চালিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, এ হামলায় শ’ শ’ বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছে। আইএস-নিয়ন্ত্রিত জাদিদা জেলায় ১৭ই মার্চ জোটবাহিনীর হামলায় বহু সাধারণ মানুষ মারা যাওয়ার ঘটনায় জাতিসংঘ তীব্র নিন্দা জানায়। এর কয়েক ঘণ্টা পর শনিবার হামলার বিষয়টি স্বীকার করে মার্কিন বাহিনী। এ খবর দিয়েছে আল জাজিরা। আমেরিকার সামরিক বাহিনীর সমন্বিত যৌথ টাস্কফোর্স শনিবার এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘হামলার উপাত্তের সাময়িক পর্যালোচনায় ইঙ্গিত মিলে যে, জোট বাহিনী আইএস যোদ্ধা ও সমরাস্ত্রে হামলা চালিয়েছে। ১৭ই মার্চ পশ্চিম মসুলের যে স্থানে বেসামরিক মানুষ হতাহতের অভিযোগ উঠেছে, সেখানে এ হামলা চালানো হয়।’ জোটবাহিনী বলেছে, ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীর অনুরোধে ওই হামলা চালানো হয়। পাশাপাশি, বেসামরিক মানুষ নিহত হওয়ার অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে তদন্ত চলছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদক হোদা আবদেল-হামিদ বলেন, বিমান হামলার ঘটনা স্বীকার করতে এক সপ্তাহ সময় লেগেছে জোটবাহিনীর। তিনি বলেন, ‘ইরাক থেকে তীব্র চাপের মুখে এ প্রতিক্রিয়া দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে যতটা না সরকারি চাপ, তার চেয়ে জনগণের চাপ ছিল বেশি। ধারণা করা হচ্ছে, ওই হামলাতেই কেবল ২০০ জন নিহত হয়েছে। এখানে বিপুল সংখ্যক বেসামরিক মানুষ নিহত হওয়ার খবর প্রথম জানা যায় পশ্চিম মসুল থেকে পালিয়ে আসা লোকজনের মুখ থেকে।’
ইরাকের সরকারি কর্মকর্তা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, পশ্চিম মসুলে সামপ্রতিক কালের বিমান হামলায় শ’ শ’ মানুষ নিহত হয়েছে। তবে ভুক্তভোগী মানুষের সঠিক সংখ্যা নিরপেক্ষ কোনো সূত্র থেকে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। মসুল জেলা পরিষদের প্রধান বাসমা বাসিম বলেন, কেবল গত এক সপ্তাহেই বিমান হামলায় ‘৫ শতাধিক’ বেসামরিক মানুষ নিহত হন। বাসিম বলেন, অনেক প্রত্যক্ষদর্শী প্রশ্ন তুলেছেন বেসামরিক মানুষকে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হচ্ছে কিনা। মসুল যে প্রদেশের রাজধানী সেই নিনেভেহ প্রদেশের গভর্নর নওফেল হামাদি বলেন, জোট বাহিনী আল-জাদিদায় বিমান হামলা চালিয়েছিল। হামাদি অবশ্য নিহতের সংখ্যা ‘১৩০ জনেরও বেশি’ বলে উল্লেখ করেন। তবে পরে তিনি জানান, সেখানকার ঘরবাড়ির ধ্বংসস্তূপের নিচে আরো শ’ শ’ মানুষ চাপা পড়েছেন। স্থানীয় বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা ও বাসিন্দারাও বলছেন, বিমান হামলায় ব্যাপক বিস্ফোরণের পর বহু ভবন ধসে পড়ে। অনেক মানুষ সেসব ভবনের নিচে চাপা পড়েছেন। তবে স্থানীয় সিভিল ডিফেন্স-এর প্রধান মোহাম্মদ আল-জাওয়ারি বৃহস্পতিবার বলেছেন, তার উদ্ধারকারী দল ভবনের নিচ থেকে ৪০টি লাশ উদ্ধার করেছে। ইরাকি পার্লামেন্টের স্পিকার সেলিম আল-জাবোরি এক বিবৃতিতে বলেন, পশ্চিম মসুলে যা ঘটছে তা মারাত্মকভাবে গুরুতর। এটি কোনো পরিস্থিতিতেই সহ্য করার মতো নয়।
এর আগে শনিবার জাতিসংঘ মসুল পুনরুদ্ধারের অভিযানে হতাহত বেসামরিক মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে। ইরাকের মানবিক সমন্বয়ক লাইস গ্রান্দে এ ঘটনা সমপর্কে বলেন, ‘মানুষের করুণ প্রাণহানির ঘটনায় আমরা স্তম্ভিত।’ যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও সামরিক সমপর্ক বিষয়ক সাবেক সহকারী সেক্রেটারি মার্ক কিমিট মন্তব্য করেছেন, বেসামরিক মানুষের জীবনহানির ঘটনা দুর্ভাগ্যজনক, কিন্তু ‘এ ধরনের ঘটনা যুদ্ধে ঘটে থাকে।’ তিনি বলেন, ‘জোটবাহিনী ইরাকের নিরাপত্তা বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে তাদের সাধ্যের সবটুকু করছে যাতে বেসামরিক মানুষ হতাহতের ঘটনা কমিয়ে রাখা যায়। কিন্তু একটি বিষয়ে স্পষ্ট হওয়া যাক, আইএস উদ্দেশ্যমূলকভাবে ওই এলাকায় বেসামরিক মানুষকে রেখে দিয়েছে এই নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যেই।

No comments:

Post a Comment