Sunday, April 23, 2017

ধর্ম নিয়ে সোনু নিগমের টুইটে উত্তেজনা, পীরকে হত্যার হুমকি, আজ পোস্ট করেছেন আজান



ভারতের এ সময়ের জনপ্রিয় গায়ক সোনু নিগম হয়তো নিতান্তই বিতর্ক উস্কে দিতে পছন্দ করছেন, না হয় তিনি আলোচনায় (স্পটলাইট) আসতে চাইছেন। অথবা তিনি উভয়টিই চাইছেন। ধর্মীয় অনুষ্ঠানে উচ্চস্বরে মাইক্রোফোন বা মাইক বাজানো নিয়ে তিনি এরই মধ্যে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি করেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় তিনি আজ রোববার সকালে একটি টুইট করেছেন। তাতে তিনি ভোরে আজানের একটি রেকর্ড প্রচার করেছেন। তবে তা কবে কোথা থেকে রেকর্ড করা হয়েছে সে বিষয়ে তিনি কিছু বলেন নি। ভিডিওটি পোস্ট করে শুধু লিখেছেন ‘গুড মর্নিং ইন্ডিয়া’। এ খবর দিয়ে এ রিপোর্টের শুরুতে উল্লেখিত মন্তব্য করেছেন টাইমস অব ইন্ডিয়ায় প্রকাশিত রিপোর্টে সাংবাদিক শৈলজা নীলাকান্ত। ওদিকে অনলাইন বিবিসি খবর দিয়েছে ভারতে সোনু নিগমকে মাথা কামাতে বলা পশ্চিমবঙ্গের একজন পীরকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে বলিউডের গায়ক সোনু নিগম বেশ কিছু টুইট করেন। তাতে তিনি বেশ কিছু তার ভাষায় ‘বিরক্তিকর’ বিষয় নিয়ে মন্তব্য করেন। এতে ধর্ম সংক্রান্ত বিষয় মাইক্রোফোনে উচ্চস্বরে প্রচার করার কথা বলা হয়। তিনি একে ‘ফোর্সড রিলিজিয়াসনেস’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। এর ফলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে বলা হয়, তিনি ধর্মকে অবমাননা করছেন। মুসলিমদের অবমাননা করছেন। অথবা দুটিই করছেন। আবার তিনি সারারাত হিন্দু ধর্মীয় অনুষ্ঠানে উচ্চস্বরে ধর্মীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেছেন মাইক্রোফোনে এ জন্য তার সমালোচনা করছেন।
এখানে তার গত সপ্তাহের কয়েকটি টুইট তুলে ধরা হলো: ‘সৃষ্টিকর্তা সবার প্রতি সদয় হোন। আমি একজন মুসলিম নই। তবুও আমাকে সকালে আজানের শব্দে জেগে যেতে হয়। ভারতে কবে এই চাপিয়ে দেয়া ধর্মীয় (প্রচারণা) শেষ হবে’। এ টুইটটি তিনি ১৭ই এপ্রিল সকাল ৫টা ৫৫ মিনিটে করেন। একটি দিন সকাল ৬টা ১ মিনিটে আরেকটি টুইট করেন। তাতে তিনি বলেতে চেয়েছেন ইসলাম প্রচারের শুরুতে বিদ্যুতেরব্যবহার ছিল না। ‘তাহলে কেন এখন আমাকে এই শ্রুতিকটু (ক্যাকোফোনি) শুনতে হবে?’ এদিন সকাল ৬টা ৬ মিনিটে তিনি আরেকটি টুইট করেন। তাতে লিখেছেন,  ‘যেসব মানুষ ধর্ম অনুসরণ করে না তাদেরকে জাগাতে কোনো মন্দির বা গুরুদুয়ারে বিুদ্যত ব্যবহার করা হোক এমনটা আমি চাই না।  তাহলে কেন...? সততা? সত্যি?’ শেষ টুইটে তিনি এ ধরনের উচ্চশব্দে প্রচারণাকে স্রেফ দস্যুপনা (থাগারি) বলে আখ্যায়িত করেন। এর ফলে উত্তেজনা দেখা দেয়। উচ্চস্বরে ধর্মীয় বাণী প্রচার ও আজানের সমালোচনা করায় সোনু নিগমের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়। পুলিশ এ অভিযোগ যাচাই বাছাই করছে। বৃহস্পতিবার আওরঙ্গাবাদের মারাথওয়াদা’য় পুলিশ স্টেশনে ওই অভিযোগ জমা দিয়েছেন স্থানীয় একটি ধর্মীয় সংগঠনের প্রধান নাদিম রানা। আওরঙ্গাবাদের কমিশনার অব পুলিশ অমিতেষ কুমার বলেছেন, ওই শিল্পীর বিরুদ্ধে আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তবে এক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের অভিযোগ নিবন্ধিত করা হয় নি। সোনু নিগমের বিরুদ্ধে জিনসি পুলিশ স্টেশনে গিয়ে ওই অভিযোগ জমা দেন নাদিম রানা। ওদিকে সাংবাদিক অমিতাভ ভট্টশালী বিবিসিতে লিখেছেন, ভারতে বলিউডের জনপ্রিয় গায়ক সোনু নিগমকে ‘মাথা ন্যাড়া করে গলায় জুতোর মালা পরানোর' চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের যে মুসলমান নেতা, সেই পীরকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। পুুলিশের কাছে ই-মেল পাঠিয়ে ইতিমধ্যেই অভিযোগ জানিয়েছেন ওই পীর, সৈয়দ শাহ আতিফ আলি আল-কাদরি। মাইকে আজানের শব্দে বিরক্তি প্রকাশ করে গায়ক সোনু নিগম যে বিতর্কিত টুইট করেছিলেন কয়েকদিন আগে, তারপরে আল কাদরি বলেছিলেন - ‘সোনু নিগমকে যে মাথা ন্যাড়া করিয়ে গলায় ছেঁড়া জুতোর মালা পরিয়ে সারা দেশের সব নাগরিকের বাড়িতে ঘোরাতে পারবে, তাকে তিনি দশ লাখ রুপি পুরষ্কার দেবেন।’ ওই ঘোষণার পরে সোনু নিগম নিজেই মাথা ন্যাড়া করে বলেছিলেন, পীর সাহেব যেন ইনামের টাকাটা তৈরী রাখেন। তবে তখন আল কাদরি জানিয়েছিলেন, তিনটি শর্ত পূরণ না করলে ঘোষিত দশ লাখ টাকার পুরষ্কার দেবেন না। মি. কাদরি বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, ‘আমি শ্বশুরবাড়ি থাকাকালীন একটা এসএমএস আসে। সোনু নিগমের বিরুদ্ধে আমি কেন কথা বলেছি, সেই প্রশ্ন তুলে পরিবার সহ আমাকে গুলি করে ঝাঁঝরা করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এসএমএসটা আসার পরেই আমি ওই নম্বরে ফোন করি। প্রথমে কেউ ধরে নি, তারপর যতবারই চেষ্টা করেছি ফোন করতে ততবারই নট রিচেবল জানিয়েছে। কমিশনারের কাছে ইমেল করেছি ঘটনাটা জানিয়ে।’ পুলিশের কাছে যে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন মি. আল কাদরি, তার সঙ্গেই জমা দিয়েছেন হুমকির এসএমএসটিও। রোমান হরফে হিন্দি ভাষায় লেখা হয়েছে ওই এসএমএসটি। একটি প্রচলিত গালি দিয়ে এসএমএস শুরু হয়েছে। তাতে লেখা হয়েছে, ‘হিন্দুস্তানের গর্ব সোনু নিগমের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস তোর হলো কী করে? শোন কাদরি, এরপরে যদি সোনুর বিরুদ্ধে একটা কথাও বলিস তাহলে তোকে আর তোর পরিবারকে বন্দুকের গুলিতে ঝাঁঝরা করে দেব। কারও বাবা তোকে বাঁচাতে পারবে না।’ মি. কাদরি বলছেন, ওই হুমকির পরে তার স্ত্রী, শিশু সন্তান এবং শ্বশুরবাড়ির লোকজনও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। কলকাতা পুলিশের জয়েন্ট কমিশনার বিশাল গর্গ বলছেন, ইমেলে পাঠানো অভিযোগটি তার হাতে এখনও পৌঁছয় নি। কিন্তু অভিযোগ এলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চয়ই নেওয়া হবে।

No comments:

Post a Comment