
রামপাল
কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৬০ বছরে ৩ কোটি ৮০ লাখ টন ছাই বের হবে।
ছাইয়ের দূষণে বছরে ১০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ টাকার মাছ মারা যাবে। আজ বুধবার
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সেমিনারে যুক্তরাষ্ট্রের
দূষণ বিশেষজ্ঞ এ ডেনিস লেমনির রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের কয়লার ছাইয়ের দূষণ
নিয়ে করা এক গবেষণায় এসব তথ্য তলে ধরেন। সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির এ
সেমিনারের আয়োজন করেন। সেমিনারে দেশের শীর্ষ স্থানীয় জ্বালানি ও প্রাণী
বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। স্কাইপের মাধ্যমে সেমিনারে তুলে ধরা ওই গবেষণার ফলাফলে
দেখা যায়, রামপাল থেকে বের হওয়া ছাইয়ের মধ্যে ১ কোটি ৮০ লাখ টন ছাই
বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হবে। বাকি দুই কোটি টন ছাই পুকুর বানিয়ে সেখানে ফেলা
হবে। যা যেকোনো সময় ঝড় বা বন্যার কবলে পড়ে পুরো সুন্দরবন এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে
পারে। এতে খুলনা থেকে সুন্দরবন পর্যন্ত মারাত্মক পরিবেশগত বিপর্যয় দেখা
দিতে পারে। ডেনিস লেমনি বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রটি থেকে বর্জ্য হিসেবে যে ছাই
বের হবে, তাতে আর্সেনিক, ক্রোমিয়াম, ক্যাডমিয়াম, লেড বা সিসা, পারদ,
সেলিনিয়াম ও থেলিয়ামসহ বেশ কিছু বিষাক্ত ভারী ধাতু বের হবে। যা সুন্দরবনের
প্রতিবেশ-ব্যবস্থায় প্রবেশ করে দীর্ঘমেয়াদি দূষণ তৈরি করবে। সেমিনারে
সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির সভাপতি সুলতানা কামাল বলেন, আজ রামপাল
বিদ্যুৎকেন্দ্র হলে কাল থেকে তার প্রভাব দৃশ্যমান হবে তেমনটা নয়। এর প্রভাব
পড়বে দীর্ঘ মেয়াদে। সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক আবুল বাশার,
উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক আবদুল আজিজ, জাতীয় কমিটির শরিফ জামিল,
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন। বাংলাদেশ পরিবেশ
আন্দোলন (বাপা) সাধারণ সম্পাদক আবদুল মতিন সেমিনারের সঞ্চালনা করেন।
No comments:
Post a Comment