Wednesday, March 8, 2017

সামুদ্রিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলকে আরো শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে মেরিটাইম বা সামুদ্রিক সহযোগিতা জোরদার করে নিবেদিতপ্রাণ হয়ে কাজ করতে ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশন (আইওআরএ) নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারত মহাসাগরীয় ২১ রাষ্ট্রের জোট আইওআরএ’র ২০ বছরপূর্তি উপলক্ষে ইন্দোনেশিয়ায় রাজধানী জাকার্তায় অনুষ্ঠিত লিডারস সামিটে দেয়া বক্তৃতায় তিনি এ আহ্বান জানান। জাকার্তা কনভেনশন সেন্টারে গত ৫ই মার্চ থেকে ৩ দিনব্যাপী আইওআরএ সামিটের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। গতকাল সমাপনী দিনে ছিল শীর্ষ সম্মেলন। সেখানে ‘একটি শান্তিপূর্ণ স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ ভারত মহাসাগরের জন্য রিম সামুদ্রিক সহযোগিতা জোরদারকরণ’ শীর্ষক সাধারণ বিতর্ক অধিবেশনে বক্তৃতা করেন বাংলাদেশের সরকার প্রধান। বক্তৃতায় শেখ হাসিনা এ অঞ্চলের জন্য দক্ষ নাবিক তৈরিতে বাংলাদেশে ভারত মহাসাগর কারিগরি ও বৃত্তিমূলক একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রস্তাব করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের অভীষ্ট লক্ষ্য হচ্ছে মহাসাগর ও সমুদ্রপথ উন্নয়নের মাধ্যমে রিম দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশকে রূপান্তরের প্রচেষ্টা চালানো। আসুন সামুদ্রিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করে শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল এবং সমৃদ্ধ ভারত মহাসাগরের জন্য নিজেদেরকে উৎসর্গ করি। আসুন একসঙ্গে তরী ভাসাই।’
প্রধানমন্ত্রী আইওআরএ নেতৃবৃন্দের প্রতি সমুদ্রগামী নাবিকদের নিরাপত্তা এবং পেশাগত অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, তাদের দক্ষতা এবং নিবেদিত কার্যপ্রণালী কখনো কখনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরীক্ষার সম্মুখীন হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ অঞ্চলের জন্য দক্ষ নাবিক পুল তৈরিতে বাংলাদেশে ভারত মহাসাগর করিগরি ও বৃত্তিমূলক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করেন। বাংলাদেশকে বঙ্গোপসাগর এবং ভারত মহাসাগরের উপকূলবর্তী দেশ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে এর সমুদ্র সম্পদ টেকসইভাবে ব্যবহারের ওপরই ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা এবং সামাজিক কল্যাণ নিহিত রয়েছে। তিনি বলেন, ‘এজন্য আমরা এসডিজি-১৪ কে আমাদের ৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় সম্পৃক্ত করেছি এবং সমুদ্র অর্থনীতির দিকে আমাদের মনোসংযোগকে নবায়ন করেছি।’ প্রধানমন্ত্রী এ সময় সমুদ্রসীমানা নিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ বিরোধ মীমাংসা আমাদের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে বলেও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘যদিও আমরা এ বিষয়টিতে সম্পূর্ণভাবেই অবগত যে, সমুদ্র এলাকার সম্পদ আহরণের সামর্থ্যের ওপরই আমাদের এই সাফল্য নির্ভর করছে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারত মহাসাগর রিম অ্যাসোসিয়েশন এবং সদস্যভুক্ত দেশগুলোকে আমরা আমাদের আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবে রূপ দেয়ার প্রকল্পের জন্য একটি প্রাকৃতিক বাসস্থান হিসেবেই দেখছি। ভারত মহাসাগরকে আমাদের নিরাপত্তা, যোগাযোগ, শান্তি এবং সমৃদ্ধির জন্য অন্যতম মাধ্যম হিসেবে আখ্যায়িত করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এটা বিশ্বায়নের এই যুগে একটি লাইফলাইন যার মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় অর্ধেক কনটেইনার জাহাজ, তিনভাগের একভাগ বাল্ক কার্গো এবং তিনভাগের দুইভাগ তেলের চালান পরিবাহিত হয়। এদিকে গতকাল সকালে জাকার্তা কনভেনশন সেন্টারে প্রথমবারের মতো ইন্দোনেশিয়া আয়োজিত আইওআরএ শীর্ষ সম্মেলনের আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেন বাংলাদেশের সরকার প্রধান। দেশটির প্রেসিডেন্ট ও আইওআরএ-এর বর্তমান চেয়ারম্যান জোকো উইদোদো এই শীর্ষ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। এ সময় ভারত মহাসাগরের তীরবর্তী ২১টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান এবং প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। আইওআরএ-এর ৭ ডায়ালগ পার্টনারসহ উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আমন্ত্রিত অতিথিও অনুষ্ঠানে যোগ দেন। আনুষ্ঠানিক ওই উদ্বোধনীতে ইন্দোনেশিয়ার ঐতিহ্যবাহী ‘গেনডাং পাপুয়া’ (ছোট ঢোল) বাজিয়ে স্থানীয় শিল্পীরা ঐতিহ্যবাহী নৃত্য পরিবেশন করেন। পরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীসহ রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের উদ্দেশে তারা বাদ্যযন্ত্র পরিবেশন করেন। প্রধানমন্ত্রীও পরে অতিথিদের উদ্দেশে কিছুক্ষণের জন্য বাদ্য বাজান। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও দক্ষিণ আফ্রিকার  প্রেসিডেন্ট জ্যাকব গেদলেইলেকিসা জুমা, ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট আবদ্রাববুহ মানসুর হাদি, শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মৈত্রীপালা সিরিসেনা, মাদাগাসকারের প্রেসিডেন্ট হেরি রাজাওনারিয়ামপিয়ানিনা, মোজাম্বিকের প্রেসিডেন্ট ফিলিপ জাসিনটো নাইয়ুসি, ভারতের ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হামিদ আনসারী, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী সেরি নাজিব রাজাক, কমোরোসের ভাইস প্রেসিডেন্ট আজালি আসোয়ুমানি, সিসিলি’র ভাইস প্রেসিডেন্ট ভিনসেন্ট মেরিটন ও অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম ট্রানবুল প্রমুখ অংশ নেন।

No comments:

Post a Comment