
কুসিকের
সন্ধ্যাগুলো এখন গীতমুখর। সকালগুলো মুখরিত স্লোগানে স্লোগানে। সিএনজি
অটোরিক্সা, মটরচালিত টমটম আর রিক্সায় মাইক বেঁধে বাজানো হচ্ছে প্রচারগীত আর
স্লোগান। দুই মেয়র প্রার্থীর পক্ষেই চলছে গানে গানে প্রচারণা। মেয়র
প্রার্থীর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এমন গীতমুখর প্রচারণা চালাচ্ছেন কাউন্সিলর
প্রার্থীরাও। প্রত্যেক প্রার্থীই তার নাম ও প্রতীকের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ন
কবিতা, আধুনিক বাংলাগান, পল্লীগীতি, হিন্দী জনপ্রিয় গানের প্যারোডি
করিয়েছেন। শিল্পীদের দিয়ে সে প্যারোডিগুলো রেকর্ড করিয়েছেন। যা বাজিয়ে
শোনানো হচ্ছে বিকাল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত। প্যারোডিতে সবচেয়ে এগিয়ে আছে
কণ্ঠশিল্পী মমতাজের গান। ‘মধু হই হই বিষ খাওয়াইলা’, ‘সিনার ভিতর গাথি
রাইক্কুম তোয়ারে’, ‘খায়রুল লো’, ‘বকুল ফুল বকুল ফুল’, ‘আমার ঘুম ভাঙাইয়া
গেলো রে’, ‘বুকটা ফাইট্টা যায়’, ‘তু শায়ের হে’, ‘দেখা হে পেহেলী বার’,
‘বাসর ঘরের বাত্তি নিভাইয়া’Ñসহ অনেক জনপ্রিয় গানের প্যারোডিই এখন বাজছে
মুহুর্মুহু। সুরের মূর্ছনায় মেয়র-কাউন্সিলরদের প্রচারে মুখর নগরীর অলিগলি।
পাড়ার শিল্পীরাও এ সুযোগে কামিয়ে নিচ্ছেন দুপয়সা। গয়ে সরাসরি গেয়ে দুপয়সা
কামিয়ে নিচ্ছেন। সেই সঙ্গে ‘আয় ছেলেরা আয় মেয়েরা’, ‘আতা গাছে তোতা পাখি’সহ
বেশ কিছু জনপ্রিয় ছড়ার প্যারোডির পাশাপাশি প্রার্থীদের নাম ও প্রতীক মিলিয়ে
তৈরি করা হয়েছে প্রচার ছড়া। আবার কখনও যাত্রাপালার মতো করে, কিংবা সিনেমার
ডায়ালগ প্যারোডি করেও চালানো হচ্ছে প্রচারণা। এসব প্যারোডি গেয়ে ও বাহারী
স্লোগান দেয়ার জন্য নোয়াখালী ও চাঁদপুর থেকে একদল প্রচারক আনা হয়েছে ভাড়া
করে। প্রচারকদের একজন হাফেজ মোহাম্মদ রুবেল। সুললিত কণ্ঠের এ প্রচারকের
বাড়ি নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও
সড়ক-সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের পাশের গ্রামের ছেলে রুবেল এ প্রচারণাকেই
নিয়েছেন পেশা হিসেবে। গ্রামের ইউনিয়ন পরিষদ মেম্বর দিদার হোসেন সৌরভের
নির্বাচনী ক্যাম্পেইন করতে গিয়ে আয়ত্ব করেছেন নানা প্যারোডি গান ও ছড়া।
তারপর দীর্ঘ ১০ বছর ধরেই পেশাদার প্রচারক হিসেবে ভাড়ায় প্রচার কাজ করেছেন
দেশের বিভিন্ন জেলায়। কুমিল্লায় নৌকা মার্কার পক্ষে ১০দিনের জন্য এসেছেন
দুই হাজার টাকা দৈনিকে। তারই গ্রাম থেকে এসেছেন সুজন নামের আরেকজন।
প্যারোডি গানের পাশাপাশি আছে বাহারী স্লোগান ও ড্রাম আর ব্যান্ডপার্টির
আয়োজন। সবমিলিয়ে কুসিকের প্রতিটি সন্ধ্যা এখন প্রচারগীত মুখর। গানে ও নগরীর
অলি-গলিতে সাঁটানো হচ্ছে মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের পোস্টার। দড়ি দিয়ে
মূল সড়কের দুইপাশ ও উপরে ছেয়ে ফেলা হয়েছে পোস্টার ঝুলিয়ে। দারুন ব্যস্ত
নগরীর প্রেস পাড়া। পোস্টার, লিফলেট ও হ্যান্ডবিল ছাপার এ মওসুমে নিঃশ্বাস
ফেলার ফুরসৎ পাচ্ছেন না মুদ্রণ শ্রমিকরা।
No comments:
Post a Comment