Wednesday, April 12, 2017

মঙ্গল শোভাযাত্রায় বাইরে থেকে কেউ ঢুকতে পারবে না



পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রার চারদিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘিরে রাখবেন জানিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেছেন, এ শোভাযাত্রায় বাইরে থেকে কেউ  ঢুকতে পারবে না। তিনি বলেন, বর্ষবরণের দিন রাজধানীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মোট ১১ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। রমনা বটমূল এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ঢুকতে হলে সবাইকে তল্লাশির মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। উত্ত্যক্তকারীদের ঠেকাতে রমনা বটমূল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ দল কাজ করবে বলেও জানান তিনি। গতকাল মিন্টো রোডের ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে পহেলা বৈশাখের নিরাপত্তা প্রস্তুতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আছাদুজ্জামান এসব কথা বলেন। কমিশনার বলেন, পহেলা বৈশাখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, হাতিরঝিল ও রবীন্দ্র সরোবর এলাকায় কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ঢোকা ও বের হওয়ার প্রবেশপথগুলোয় থাকবে নিরাপত্তা বেষ্টনী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং রমনা এলাকায় আর্চওয়ে বসানো হবে। প্রত্যেকের দেহতল্লাশি করা হবে। রমনা ও  সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঢুকতে হলে দেহতল্লাশির মধ্যে দিয়েই প্রবেশ করতে হবে। আছাদুজ্জামান বর্ষবরণের দিন রমনা পার্ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা হকারমুক্ত রাখাসহ বেশ কিছু পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন। বলেন, মোটরসাইকেলে চালক ছাড়া কেউ বসতে পারবে না। তবে পেছনে স্ত্রী বা সন্তান থাকলে তা বিবেচনা করা হবে। বিকাল ৫টার পর উন্মুক্ত কোনো স্থানে সমাবেশ করা যাবে না। সন্ধ্যা ৬টার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সমাবেশ বা কনসার্ট করা যাবে না। একই সময় থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বহিরাগত কেউ ঢুকতে পারবেন না। ওই অঞ্চলে যান চলাচলও নিয়ন্ত্রণ করা হবে বলেও জানান তিনি। বলেন, রমনা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এলাকায় যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণের জন্য ২৬টি ‘ডাইভারশন পয়েন্ট’ থাকবে। ভুভুজেলা বিপণন ও বাজানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কমিশনার ব্যাগ বহন না করতেও অনুরোধ জানান। আছাদুজ্জামান মিয়া জানান, বর্ষবরণের দিন রাজধানীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইউনিফর্মে ১১ হাজার পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি ইউনিফর্ম ছাড়া পুলিশ সদস্য এবং পুলিশের বিশেষ ইউনিট সোয়াত ও বোমা নিষ্কিয়করণ ইউনিটের সদস্যরা কাজ করবেন। রাজধানীতে বর্ষবরণের সব ‘বড় অনুষ্ঠান’ ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার (সিসি) নজরদারিতে থাকবে জানিয়ে পুলিশ কমিশনার বলেন, এজন্য তিনটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ স্থাপন করা হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ইঞ্চি সিসি ক্যামেরার নজরে থাকবে বলেও জানান তিনি। আছাদুজ্জামান বলেন, মঙ্গল শোভাযাত্রায় নিরাপত্তা এবার আরও বাড়ানো হয়েছে। চারুকলা থেকে শুরু হওয়া এ শোভাযাত্রায় রাস্তা থেকে কাউকে ঢুকতে দেয়া হবে না। যারা শোভাযাত্রায় অংশ নিতে আগ্রহী তারা চারুকলায় যাবেন। শুরু থেকেই থাকতে হবে। শোভাযাত্রার দু’পাশে সোয়াত টিমের সদস্যরা, সামনে পুলিশ আর পেছনে পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা থাকবেন। পুরো রমনা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। আমাদের ইউনিফর্ম পরা পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে পুলিশ থাকবে। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা থাকবে।

No comments:

Post a Comment