Tuesday, March 7, 2017

ষোড়শ সংশোধনীর আপিল শুনানি ৮ মে

বিচারপতিদের অপসারণ ক্ষমতা-সংক্রান্ত সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে হাইকোর্টের দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের পরবর্তী শুনানির জন্য ৮ মে দিন ঠিক ধার্য করেছেন আপিল বিভাগ। মঙ্গলবার রাষ্ট্রপক্ষের করা সময় আবেদন মঞ্জুর করে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বাধীন আট সদস্যের আপিল বেঞ্চ এই দিন ধার্য করেন। বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন- বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিঞা, বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি ইমান আলী, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসাইন, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম। গত ৮ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে করা রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের শুনানির জন্য আজ ধার্য দিন ছিল। একই সঙ্গে ওইদিন আপিলের শুনানিতে আইনগত পরামর্শ নেয়ার জন্য ১২ জন বিশিষ্ট আইনজীবীকে অ্যামিকাস কিউরি (আদালতকে আইনগত পরামর্শদানকারী) হিসেবে নিয়োগ দেন আপিল বিভাগ। কিন্তু আজ রাষ্ট্রপক্ষ সময় আবেদন করলে আপিল বিভাগ তা মঞ্জুর করে শুনানির পরবর্তী তারিখ ৮ মে নির্ধারণ করেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন- অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। রিটকারীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।  নিয়োগ পাওয়া ১২ অ্যামিকাস কিউরি হলেন- সাবেক বিচারপতি টিএইচ খান, ড. কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম, ব্যারিস্টার রফিক-উল হক, ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ, অ্যাডভোকেট আবদুল ওয়াদুদ ভুইয়া, ব্যারিস্টার ফিদা এম কামাল, ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ, এএফ হাসান আরিফ, এজে মোহাম্মদ আলী, ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কিউসি ও অ্যাডভোকেট এম আই ফারুকী।
সংবিধানের ১৬তম সংশোধনী অবৈধ বলে হাইকোর্টের দেয়া রায় প্রকাশের পর তা চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য রিট আবেদনকারীপক্ষে গতবছর ২৮ নভেম্বর আপিল বিভাগে আবেদন করা হয়। পরদিন আপিল বিভাগ ওই আবেদনের ওপর ৫ জানুয়ারি শুনানির দিন ছিল। ওইদিন রাষ্ট্রপক্ষ চার সপ্তাহ সময় চেয়ে আবেদন করে। আদালত ৮ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন। এ অবস্থায় নির্ধারিত দিনে রাষ্ট্রপক্ষ আবারো সময়ের আবেদন করে। এরপর আজ রাষ্ট্রপক্ষ আবারো সময় আবেদন করলে আপিল বিভাগ তা মঞ্জুর করেন। জানা যায়, বাহাত্তরের মূল সংবিধানে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের হাতে ছিল। ১৯৭৫ সালের ২৪ জানুয়ারি সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে এ ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে অর্পণ করা হয়। পরে জিয়াউর রহমানের শাসনামলে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা দেয়া হয় সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের হাতে। আপিল বিভাগের রায়ে ৫ম সংশোধনী বাতিল হলেও সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের ব্যবস্থা রেখে দেয়া হয়। পরবর্তীতে বিচারপতি অপসারণের ক্ষমতা পুনরায় সংসদের কাছে ফিরিয়ে নিতে ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী পাশ করা হয়।  একই বছরের ৫ নভেম্বর সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের নয়জন আইনজীবী হাইকোর্টে রিট করেন। এ আবেদনের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত বছর ৫ মে হাইকোর্ট সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকের মতামতের ভিত্তিতে ১৬তম সংশোধনী অবৈধ বলে রায় দেন। বেঞ্চের তিন বিচারকের মধ্যে দুইজন ১৬তম সংশোধনী অবৈধ বলে রায় দেন এবং একজন রিট আবেদনটি খারিজ করেন। পরে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ।

No comments:

Post a Comment