
কলম্বিয়ায়
ভয়াবহ ভূমিধসে কমপক্ষে ২৫৪ জন নিহত হয়েছেন। কয়েক শ’ নিখোঁজ ব্যক্তির খোঁজে
চলছে ব্যাপক উদ্ধার তৎপরতা। উদ্ধারে নেমেছে কমপক্ষে ১১০০ সেনা ও পুলিশ।
সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে জানানো হয় আহতের সংখ্যা কমপক্ষে ৪০০। নিখোঁজ
রয়েছেন ২০০ জন। বিবিসি’র খবরে বলা হয়, দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের
পুতুমায়ো প্রদেশের রাজধানী মোকোয়া শহরে ভারী বর্ষণের কারণে নদীর পানি উপচে
প্লাবিত হয় দু’পাড়। ধসে পড়ে বহু ঘরবাড়ি। মাটির নিচে চাপা পড়ে অনেক স্থাপনা।
এতে আক্রান্ত এলাকার অধিবাসীরা বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।
নিরাপত্তা বাহিনী ছাড়াও উদ্ধার তৎপরতায় রয়েছে কলম্বিয়ান রেডক্রসের
স্বেচ্ছাসেবীরা। সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা পরিবারের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া
ব্যক্তিদের মধ্যে যোগাযোগ করিয়ে দিতে কাজ করছেন। দেশটির প্রেসিডেন্ট হুয়ান
ম্যানুয়েল সান্তোস ওই এলাকায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। উদ্ধারকাজ
পরিদর্শনে তিনি দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। কলম্বিয়ান এয়ারফোর্স ভূমিধস
কবলিত এলাকায় পানি, ওষুধ ও উদ্ধার তৎপরতায় প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে
উদ্ধারকাজে যোগ দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট হওয়া বিভিন্ন ছবিতে
দেখা যাচ্ছে আহতদের হেলিকপ্টারে করে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। সেনাবাহিনীর
বিবৃতিতে জানানো হয়, জরুরি পরিস্থিতির অবসান হওয়ার আগ পর্যন্ত ট্রাজেডির
এলাকায় অবস্থান করবেন বাহিনীর সদস্যরা। মোকোয়া শহরের মেয়র হোজে অ্যান্টোনিও
ক্যাস্ত্রো স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেছেন, শহরটি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে
পড়েছে। বিদ্যুৎ ও পানি সংযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। উদ্ধারকর্মীরা
জানিয়েছেন, খারাপ আবহাওয়া ও রাস্তাঘাট ভেঙে পড়ার কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত
হচ্ছে। মেক্সিকো, আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্স সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কয়েকবার ভূমিধসে আক্রান্ত হয়েছে কলম্বিয়ার
ওই এলাকা। নভেম্বর মাসে মোকোয়া থেকে ১৪০ কিলোমিটার দূরের শহর এল টামবোতে
ভূমিধসে ৯ জন মারা গিয়েছিল। এর এক মাস আগে আরেকটি ভূমিধসের ঘটনায় মেডেলিনের
নিকটবর্তী এলাকায় বেশ কয়েকজনের প্রাণহানি হয়। ওদিকে, প্রতিবেশী পেরুতে
অস্বাভাবিক ভারী বর্ষণের কারণে বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছে ৯০
জনেরও বেশি।
No comments:
Post a Comment