Sunday, May 21, 2017

নরসিংদীতে ‘জঙ্গি আস্তানা’: পাঁচ তরুণের আত্মসমর্পণ

নরসিংদীতে ‘জঙ্গি আস্তানা’ সন্দেহে ঘিরে রাখা বাড়ির ভেতর থেকে চার তরুণ বাইরে বেরিয়ে এসে আত্মসমর্পণ করেছে। আজ সকালে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর আত্মসমর্পণের আহ্বানে সাড়া দিয়ে তারা বেরিয়ে আসে। রোববার সকালে র‌্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান পাঁচ জনের আত্মসমর্পণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে ভেতরে কোনো বিস্ফোরক বা আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে তিনি কিছু জানাননি।
আজ সকাল ১০টার কিছু পরে চার তরুণ আত্মসমর্পণের পর মাইক্রোবাসে করে তাদের নিয়ে যায় র‌্যাব। পরবর্তীতে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হবে বলে র‌্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।
শনিবার বিকালে র‌্যাব-১১ এর একটি দল জেলার শহরতলীর গাবতলী এলাকার ওই বাড়িটি ঘিরে রাখে। র‌্যাব-১১ এর সিনিয়র এএসপি আলেক উদ্দিন গতকাল বলেন, জঙ্গি সন্দেহে ওই বাড়িটি আমরা বিকাল চারটা থেকে ঘিরে রেখেছি। আমরা সন্দেহ করছি, বাড়িটিতে জঙ্গি রয়েছে। ঢাকা থেকে র‌্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও নারায়ণগঞ্জ র‌্যাব-১১ এর অধিনায়ক ঘটনাস্থলে এসেছেন। তারা আসার পর অভিযানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। বাড়ির ভেতরে কতজন সন্দেহভাজন জঙ্গি আছে তা এখনও নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।
র‌্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান রাত সোয়া ৮টার দিকে সাংবাদিকদের বলেন, বাড়ির ভিতরে পাঁচ থেকে ছয়জন জঙ্গি আছে বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছি। আমরা প্রাথমিকভাবে তাদের আত্মসমর্পণ করতে বলব। পর্যায়ক্রমে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এ কে এম ফয়জুল হক জানান, অভিযানের সুবিধার্থে ঘটনাস্থলের চারপাশে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।
রাত সাড়ে ১০টার দিকে এক ব্যক্তি স্থানীয় এক গণমাধ্যমকর্মীর মুঠোফোন নম্বরে ফোন দিয়ে জানায়, তার নাম মাসুদুর রহমান। সে স্থানীয় জামেয়া কাশেমিয়া মাদ্রাসার দশম শ্রেণির ছাত্র। সেসহ বাড়িটিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র সালাউদ্দিন, নরসিংদী সরকারি কলেজের ছাত্র আবু জাফর, একই কলেজের ছাত্র বাছিরুল ইসলাম, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্র মসিউর রহমান আটকা পড়েছেন। ঘটনাস্থলে থাকা আজহার ইবনে মাহফুজ নামের এক ব্যক্তি জানান, গণমাধ্যমকর্মীকে ফোন দেওয়া মাসুদুর রহমান তার শ্যালক। মাসুদুর রহমান ওই বাড়িতে জাফর নামের এক শিক্ষকের কাছে ইংরেজি বিষয়ে প্রাইভেট পড়তে গিয়েছিল। জাফর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র।
এ বিষয়ে র‌্যাব কর্মকর্তা মুফতি মাহামুদ বলেন, ওই ব্যক্তির দাবি বিশ্লেষণ করে দেখা হচ্ছে। অভিযান চালানোর বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
গত কয়েক মাস আগে বাড়িটি ভাড়া নেয় সন্দেহভাজনরা। তবে তাদের পরিচয় সম্পর্কে এখনও মুখ খুলছেন না সেখানে থাকা আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা। নরসিংদীর পুলিশ সুপার আমেনা বেগম বলেন, অভিযানটি র‌্যাবের। আমরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। আমাদের পুলিশ সদস্যরাও সেখানে রয়েছেন

No comments:

Post a Comment